বেসিক ব্যাংক দুর্নীতি মামলা: তদন্ত কর্মকর্তাদের তলব

ঢাকা টেলিগ্রাফ: বেসিক ব্যাংক দুর্নীতি মামলাগুলোর সব তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ৩০ মে সব মামলার নথি নিয়ে তাদেরকে হাজির হতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আজ বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

খুরশীদ আলম বলেন, আইন অনুযায়ী ১৮০ দিনের মধ্যে এসব মামলার তদন্ত শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু প্রায় আড়াই বছর হয়ে গেছে। এখনো তদন্ত শেষ হয়নি। এর কারণ ব্যাখ্যার জন্য তাদের তলব করা হয়েছে। বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে ২০১৫ সালের ২১-২৩ সেপ্টেম্বর ১৫৬ জনকে আসামি করে মতিঝিল, পল্টন ও গুলশান থানায় ৫৬টি মামলা করে দুদক।

১৫৬ জন আসামির মধ্যে বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তা ২৬ জন। বাকি ১৩০ জন আসামি ঋণগ্রহীতা ৫৪ প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী ও সার্ভে প্রতিষ্ঠানের। এর মধ্যে ব্যাংকের সাবেক এমডি কাজী ফখরুল ইসলামকে ৪৮টি, ডিএমডি ফজলুস সোবহানকে ৪৭টি, কনক কুমার পুরকায়স্থকে ২৩টি এবং ডিএমডি এ মোনায়েম খানকে ৩৫টি মামলায় আসামি করে দুদক। পরবর্তীতে আরও মামলা হয়। সূত্র: ইত্তেফাক।

DH-RH

কর্মসংস্থান না হলে প্রবৃদ্ধি দিয়ে কী হবে: সিপিডি

বাংলাদেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়ে চললেও তা সত্যিকার অর্থে মানুষের আয় বাড়াচ্ছে না বলে মনে করছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি।

মঙ্গলবার সকালে, রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাজেট প্রস্তাবনায় এ মন্তব্য করেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

সিপিডি বলছে, প্রবৃদ্ধি, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও আয় এই চারটি সূচকের মধ্যে সামঞ্জস্য না হওয়ায় দেশের যে উন্নতির কথা বলা হচ্ছে তার কোনো ইতিবাচক ফল মানুষ পাবে না। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে মঙ্গলবার ‘স্টেট অফ দ্য বাংলাদেশ ইকোনমি ইন ২০১৭-১৮’ শীর্ষক আলোচনায় সিপিডির এই বক্তব্য আসে।

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য বলেন, সরকারের হিসাব থেকে আমরা দেখছি প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। পাশাপাশি আমরা দেখছি, দেশের সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমে গেছে। “প্রবৃদ্ধি দিয়ে তো আমাদের কিছু হবে না। প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে আমরা তর্ক-বিতর্ক করতে পারি, কিন্তু তার চেয়েও বড় বিষয় হচ্ছে, এর ফলাফলটা কী? আসল কথা হচ্ছে কর্মসংস্থান হল কি না, আয় হল কি না।

মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি বৈষম্যও বেড়েছে বলে সিপিডির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

প্রায় এক দশক ৬ শতাংশের বৃত্তে আটকে থাকার পর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ অতিক্রম করে। এরপর গত দুই অর্থবছর ধরেই প্রবৃদ্ধির হার ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। যে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, তাও সরকারি বিনিয়োগের কারণে বলে সিপিডির পর্যবেক্ষণ।

ব্যাংক খাতের অব্যস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য বলেন, ২০১৭ সাল ছিল ব্যাংকিং কেলেঙ্কারির বছর, এবার আমার মনে হয় ব্যাংকিং ব্যবস্থা এতিমে পরিণত হয়েছে। ব্যাংক রক্ষার দায়িত্ব যাদের, তারা এখন ‘এতিমের ওপর অত্যাচার করছেন’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মুদ্রানীতি ঘোষণার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সিআরআর (ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও) কমিয়ে যদি মুদ্রা প্রবাহ বাড়ানোর চেষ্টার সমালোচনাও করেন দেবপ্রিয়। তিনি বলেন, তারল্য ঘাটতির কথা বলে সিআরআর কমানো হচ্ছে। তারল্য ঘাটতি তো হলে একটা রোগের উপসর্গ। এটা তো রোগ না। রোগ হচ্ছে আপনি একটা বিকলাঙ্গ ব্যাংকিং ব্যবস্থা সৃষ্টি করেছেন।

