স্মিথ এক টেস্টের জন্য নিষিদ্ধ, ১০০ ভাগ জরিমানা

অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ককে এক টেস্ট ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বল বিকৃত করার দায় স্বীকার করার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর ফলে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে জোহানেসবার্গ টেস্টে খেলতে পারবেন না। আইন অনুযায়ী এটিই বল বিকৃত করার সর্বোচ্চ শাস্তি। তাকে ১০০ ভাগ ম্যাচ ফি জরিমানা করা হয়েছে, চারটি ডিমেরিট পয়েন্টও দেয়া হয়েছে।

এছাড়া বল বিকৃত করার জন্য আসল দায়ী ফিল্ডার ক্যামেরন ব্যানক্রফটকে তিনটি ডিমেরিট পয়েন্ট ও ম্যাচ ফির ৭৫ ভাগ অর্থ জরিমানা করা হয়েছে।

পদত্যাগ :————————————
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চলমান টেস্টে বল টেম্পারিং-এ অভিযোগে নিজ নিজ দায়িত্ব থেকে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ ও সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার পদত্যাগ করেছেন। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া রোববার এ খবর নিশ্চিত করেছে।

গতকাল কেপটাউন টেস্টের তৃতীয় দিন বল টেম্পারিং-এর ঘটনা ঘটান অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার ক্যামেরন বেনক্রফট। ফিল্ডিং করার সময় বল হাতে পেয়ে পকেটে হাত দেন তিনি। সেখান থেকে হলুদ রঙের একটি কাগজজাতীয় বস্তু বের করেন বেনক্রফট। কাগজজাতীয় বস্তুটি দিয়ে বলের আকার পরিবর্তন করার চেষ্টা চালান। তার এই কান্ড ধরে পড়ে যায় ক্রিকেট মাঠের বিভিন্ন পাশে থাকা প্রায় ২০-২৫টি ক্যামেরায়। সেটি পড়ে স্টেডিয়ামের ভেতরের টিভি স্ক্রিনে দেখানো হয়। তাতে অবাক হয়ে বেনক্রফটের সাথে কথা বলেন ম্যাচের দুই অন-ফিল্ড আম্পায়ার। কিন্তু আম্পায়ারদের অভিযোগ অস্বীকার করেন বেনক্রফট।

পরে পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হওয়াতে পকেটে থাকা কাগজজাতীয় বস্তুটি নিজের ট্রাউজারে ঢুকিয়ে ফেলেন বেনক্রফট। সেটিও ক্যামেরায় ধরে পড়ে যায়। তাই বাধ্য হয়ে দিনের খেলা শেষ হবার পর নিজের কু-কীর্তি স্বীকার করতে বাধ্য হন বেনক্রফট।

সংবাদ সম্মেলনে বেনক্রফটের পাশে থাকা অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ বল টেম্পারিং-এ দায় স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এখানে কোচ বাদে দলের সকল খেলোয়াড়েরই আগ্রহ ছিল। টেস্ট জিততে মরিয়া থাকায় বাধ্য হয়েই এমন কাজ করেছে তার দল। তবে ভবিষ্যতে এমন কু-কীর্তি আর হবে না।’

ভবিষ্যত খুব বেশি দূর যেতে পারেনি। কেপটাউনে সিরিজের তৃতীয় টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলা শুরুর আগেই নেতৃত্বই ছেড়ে দিতে হলো স্মিথকে। শুধুমাত্র অধিনায়কই নন, নিজের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে সরে যেতে হলো ওয়ার্নারকেও।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ড জানান, ‘স্মিথ ও ওয়ার্নারের সাথে আলোচনা পর এই টেস্টের বাকি সময়ের জন্য অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়কের নিজ নিজ পদ ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছে তারা।’

একটি টেস্ট ম্যাচ চলাকালীন বল টেম্পারিং-এর দায়ে অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়কের সরে যাবার ঘটনা ক্রিকেটে হয়তো এবারই প্রথম। পাশাপাশি এটি বিরল ঘটনা হয়েই থাকবে ক্রিকেট বিশ্বে। দল পরিচালনার জন্য দায়িত্ব হারালেও দলের সাথেই থাকবেন স্মিথ ও ওয়ার্নার। টেস্টের চতুর্থ দিন থেকে অস্ট্রেলিয়ার নেতৃত্বের দায়িত্ব পেলেন উইকেটরক্ষক টিম পাইন। হয়তো সিরিজের বাকি ম্যাচগুলোতেও দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে পাইনকে। তবে এটি নিশ্চিত এই সিরিজে তো নয়ই, ভবিষ্যতে আর কখনো স্মিথের অধিনায়কত্ব পাওয়া নিয়ে সংশয় থাকবে।

