আজকের দিন তারিখ ২৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ইং, মঙ্গলবার, ১০ মাঘ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ৫ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী, বিকাল ৩:৪৩
সর্বশেষ সংবাদ
খেলাধুলা, জাতীয়, প্রধান সংবাদ গেইল তাণ্ডবে রংপুর রাইডার্সের শিরোপা জয়

গেইল তাণ্ডবে রংপুর রাইডার্সের শিরোপা জয়


পোস্ট করেছেন: ঢাকা টেলিগ্রাফ | প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ১২, ২০১৭ , ৯:৪৫ অপরাহ্ণ | বিভাগ: খেলাধুলা,জাতীয়,প্রধান সংবাদ


ঢাকা টেলিগ্রাফ: বিপিএল পেলো নতুন এক চ্যাম্পিয়ন। আর ‘ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাসটিক’ মাশরাফি পেলেন পাঁচবারের আসরে চতুর্থ শিরোপার স্বাদ। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি আসর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে (বিপিএল) শিরোপার গৌরব কুড়ালো রংপুর রাইডার্স। গতকাল আসরের একপেশে ফাইনালে ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে ৫৭ রানে জয় কুড়ায় গেইল-মাশরাফিরা ।

মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুর জাতীয় স্টেডিয়ামে বিপিএল ফাইনালে সবচেয়ে বড় রানের ব্যবধানে হারজিতের রেকর্ড এটি। ক্যারিবীয় ওপেনার ক্রিস গেইলের বিস্ফোরক সেঞ্চুরিতে এক উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ২০৬ রান।

জবাবে ১৪৯/৯ সংগ্রহ নিয়ে ইনিংস শেষ করে ঢাকা ডায়নামাইটস। রংপুর রাইডার্সের নিয়মিত ৬ বোলারের প্রত্যেকেই পান উইকেট সাফল্য। দুটি করে উইকেট নেন সোহাগ গাজী, নাজমুল ইসলাম অপু ও লঙ্কান বাঁ-হাতি পেসার ইসুরু উদানা। একটি করে উইকেট পান মাশরাফি, রুবেল ও রংপুর রাইডার্সের ভারতীয় বংশোদ্ভূত ইংলিশ মিডিয়াম পেসার রবি বোপারা। কেবল ইনিংসের একবারে শেষ ওভারে বল হাতে উইকেটশূন্য থাকেন ক্রিস গেইল।

গেইল তাণ্ডবে গেইল তাণ্ডবে গেইল তাণ্ডবে

ফাইনালের মত ম্যাচেও যখন গেইলের ব্যাট এতটা বিধ্বংসী হয়ে ওঠে, তখন প্রতিপক্ষ দলের কিছু করার থাকে না। কিছু করতে পারেনি ঢাকা ডায়নামাইটসও। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দল নিয়েও একা এক গেইলের ব্যাটিং তাণ্ডবের কাছে হেরে যেতে হলো সাকিব আল হাসানের দল ঢাকা ডায়নামাইটসকে। সে সঙ্গে রংপুর রাইডার্সের প্রথম এবং চতুর্থবারেরমত বিপিএলের শিরোপা উঠে গেলো মাশরাফি বিন মর্তুজার হাতে।

গেইল তাণ্ডবে রংপুর রাইডার্সের রান উঠল ২০৬ রান। জয়ের জন্য ২০৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ১৪৯ রানেই থমকে যেতে হলো গত আসরের চ্যাম্পিয়ন ঢাকা ডায়নামাইটসকে। ফাইনালের মত ম্যাচে ৫৭ রানের বিশাল ব্যবধানে মাশরাফির কাছে হারতে হলো সাকিব আল হাসানকে। ফলে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয় করা হলো না সাকিবের। অন্যদিকে গত আসর বাদ দিয়ে বিপিএলটা হয়ে থাকল একা মাশরাফিরই। ঢাকাকে দু’বার, কুমিল্লাকে একবার এবং সর্বশেষ এবার রংপুরকে শিরোপা উপহার দিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা।