দুর্বল ব্যাংকগুলোকে তুলতে সরকারি উদ্যোগে অর্থ দেয়ার বিরোধিতাও করেন তিনি। “মানুষের করের টাকা দিয়ে এইভাবে ব্যাংকগুলোর দুর্বলতা এবং এখানে যে পরিমাণ দুর্নীতি হচ্ছে, এ জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়াটা ঠিক না।”

এই ধরনের ব্যাংকের জন্য অর্থের অন্য উৎস খোঁজার পরামর্শ দেন তিনি। প্রয়োজনে ব্যাংকগুলোকে একীভূত করার পক্ষেও মত দেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।দেশীয় মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতার জন্য রিজার্ভ ব্যবহারের পক্ষেও মত দেন তিনি।

গৃহায়নখাতে ৯ কোটি ৪৭ লাখ ইউরো ঋণ দিবে আইডিবি

বাংলাদেশের গৃহায়নখাতের উন্নয়নে ৯ কোটি ৪৭ লাখ ইউরো ঋণ দিচ্ছে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি)। বাংলাদেশী টাকায় যার পরিমান এক হাজার কোটি টাকা।

গত মঙ্গলবার তিউনিসিয়ায় এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে বলে অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং আইডিবি’র প্রেসিডেন্ট বন্দর এমএইচ হাজ্জার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

এসময় ইআরডি সচিব শফিকুল ইসলামসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অর্থমন্ত্রী বর্তমানে আইডিবি’র বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে তিউনিসিয়ায় অবস্থান করছেন। জেদ্দা ভিত্তিক ব্যাংকটি ‘বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনকে (বিএইচবিএফসি) এই ঋণ দেবে।

গত বছর জুলাই মাসে জেদ্দায় অনুষ্ঠিত বোর্ডের নির্বাহী পরিচালকদের সভায় এই ঋণ অনুমোদন করা হয়। বাংলাদেশের শহর ও গ্রামীন এলাকার আবাস উন্নয়নে এ অর্থ ব্যয় হবে। প্রকল্পটির নামকরণ করা হয়েছে-রুরাল অ্যান্ড পেরি আরবান হাউজিং ফাইন্যান্স’।

এদিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের গৃহায়নখাতে একমাত্র সরকারি মালিকানাধীন বিএইচবিএফসিকে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে একটি শর্ত আরোপ করেছে আইডিবি। শর্তটি হচ্ছে-এই ঋণের বিপরীতে সরকারকে গ্যারান্টি দিতে হবে। বিএইচবিএফসি’র পক্ষ থেকে শহর ও গ্রামীণ এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য ‘রুরাল অ্যান্ড আরবান হাউজিং প্রজেক্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় আইডিবি’র কাছ থেকে এই অর্থ ঋণ হিসেবে নেওয়া হচ্ছে।

বিএইচবিএফসি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পটির মোট আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ কোটি ৫৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার। এর মধ্যে প্রায় ১০ কোটি ডলার( ৯ কোটি ৪৭ লাখ ইউরো) আইডিবি’র কাছ থেকে পাওয়া যাবে। এবং বাকি অর্থ বিএইচবিএফসি’র নিজস্ব তহবিল থেকে সংকুলান করা হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে শহর ও পল্লী এলাকায় আগামী ৫ বছরে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য গ্রাহকদের মাঝে ঋণ বিতরণ করা হবে।

আইডিবি’র ১০ কোটি ডলার ঋণ ১৫ বছরে পরিশোধ করতে হবে। তবে এর মধ্যে গ্রেস পিরিওড থাকবে ৫ বছর। এই গ্রেস পিরিওডের জন্য সুদ প্রদান করতে হবে। ঋণের সুদের হারের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে,‘গ্রেস পিরিওড মার্ক-আপ ১.৫৫% + ছয়মাসিক লাইবর (লন্ডন ইন্টার ব্যাংক লেন্ডিং রেট) এবং গ্রেস পিরিওড পরবর্তী সময় জন্য সুদের হার হবে মার্ক-আপ ১.৫৫%+ সোয়াপ (এসডবিউপি) রেট-(যা বর্তমানে ১.৭% রয়েছে)। সর্বসাকুল্য এই ঋণের সুদের হার হবে ২ দশমিক ২৭ শতাংশ।