তবে এখানেই সব নাটকের সমাপ্তি ঘটছে না। বল টেম্পারিং-এর এই ঘটনা নিয়ে আরো তদন্ত করবে সিএ। তাই ইতোমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে রওনা হয়েছেন সিএর নৈতিকতাসংক্রান্ত বিভাগের প্রধান ইয়ান রয় ও দলের টিম পারফরম্যান্স ম্যানেজার প্যাট হাওয়ার্ড।

তদন্তে যেটাই প্রমাণিত হোক নিজেদের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে বড় ধরনের নেতিবাচক দাগ কেটে ফেলেছে অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান টেস্ট দলের খেলোয়াড়রা। দলটির সাবেক খেলোয়াড়দের মন্তব্য থেকে যা স্পষ্ট। সুপার স্পোর্ট টেলিভিশনকে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক অ্যালান বোর্ডার বলেন, ‘আমি ক্ষুদ্ধ ও বিব্রত।’
দেশটির কিংবদন্তি লেগ-স্পিনার শেন ওয়ার্ন বলেন, ‘আমি হতাশ।’

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক তারকা ক্রিকেটার মাইকেল ক্লার্ক ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলে ফেলেন, ‘স্মিথ ও ওয়ার্নার লজ্জাবোধ হওয়া উচিত। এজন্য যত দ্রুত সম্ভব, দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া উচিত।’
শুধুমাত্র অস্ট্রেলিয়ার সাবেক খেলোয়াড়রাই নন ক্রিকেটে বিশ্বের অনেকেই অসিদের বর্তমান দলকে দুয়োধ্বনি করছে। এর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিৃকার সাবেক অধিনায়ক শন পোলক বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ধরা খেয়েছে এবং প্রতারণা করা দেখিয়েছে।’

আফগানিস্তানের বিশ্বকাপ টিকেট এখন নিশ্চিত

বিশ্বকাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচ—হারারেতে ম্যাচটা কী গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে। বিশ্বকাপের ১০ দলের ৯টি চূড়ান্ত। বাকি একটি দলের নাম জানতে এ ম্যাচের দিকে চোখ রেখেছিল সবাই।

অবশেষ প্রশ্নের উত্তরটা জানা গেল, আয়ারল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ নিশ্চিত আফগানিস্তানের।

বিশ্বকাপ নিশ্চিত করতে স্নায়ুচাপের বড় পরীক্ষা দিতে হয়েছে দুই দলকে। তবে সেই পরীক্ষায় শেষ পর্যন্ত উত্তীর্ণ আফগানরাই। ৩৬ বলে আফগানিস্তানের দরকার ছিল ৪৩ রান। ৪৫তম ওভারে ১৫ রান তুলে ফেলায় সমীকরণটা নেমে আসে ৩০ বলে ২৮।

পরের ওভারে ৮ রান তুলে ম্যাচটা আরেকটু নিজেদের দিকে টেনে আনেন স্টানিকজাই-জাদরান। পরে সেটি আর হাতছাড়া হয়নি আফগানদের। ১৮ বলে ১৬, ১২ বলে ৭—৫ বল বাকি থাকতে সমীকরণ মিলিয়েই ফেলে আফগানিস্তান। ২১০ রান তাড়া করতে নেমে দলকে ভালো শুরু এনে দেন দুই আফগান ওপেনার মোহাম্মদ শেহজাদ ও গুলবাদিন নায়েব।

উদ্বোধনী জুটি ১৬.২ ওভারে ৮৬ রান যোগ করার পরও আফগানিস্তানকে স্বচ্ছন্দে এগোতে দেননি আইরিশ বোলাররা। ৫৯ রানের মধ্যে আফগানিস্তানের ৪ উইকেট ফেলে নিজেদের আশাটাও জাগিয়ে তোলেন। সামিউল্লাহ শেনওয়ারি-আসগার স্টানিকজাই পঞ্চম উইকেট ৩৬ রানের জুটি আফগানদের ম্যাচে ফেরালেও তাদের বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে স্টানিকজাই-জাদরানের অবিচ্ছিন্ন ষষ্ঠ উইকেটে তোলা ৩২ রান। আফগানিস্তানের মতো আয়ারল্যান্ডকেও ভালো শুরু এনে দেন তাদের দুই ওপেনার পোর্টারফিল্ড-স্টার্লিং। ৫৩ রানের উদ্বোধনী জুটির পর আরেকটি পঞ্চাশ পেরোনো জুটি হয়নি আইরিশদের।

ওপেনার স্টার্লিংয়ের মতো ফিফটি পেরোনো ইনিংস খেলতে পারেননি আর কোনো আইরিশ ব্যাটসম্যান। স্কোরটা তাই খুব একটা বড়ও হয়নি তাঁদের। ৭ উইকেটে ২০৯ রানের পুঁজি নিয়ে আফগানদের হারানো যাবে না, সেটি তো আয়ারল্যান্ড পরে টেরই পেল। বাছাইপর্ব যেভাবে জমে উঠল এবার, জয়পরাজয় ছাপিয়ে একটা আফসোসও যেন তৈরি হলো—বিশ্বকাপটা কেন শুধু দশ দলের?

