আজকের দিন তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং, সোমবার, ৯ আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৩ মুহাররম, ১৪৪০ হিজরী, রাত ১০:২২
সর্বশেষ সংবাদ
অর্থনীতি, জাতীয়, প্রধান সংবাদ গৃহায়নখাতে ৯ কোটি ৪৭ লাখ ইউরো ঋণ দিবে আইডিবি

গৃহায়নখাতে ৯ কোটি ৪৭ লাখ ইউরো ঋণ দিবে আইডিবি


পোস্ট করেছেন: ঢাকা টেলিগ্রাফ | প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ৪, ২০১৮ , ৮:৪৮ অপরাহ্ণ | বিভাগ: অর্থনীতি,জাতীয়,প্রধান সংবাদ


বাংলাদেশের গৃহায়নখাতের উন্নয়নে ৯ কোটি ৪৭ লাখ ইউরো ঋণ দিচ্ছে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি)। বাংলাদেশী টাকায় যার পরিমান এক হাজার কোটি টাকা।

গত মঙ্গলবার তিউনিসিয়ায় এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে বলে অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং আইডিবি’র প্রেসিডেন্ট বন্দর এমএইচ হাজ্জার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

এসময় ইআরডি সচিব শফিকুল ইসলামসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অর্থমন্ত্রী বর্তমানে আইডিবি’র বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে তিউনিসিয়ায় অবস্থান করছেন। জেদ্দা ভিত্তিক ব্যাংকটি ‘বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনকে (বিএইচবিএফসি) এই ঋণ দেবে।

গত বছর জুলাই মাসে জেদ্দায় অনুষ্ঠিত বোর্ডের নির্বাহী পরিচালকদের সভায় এই ঋণ অনুমোদন করা হয়। বাংলাদেশের শহর ও গ্রামীন এলাকার আবাস উন্নয়নে এ অর্থ ব্যয় হবে। প্রকল্পটির নামকরণ করা হয়েছে-রুরাল অ্যান্ড পেরি আরবান হাউজিং ফাইন্যান্স’।

এদিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের গৃহায়নখাতে একমাত্র সরকারি মালিকানাধীন বিএইচবিএফসিকে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে একটি শর্ত আরোপ করেছে আইডিবি। শর্তটি হচ্ছে-এই ঋণের বিপরীতে সরকারকে গ্যারান্টি দিতে হবে। বিএইচবিএফসি’র পক্ষ থেকে শহর ও গ্রামীণ এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য ‘রুরাল অ্যান্ড আরবান হাউজিং প্রজেক্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় আইডিবি’র কাছ থেকে এই অর্থ ঋণ হিসেবে নেওয়া হচ্ছে।

বিএইচবিএফসি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পটির মোট আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ কোটি ৫৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার। এর মধ্যে প্রায় ১০ কোটি ডলার( ৯ কোটি ৪৭ লাখ ইউরো) আইডিবি’র কাছ থেকে পাওয়া যাবে। এবং বাকি অর্থ বিএইচবিএফসি’র নিজস্ব তহবিল থেকে সংকুলান করা হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে শহর ও পল্লী এলাকায় আগামী ৫ বছরে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য গ্রাহকদের মাঝে ঋণ বিতরণ করা হবে।

আইডিবি’র ১০ কোটি ডলার ঋণ ১৫ বছরে পরিশোধ করতে হবে। তবে এর মধ্যে গ্রেস পিরিওড থাকবে ৫ বছর। এই গ্রেস পিরিওডের জন্য সুদ প্রদান করতে হবে। ঋণের সুদের হারের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে,‘গ্রেস পিরিওড মার্ক-আপ ১.৫৫% + ছয়মাসিক লাইবর (লন্ডন ইন্টার ব্যাংক লেন্ডিং রেট) এবং গ্রেস পিরিওড পরবর্তী সময় জন্য সুদের হার হবে মার্ক-আপ ১.৫৫%+ সোয়াপ (এসডবিউপি) রেট-(যা বর্তমানে ১.৭% রয়েছে)। সর্বসাকুল্য এই ঋণের সুদের হার হবে ২ দশমিক ২৭ শতাংশ।

বিএইচবিএফসি এই ঋণ গ্রাহকদের কাছে ১০ শতাংশ সুদে প্রদান করবে এবং তা ৫ বছরের মধ্যে গ্রাহককে পরিশোধ করতে হবে।

এদিকে, বিএইচবিএফসি’র এই ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে কীনা তা বিশ্লেষণ করে অর্থ বিভাগের ট্রেজারি বিভাগ থেকে প্রতিষ্ঠানটির ওপর একটি বিশ্লেষণ করেছে। এতে বলা হয়েছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছর পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ঋণের স্থিতির পরিমান ছিল প্রায় দুইহাজার ৭৩৮ কোটি টাকা। যার মধ্যে শ্রেণিবিন্যাসিত ঋণের পরিমান ছিল প্রায় ২০৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। যা প্রদত্ত ঋণের প্রায় ৭ দশমিক ৫২ ভাগ। ২০১৪-১৫ অর্থবছর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির মূলধন ও সঞ্চিতির পরিমান ছিল প্রায় একহাজার ৭৯৪ কোটি টাকা।

এ হিসেবে প্রদত্ত ঋণের স্থিতি এবং মূলধন ও সঞ্চিতির অনুপাত প্রায় ১:১.৫৩।

অন্যদিকে, একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য দায়ের পরিমান ছিল ৮১৪ কোটি টাকা। তবে এ পর্যন্ত বিএইচবিএফসি’র দায়ের মধ্যে বৈদেশিক ঋণের কোনো দায় নেই।

আপনাদের মতামত প্রকাশ করুন