বিএইচবিএফসি এই ঋণ গ্রাহকদের কাছে ১০ শতাংশ সুদে প্রদান করবে এবং তা ৫ বছরের মধ্যে গ্রাহককে পরিশোধ করতে হবে।

এদিকে, বিএইচবিএফসি’র এই ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে কীনা তা বিশ্লেষণ করে অর্থ বিভাগের ট্রেজারি বিভাগ থেকে প্রতিষ্ঠানটির ওপর একটি বিশ্লেষণ করেছে। এতে বলা হয়েছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছর পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ঋণের স্থিতির পরিমান ছিল প্রায় দুইহাজার ৭৩৮ কোটি টাকা। যার মধ্যে শ্রেণিবিন্যাসিত ঋণের পরিমান ছিল প্রায় ২০৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। যা প্রদত্ত ঋণের প্রায় ৭ দশমিক ৫২ ভাগ। ২০১৪-১৫ অর্থবছর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির মূলধন ও সঞ্চিতির পরিমান ছিল প্রায় একহাজার ৭৯৪ কোটি টাকা।

এ হিসেবে প্রদত্ত ঋণের স্থিতি এবং মূলধন ও সঞ্চিতির অনুপাত প্রায় ১:১.৫৩।

অন্যদিকে, একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য দায়ের পরিমান ছিল ৮১৪ কোটি টাকা। তবে এ পর্যন্ত বিএইচবিএফসি’র দায়ের মধ্যে বৈদেশিক ঋণের কোনো দায় নেই।

গুগল, ফেসবুক, ইউটিউবও কর দিবে

সামাজিক মাধ্যম গুগল, ফেসবুক ও ভিডিও আদান-প্রদানের ওয়েবসাইট ইউটিউব করের আওয়ায় আসছে। দেশে অনলাইনে এসব মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রচুর অর্থ আয় করা হচ্ছে। কিন্তু সরকার এ থেকে কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না। অথচ দেশীয় গণমাধ্যম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই অবস্থায় ফেসবুক, ইউটিউব, গুগলকে করের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে এনবিআর বলছে, আগমী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে এদেরকে করের আওতায় আনা হবে।

বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে সংবাদপত্র শিল্প মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এবং অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো) নেতাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ বিষয়ে কথা হয়। এতে বক্তারা ফেসবুক, ইউটিউব, গুগলকে করের আওতায় আনার আহ্বান জানান।

সভায় নোয়াবের সভাপতি মতিউর রহমান বলেন, ইউটিউব-ফেসবুকে অবাধ বিজ্ঞাপনের কারণে রাজস্ববঞ্চিত হতে হচ্ছে। ইউরোপসহ উন্নতবিশ্ব এমনকি ভারতেও এদের ওপর কর আরোপ করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এটা হচ্ছে না।

তিনি বলেন, তারা প্রচুর পরিমাণ অর্থ আয় করে নিয়ে যাচ্ছে। অথচ সরকার কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না। এটা অবশ্যই করের আওতায় আনা উচিত।

সংবাদপত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে নিউজপ্রিন্ট আমদানিতে শুল্ক-কর প্রত্যাহার, কর্পোরেট কর হার হ্রাস, বিজ্ঞাপনের ওপর অগ্রিম আয়কর ও ভ্যাট প্রত্যাহার করতে হবে।

জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, আগামী বাজেটে এর প্রতিফলন থাকবে। এদেশে ইউটিউব ও ফেসবুকের প্লানেস হচ্ছিল এত দিন। প্লানেসের দিন শেষ হয়েছে। এখন তাদের করের আওতায় আনা হবে।

ব্যাংকিং খাতে অদক্ষতায় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি

ঢাকা টেলিগ্রাফ: অদক্ষতার কারণে দেশের ব্যাংকিং খাতে বছরে জিডিপির প্রায় ১ শতাংশ ক্ষতি হচ্ছে, জানিয়েছে সানেম। এই ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা।

বুধবার সকালে, রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে অর্থনীতির ত্রৈমাসিক পর্যালোচনা নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের এসব তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।

সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান জানিয়েছেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে এখন খেলাপি ঋণের প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশের ওপরে।