গেইল তাণ্ডবে ২০৬ রানের বিশাল স্কোরের নিচে চাপা পড়ার পর ঢাকার পরাজয় অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায়। এতবড় রানের চাপে পড়ে মানসিকভাবে হেরে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। তার ওপর ম্যাচটা যদি হয় ফাইনাল, তাহলে তো কথাই নেই। তেমনই অবস্থা হলো ঢাকা ডায়নামাইটসের। ২০৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে নিশ্চিত পরাজয়ের মুখে সাকিব আল হাসানের ঢাকা ডায়নামাইটস। সে সঙ্গে প্রথমবারেরমত বিপিএলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে মাশরাফি বিন মর্তুজার রংপুর রাইডার্স।

২০৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই মাশরাফি বিন মর্তুজার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে গেলেন ঢাকার ওপেনার মেহেদী মারূফ। মারকুটে ব্যাটসম্যান জো ড্যানলি মাঠে নেমে ঝড় তোলার অপেক্ষায় ছিলেন; কিন্তু তার সেই অপেক্ষা আর কাজে লাগেনি। সোহাগ গাজীর ঘূর্ণিতে স্কুপ করতে গিয়ে নাহিদুল ইসলামের হাতে ধরা পড়েন তিনি। রানের খাতা তখন শূন্য।

এভিন লুইসের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল ছিল ঢাকা। তিনিও ১টি ছক্কা এবং ২ বাউন্ডারির সাহায্যে ১৫ রান করার পরই সোহাগ গাজীর বলে আকাশে ক্যাচ তুলে দিয়ে মাশরাফির হাতে ধরা পড়েন। অসাধারণ একটি ক্যাচ ধরেন মাশরাফি। বল খেলেন তিনি ৯টি। কাইরণ পোলার্ড বেশ কয়েকটি ম্যাচে বিধ্বংসী ব্যাটিং করে জিতিয়েছেন ঢাকাকে। তিনি এলেন উইকেটে। দেখলেন রংপুরের বোলারদের। কিন্তু জয় করতে পারলেন না। ৫ বলে ৫ রান করার পর রুবেলের বাউন্সি বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে লং লেগে ক্রিস গেইলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান।

জুটি বাধার চেষ্টা করেন সাকিব আল হাসান এবং জহুরুল ইসলাম। দু’জনের ৪২ রানের জুটির ওপর প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছিল ঢাকা। কিন্তু নাজমুল ইসলাম অপুর বলে সুইপ করতে যান সাকিব আল হাসান। কিন্তু ব্যাটে-বলে করতে পারেননি তিনি। বল সোজা গিয়ে ভেঙে দেয় তার লেগ স্ট্যাম্প। সঙ্গে সঙ্গে ‘ভাইপার’ ড্যান্সে মেতে ওঠেন নাজমুল অপু। ১৬ বলে ২৬ রান করে আউট হয়ে যান ঢাকার অধিনায়ক। ৩টি বাউন্ডারি এবং ১টি ছক্কার মার ছিল তার ইনিংসে।

রবি বোপারার বলে মাত্র ১ রান করে বোল্ড হয়ে ফিরে যান ঢাকার আরেক নির্ভরতা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। শহিদ আফ্রিদিকে আজ মাঠে নামানো হয় শেষ দিকে যেন ঝড় তুলতে পারেন সে জন্য। তিনিও আজ যোগ দিলেন ব্যর্থতার মিছিলে। মাঠে নামার পর একটি ছক্কা মেরেছিলেন ঠিক। কিন্তু ৫ বলে ৮ রান করে আউট হন নাজমুল অপুর বলে। রুবেলে হোসেন ক্যাচটি ধরার সঙ্গে সঙ্গে আবারও ‘ভাইপার’ ড্যান্সে মেতে ওঠেন নাজমুল অপু।

অষ্টম উইকেট জুটিতে সুনিল নারিন আর জহুরুল ইসলাম অমি মিলে ৪২ রানের জুটি গড়েন। ওপেনিংয়ে নেমে নারিন যেভাবে তাণ্ডব তুলতে পারেন, নয় নম্বরে নেমে সেভাবে তুলতে পারলেন না। ১৫ বলে ১৪ রান করে অবশেষে শ্রীলঙ্কান ইসুরু উদানার বলে বোল্ড হয়ে ফিরে গেলেন সাজঘরে।

আপনাদের মতামত প্রকাশ করুন