ভারতের ভিসা পেলেন না বাংলাদেশের দুই অধিনায়ক

ইন্ডিয়ান উইমেন্স লিগে তামিলনাড়ুর সিথু এফসির হয়ে জাতীয় দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের সঙ্গে খেলার কথা ছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ দলের অধিনায়ক কৃষ্ণা রানী সরকারেরও। সাবিনা ও কৃষ্ণার ভারতীয় লিগে খেলতে যাওয়া উপলক্ষে কয়েক দিন আগে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল বাফুফে ভবনে। ব্যক্তিগত লক্ষ্য ঠিক করে রেখেছিলেন দুজন—অনেক গোল করতে চান। কিন্তু যাওয়া হচ্ছে না কারও।

সাধারণত জাতীয় দলের অনুশীলনে সব সময় বেশ চনমনে দেখা যায় সাবিনাকে। কিন্তু আজ দেখা গেল উল্টো। মনমরা সাবিনাকে কারণ জিজ্ঞেস করতেই শোনা গেল দুঃসংবাদ, ‘দুঃসংবাদ। আমাদের ভারতে খেলা হচ্ছে না।’ কারণ? ভিসা জটিলতা।

প্রথম দফায় নাকি ১৪ তারিখে ভিসা পাওয়ার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু তাঁরা পাননি। আজ দ্বিতীয় দফায় পাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাঁদের পাসপোর্টে ভারতের ভিসা পড়েনি। আজ পাসপোর্ট ফেরতও নিয়ে আসা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে তাই মন খারাপ তিনবার মালদ্বীপ লিগ মাতিয়ে আসা সাবিনার। ভিসা না পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন মহিলা দলের কোচ গোলাম রব্বানিও।

বাংলাদেশে মহিলা লিগ হয় না। তাই প্রথমবারের মতো ভারতীয় লিগ খেলার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত ছিলেন সাবিনা ও কৃষ্ণা। সে প্রস্তুতি নিয়ে এখন খেলতে না পারার হতাশা জুটল তাঁদের ভাগ্যে।

পদত্যাগ করলেন সহকারী কোচ রিচার্ড হ্যালসল

পদত্যাগ করলেন বাংলাদেশ দলের সহকারী কোচ রিচার্ড হ্যালসলও। আগে থেকেই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল, তার পদত্যাগের বিষয়ে। অবশেষে আজ বিসিবি থেকেই স্বীকার করা হলো, পদত্যাগ করেছেন হ্যালসল। বিসিবি জানিয়ে দিয়েছে, তারা হ্যালসলের পদত্যাগপত্রও গ্রহণ করে নিয়েছে।

শ্রীলঙ্কায় সদ্য সমাপ্ত নিদাহাস ট্রফির আগেই যখন বাংলাদশ দল প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখনই গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল পদত্যাগ করতে পারেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহের আমলে ফিল্ডিং কোচ থেকে সহকারী কোচে উন্নীত হওয়া রিচার্ড হ্যালসল। ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় সিরিজ এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি সিরিজের সময় রিচার্ড হ্যালসলকেই ভারপ্রাপ্ত কোচের দায়িত্ব দিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

এরপর নিদাহাস ট্রফির দল ঘোষণা, প্রস্তুতি থেকে শুরু করে কোথাও ছিলেন হ্যালসল। ভারপ্রাপ্ত কোচ থেকে একেবারে সিরিজে ‘নাই’ হয়ে যাওয়ার পরই গুঞ্জনটা শুরু হয়েছিল। তখন জানা গিয়েছিল, ছুটি নিয়ে নিজের দেশ ইংল্যান্ড গেছেন বাংলাদেশ দলের এই কোচ। যদিও বাংলাদেশ দল শ্রীলঙ্কায় গিয়ে ভালো খেলার কারণে হ্যালসলের বিষয়টা বেমালুম ভুলে গিয়েছিল সবাই। এবার সত্যি সত্যি জানা গেলো, তিনি আর ফিরবেন না। পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন বিসিবির কাছে।

চেষ্টা করে হারল বাংলাদেশ

চেষ্টা করে হারল বাংলাদেশ। শেষ বলে দরকার ছিল ৫ রান, সেটা সামাল দিতে পারেনি সৌম্য সরকার। ১৮তম ওভারে ১ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়ে জয়ের যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান সেটা বাস্তবায়ন হয়নি, অধরাই থাকলো ভারতের সাথে টি-টোয়েন্টি জয়। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে টাইগারদের কাঁদালেন দিনেশ কার্তিক। তার দুর্দান্ত এক ইনিংসে ভর করে নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে বাংলাদেশকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে ভারত।