এছাড়াও অনাদায়ী ঋণ ছাড়িয়েছে ৮০ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারায় এসব সমস্যা প্রকট হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

যা কাটিয়ে ওঠা না গেলে সিআরআর কমিয়ে কিংবা সরকারি প্রতিষ্ঠানের তহবিলের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রেখে সমস্যা দূর করা যাবে না।

সবখাতে গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছে সরকার

আবাসিক ও বাণ্যিজিক খাত ছাড়া সার ও বিদ্যুৎসহ অন্যান্য সবখাতে গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছে সরকার।

আমদানি করা এলএনজির দাম পুষিয়ে নিতেই এ সিদ্ধান্ত। বিতরণ কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব জমা দিয়েছে নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বিইআরসির কাছে। বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনে পৌনে চার’শ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

এখনো দেশের জ্বালানি খাতের সিংহভাগের জোগানদার দেশীয় গ্যাস। কিন্তু চাহিদার বাড়ার কারণে ক্রমাগত বাড়ছে গ্যাস সংকট। গ্রাসের এই সংকট মেটাতে এ মাস থেকেই শুরু হচ্ছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস-বা এলএনজি আমদানি। চলতি মাসের শেষ থেকেই মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন যুক্ত হবে ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস।

পেট্রোবাংলার হিসেবে প্রতিঘনমিটার গ্যাসের আমদানি দাম পড়বে ২৫ টাকার বেশি। ব্যাংক চার্জ, রি-গ্যসিফিকেশন, বাপেক্সের হিস্যা সহ বিভিন্ন খরচ ও শুল্ক মিলিয়ে যোগ হবে আরো ১০ টাকার মত। আর বর্তমানে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের গড় দাম ৭ টাকা ৩৯ পয়সা। লোকসান থামাতে তাই দাম বাড়ানোর বিকল্প দেখছেনা সরকার। সামনে গ্যাসের বাজার আরো বড় হবে বলে মনে করছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কোম্পানি বিইআরসি’র কাছে পাঠানো প্রস্তাবে, বিদ্যুত খাতের প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের বর্তমান দাম ৩ টাকা ১৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ধরা হয়েছে ১০ টাকা। সার উৎপাদনে ২ টাকা ৭১ পয়সার গ্যাস ধরা হয়েছে ১২ টাকা ৮০ পয়সা। শিল্প খাতের পৌনে ৮ টাকার গ্যাসের দাম প্রস্তাব করা হয়েছে ১৫ টাকা। আর ৮টি বিতরণ খাত মিলিয়ে গ্যাসের গড় দাম ধরা হয়ছে ১২ টাকা ৯৫ পয়সা।

পিআরআই নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর মনে করছেন আমদানি করা গ্যাসের মূল্য দেয়ার সক্ষমতা থাকার দিকে নজর দেয়া উচিৎ। সার বিদ্যুত কিংবা শিল্প খাতে গ্যাসের দাম বাড়ানোর ফলে এর প্রভাব পড়বে জনজীবনে। দাম বেড়ে যেতে পারে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের। কিন্তু নির্বাচনের বছরে এই দাম বাড়ার প্রভাব কি ভাবে সমাল দিবে সরকার। তার নিয়ে আপতত অর্থনীতিবিদদের কাছে কোন পরামর্শ নেই। তবে ফলাফল দেখার অপেক্ষায় আছেন তারা

রাজস্ব আয় বাড়াতে করের আওতা বাড়ানো হবে

রাজস্ব আয় বাড়াতে করের আওতা বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুইয়া।

সোমবার বিকেলে, রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক প্রাক বাজেট আলোচনায় এ কথা জানান জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুইয়া।

এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, বিগত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারো বড় বাজেট দিতে যাচ্ছে সরকার। আর বড় অংকের বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব আয়ে চাপ বাড়বে। আসছে বাজেটে যেসব খাত এখনো করের আওতার বাইরে আছে সেসব খাতেই নজর দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এসময় ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি কর সংক্রান্ত সংস্কার প্রস্তাবনা দেয় হয়। সংগঠনের সভাপতি শেহজাদ মুনীম বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশের তুলনায় বাংলাদেশে করপোরেট কর হার বেশি। তিনি শিল্পায়ন এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানোর স্বার্থে সব ক্ষেত্রে করপোরেট কর হার ৫ শতাংশ করে কমানোর প্রস্তাব করেন।

