আজকের দিন তারিখ ২৪ অক্টোবর, ২০১৮ ইং, বুধবার, ৯ কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৪ সফর, ১৪৪০ হিজরী, সকাল ১০:০০
সর্বশেষ সংবাদ
অর্থনীতি, জাতীয় পুঁজি সংকটে এবার চামড়া ব্যবসায়ীরা

পুঁজি সংকটে এবার চামড়া ব্যবসায়ীরা


পোস্ট করেছেন: ঢাকা টেলিগ্রাফ | প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ২৫, ২০১৭ , ৬:৫৯ অপরাহ্ণ | বিভাগ: অর্থনীতি,জাতীয়


কোরবানি ঈদ আর কয়েকদিন বাঁকি। চামড়া সংগ্রহের বড় মৌসুম। কিন্তু আনন্দের ছাপ নেই চামড়া ব্যবসায়ীদের চোখেমুখে। গত দুই মৌসুমে চামড়া বিক্রির অর্থ বাকি পড়ে আছে ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে। তাই চরম পুঁজি সংকটে রাজশাহী জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের ১৩৫ জন চামড়া ব্যবসায়ী। 

রাজশাহী জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, চামড়া কেনার ক্ষেত্রে সরকার থেকে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। লবন মাখানোর গরুর চামড়া ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। ছাগলের ক্ষেত্রে ২০ থেকে ২৫ টাকা প্রতি বর্গফুট। কিন্তু কোরবানির সময় মৌসুমি ব্যবসায়ীদের একটি প্রভাব থাকে। সে কারণে দামের পারদটা কিছুটা উপরে উঠে। মৌসুমি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চামড়া কিনতে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন। কিন্তু ব্যবসায়ীদের হাতে সেই অর্থ নেই। বেশিরভাগ ব্যবসায়ীদের টাকা গত দুই মৌসুম থেকে আটকা পড়ে আছে ট্যানারি মালিকদের কাছে।

পাশাপাশি বাজারে লবণের দাম চড়া। প্রতি বস্তা লবন এক হাজার ৩০০ টাকা থেকে এক হাজার ৪০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। চামড়া সংরক্ষণ ব্যয়, শ্রমিকের মজুরি এবং পরিবহন খরচও বাড়ছে। সব মিলিয়ে খুব ভালো অবস্থায় নেই চামড়া ব্যবসায়ীরা।

রাজশাহী জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রউফ জানান, চামড়া বিক্রির পর এখনও পর্যন্ত তাদের বহু টাকা আটকে রেখেছে ট্যানারি মালিকরা।

ঢাকায় ট্যানারি স্থানন্তরের বিষয়টি অজুহাত হিসেবে দেখচ্ছেন তারা। গত দুই মৌসুমের টাকা আটকে থাকার কারণে কমে গেছে তাদের পুঁজি। অল্প পুঁজি নিয়ে কোরবানির বাজারে চামড়া কেনা অনেক কঠিন একটি কাজ।

আবদুর রউফ আরো জানান, চারিদিকে বন্যা পরিস্থিতির কারণে রাজশাহীতে পশু কোরবানির সংখ্যা এবারে কমে আসবে। রাজশাহীতে প্রতি কোরবানি ঈদে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার গরু-মহিষ ও প্রায় দেড় লাখ থেকে এক লাখ ৭৫ হাজার ছাগল-ভেড়া কোরবানি হয়ে থাকে। কিন্তু এবারে সংখ্যাটা গরু-মহিষের ক্ষেত্রে ৫০ থেকে ৬০ হাজার ও ছাগল-ভেড়ার ক্ষেত্রে এক লাখ থেকে এক লাখ ২০ হাজারে নেমে আসবে। পশুর সংখ্যা কমে যাওয়ায় মৌসুমি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা বাড়বে।

রাজশাহীর চামড়া ব্যবসায়ীদের এ সংগঠনটির সভাপতি আসাদুজ্জামান মাসুদ জানান, একটি গরুর চামড়া কেনার পরে প্রক্রিয়াজাত করতেই তাদের ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা খরচ হয়ে থাকে। প্রতি বছর এ খরচ বাড়ে। তাছাড়া চামড়াগুলো কিনে নাটোর চামড়া আড়তে নিয়ে যেতে হয়। সেখানেও পরিবহন খরচ দিনে দিনে বাড়ছে। গত দুই মৌসুমের ৭০ থেকে ৭৫ ভাগ অর্থ ট্যানারি মালিকদের কাছে আটকে আছে। সব মিলিয়ে চরম সংকটে আছে চামড়া ব্যবসায়ীরা।

তিনি আরো বলেন, বকেয়া অর্থ পরিশোধের জন্য ট্যানারি মালিকদের বারবার অনুরোধ করা হয়েছে। কোরবানি কাছে চলে আসলেও তাদের পক্ষ থেকে সাড়া নেই। এতে চরম অসহায় হয়ে পড়েছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা।

আপনাদের মতামত প্রকাশ করুন