আজকের দিন তারিখ ২৪ অক্টোবর, ২০১৮ ইং, বুধবার, ৯ কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৪ সফর, ১৪৪০ হিজরী, সকাল ১০:০১
সর্বশেষ সংবাদ
অর্থনীতি ঝালকাঠির রাজাপুরে সুপারির বাম্পার ফলন

ঝালকাঠির রাজাপুরে সুপারির বাম্পার ফলন


পোস্ট করেছেন: ঢাকা টেলিগ্রাফ | প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৭ , ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: অর্থনীতি


রেজাউল ইসলাম ফরাজী ঝালকাঠি প্রতিনিধি: গ্রাম বাংলায় আপ্যায়নের জন্য যত উপাদান থাকুক না কেন তার সাথে পান-সুপারি থাকবেই। বাংলায় অতিথি আপ্যায়নে পান-সুপারির জুড়ি নেই। প্রতিবেশীরা আসলে তাঁদেরকেও পান-সুপারির আপ্যায়ন করতে ভুল করেন না কেহই।

পান বিলাসীদের কাছে সুপারি একটি অতি প্রয়োজনীয় ফল। সুপারি ফলটি বাংলাদেশের প্রয় সব জেলায় আবাদ হলেও বরিশাল ও খুলনা বিভাগে বেশী জন্মে। একবার এ গাছ লাগালে তেমন কোন পরিচর্যা ছাড়াই ৩৫-৪০বছর ফল দেয়। এ অঞ্চলের কৃষকরা সুপারী চাষের দিকে বেশী আগ্রহী বহু বছর ধরে। তা ছাড়া সুপারী বাগানে অনায়াশে লেবু সহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা যায়।

ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা এখন প্রতিদিনই বসে সুপারি ক্রয়-বিক্রয়ের হাট। রাজাপুরের ৫৫টি গ্রামে এবার সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে। স্থানীয় হাটগুলোতে এ বছর সুপারির দামও ভাল। ফলন ও দাম ভাল পাওয়ায় এলাকার চাষীরা খুশি। রাজাপুরের উৎপাদিত সুপারি জেলার চাহিদা মিটিয়ে পাঠানো হচ্ছে দেশের নানা প্রান্তে। এমনকি রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও।

সরেজমিনে রাজাপুর উপজেলার গালুয়ার ইউনিয়নের সুপারী কেনাবেচার বিভিন্ন হাটে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিদিন এ হাটেগুলোতে জেলা ও জেলার বাইরে থেকে ভীড় জমাচ্ছেন শত শত পাইকার। পাইকাররা এখান থেকে সুপারী কিনে মজুদদারদের কাছে বেশী দামে বিক্রি করে থাকেন। স্থানীয় বাজারগুলো থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকাররা এসে সুপারি কিনে নিচ্ছেন। তাদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্নস্থানে চলে যাচ্ছে রাজাপুরের সুপারি।

দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে রাজাপুরের সুপারির সুখ্যাতি থাকায় পাইকারদের হাত ঘুরে বড়জাতের সুপারি দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

চট্রগ্রাম থেকে সুপারি কিনতে আসা পাইকার গিয়াস করিম বলেন, আমরা এখান থেকে সুপারি কিনে চট্টগ্রাম নিয়ে যাই। সেখানে গিয়ে আড়তে সুপারির বাছাই করে বড় সাইজগুলো বিদেশে রপ্তানির জন্য মজুদ করি।

রাজাপুর উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর রাজাপুর উপজেলার ৫৫টি গ্রামের প্রায় ৩ শত হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা সুপারির বাগানে বাম্পার ফলন হয়েছে। গত কয়েক বছরের মধ্যে এ বছর সবচেয়ে বেশি ফলন হয়েছে বলে বলছেন কৃষি বিভাগ। বর্তমানে স্থানীয় বাজারগুলোতে সুপারির দামও বেশ ভাল থাকায় সুপারি চষিরা বেশ লাভবান হচ্ছেন। বাজারগুলোতে স্থানীয় হিসাব মতে প্রতি শত (১০৫০টি সুপারিতে একশত) ভাল মানের সুপারির মূল্য হাজার টাকা থেকে পনের শত টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।

রাজাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিয়াজ উল্লাহ বাহাদুর বলেন, এবছর আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাত সুপারি চাষের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় এ অঞ্চলে সুপারির ফলন অত্যাধিক ভাল হয়েছে। যা দেখে এলাকার মানুষ সুপারি চাষে আরো উৎসাহী হবেন। সুপারি বাগান মালিকরা প্রতি বছরই সুপারি বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন।

ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শেখ আবুবকর সিদ্দিক জানিয়েছেন, জেলায় ৫০০ হেক্টর জমিতে সুপারীর বাগান রয়েছে। লাভজনক বিধায় এ ফসলটি গ্রমীন অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখছে।

আপনাদের মতামত প্রকাশ করুন