পরে এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, ভ্যাট আইনের ক্ষেত্রে ২০১২ সালের আইনের ইতিবাচক ধারাগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে।

সুদের হার কমাতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ব্যাংকাররা: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ব্যাংকঋণের সুদের হার এক মাসের মধ্যে একক অংকে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ব্যাংকাররা।

নির্বাচনের বছর হলেও এ বছর অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হওয়ার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।

রবিবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠানের ৫০ শতাংশ আমানত ব্যাংকে রাখতে হবে। শনিবার এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী ব‌লেন, ব্যাং‌কিং খাতের বড় চ্যা‌লেঞ্জ হ‌লো কিভাবে ক্যা‌পিটাল মা‌র্কেট সৃ‌ষ্টি করা যায়। শিগ‌গিরই ছোট্ট এক‌টি গ্রুপকে এ বিষ‌য়ে দা‌য়িত্ব দেওয়া হবে। তবে এ বছর অথর্নী‌তি‌তে স্থি‌তিশীলতা বিঘ্নিত হওয়ার সু‌যোগ নেই। আগে নির্বাচন ঘিরে যে ‘অন্যরকম’ প‌রি‌স্থি‌তি সৃ‌ষ্টি হ‌তো, তা এখন নেই।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, ব্যাংকের উন্নতির জন্য বড় অর্থের লোন দিতে খুব একটা আগ্রহী না হলেও চলবে। তবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি লোন বেশি দিতে হবে।

রমজানে মাসে খাদ্যের কোনো ঘাটতি হবে না

পর্যাপ্ত মজুদ আছে, রমজান মাসে নিত্যপণ্যের কোনো সঙ্কট হবে না, জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

রবিবার সকালে, সচিবালয়ে এ কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, দেশে এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি রয়েছে। সুতরাং রমজানে কোনো পণ্যের দাম বাড়বে এমন সুযোগ নেই।

শুধু রোজার মাসে না সারা বছরই নিত্যপণ্যের দাম স্বাভাবিক থাকবে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

এ সময় তোফায়েল আহমেদ আরও বলেন, মূলত ডলারের মৃল্য বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় ও বিশ্ব বাজারে পণ্যের দাম বাড়ার প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়ে।

পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিশেষ করে চাল, আটা, চিনি, ভোজ্যতেল, ডাল, পেয়াজ, রসুন, আদা হলুদ, খেজুর ইত্যাদির বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে। তাই এবারের রমজানে কোনো সঙ্কট হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

বিজিএমইএ কার্যালয় গুটিয়ে নিতে চান তৈরি পোশাক শিল্পের মালিক সমিতি

আগামী বছরের আগেই কারওয়ানবাজার থেকে বিজিএমইএ কার্যালয় গুটিয়ে নিতে চান তৈরি পোশাক শিল্পের মালিক সমিতি।

এজন্য উত্তরার ১৭ নম্বর সেক্টরে নিজস্ব জমিতে ভবন নির্মাণের কাজ দ্রতগতিতে করতে প্রকৌশলীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে অন্তত দুই থেকে তিন তলার নির্মাণ শেষ করতে চায় সংগঠনটি।

জলাশয়ের মধ্যে বলেই ভাঙতে হচ্ছে বিজিএমইএ ভবন। নতুন ভবনও তৈরি হচ্ছে লেকের পাশেই। তবে এবার সব ধরণের নিয়ম মেনেই।

উত্তরার ১৭ নম্বর সেক্টরের ৬ নম্বর এভিনিউয়ের লেকসাইড সড়কের পাশে চলছে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ। পাইলিংয়েশ কাজ শেষ হয়েছে। ১০ কাঠা জমিতে তৈরি হবে দু’টি ১৫ তলা ভবন।

গেলো বছরের মার্চে ছয় মাসের মধ্যে ভবন ভাঙার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। তবে, আগস্টে সময় বাড়ানোর আবেদন করে এ বছরের এপ্রিল পর্যন্ত সময় পায় বিজিএমইএ। তার আগেই, মার্চে আরও এক বছর সময় চেয়ে মুচলেকা দিয়েছে সংগঠনটি।

এখন পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট সবার চাওয়া, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যেন স্থানান্তর হয় বিজিএমইএ ভবন।