১৬৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বেশ ভালো সূচনা করেন ভারতীয় দুই ওপেনার রোহিত শর্মা আর শিখর ধাওয়ান। ১৬ বলে গড়া তাদের ৩২ রানের জুটিটি ভাঙেন সাকিব আল হাসান। ৭ রান করা ধাওয়ানকে আরিফুল হকের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান তিনি।

এরপর রুবেল হোসেনের লেগ সাইড দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া বলে ব্যাট ছুঁইয়ে মুশফিকের গ্লাভসবন্দী হন সুরেশ রায়না। এখানেও আম্পায়ার ওয়াইডের ভুল সংকেত দিয়েছিলেন। আত্মবিশ্বাসী মুশফিক সঙ্গে সঙ্গেই রিভিউ নিয়ে নেন। রিপ্লেতে দেখা যায় বল রায়নার (০) ব্যাটে লেগেছে।

৩২ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে তখন কিছুটা বিপদে ভারত। তৃতীয় উইকেটে সেই বিপদ কাটিয়ে উঠেন রোহিত আর লোকেশ রাহুল। এই জুটিতে আসে ৫১ রান। শেষ পর্যন্ত রাহুলকে ফিরিয়ে এই জুটিটি ভেঙেছেন রুবেল।

রোহিত শর্মা যে কোনো প্রতিপক্ষের জন্যই ভয়ের কারণ। তার ব্যাটের ধার সবারই জানা। বেশ ভয়ংকর হয়ে উঠছিলেন আজ নিদাহাস ট্রফির ফাইনালেও। তবে ৪২ বলে ৫৬ করা ভারতীয় এই ওপেনারকে অবশেষে ফিরিয়েছেন নাজমুল ইসলাম অপু।

এর আগে সাব্বির রহমানের ৫০ বলে ৭৭ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬৬ রান তুলে টাইগাররা।

কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল আর লিটন দাস ১৯ বলের জুটিতে তুলে ফেলেন ২৭ রান। তবে ভালো শুরুর পরও আরও একবার হতাশ করেছেন লিটন।

৯ বলে ১ ছক্কায় ১১ রান করে ওয়াশিংটন সুন্দরকে সুইপ করতে গিয়ে সুরেশ রায়নার ক্যাচ হয়ে ফিরেছেন এই ওপেনার। এরপর যুজবেন্দ্র চাহালের বলে শার্দুল ঠাকুরের দুর্দান্ত এক ক্যাচ হন তামিমও। ১৩ বলে ১ চারে ১৫ রান করেন তিনি।

ব্যর্থতার বৃত্ত ফুড়ে এই ম্যাচেও বের হয়ে আসতে পারেননি সৌম্য সরকার। চাহালকে সুইপ করতে গিয়ে স্কয়ার লেগে শেখর ধাওয়ানের ক্যাচ হয়েছেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। করেন মাত্র ১ রান।

৩৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তখণ ভীষণ বিপদে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৩৫ রান যোগ করেন মুশফিকুর রহীম আর সাব্বির রহমান। তবে এরপরই মুশফিক বোকার মতো আউট হয়েছেন। অফস্ট্যাম্পের অনেক বাইরের বল মারতে গিয়ে ৯ রান করে চাহালের তৃতীয় শিকার তিনি।

পঞ্চম উইকেটে সাব্বিরের সঙ্গে ৩৬ রানের জুটি গড়ে ভুল বোঝাবুঝির কারণে রানআউট হয়ে যান মাহমুদউল্লাহ। ১৬ বলে ২ বাউন্ডারিতে ২১ রান করেন বাংলাদেশকে ফাইনালে উঠানোর এই নায়ক। রানআউট দুর্ভাগ্যে পড়েছেন সাকিব আল হাসানও। দ্রুত এক রান নিতে গিয়ে আউট হন ৭ বলে ৭ রান করা বাংলাদেশ অধিনায়ক।

তবু সাব্বির চড়াও হয়েই খেলছিলেন। দারুণ খেলতে থাকা এই ব্যাটসম্যানকে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান জয়দেব উনাদকাত। ৭৭ রানের ঝড়ো ইনিংসে ৭টি চারের পাশে ৪টি ছক্কা হাঁকান সাব্বির।

শেষ ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজ নিয়েছেন ১৮ রান। তার ৭ বলে ১৯ রানের ইনিংসে ভর করে লড়াকু পুঁজি গড়তে পেরেছে টাইগাররা।

ভারতের পক্ষে ১৮ রানে ৩টি উইকেট যুজবেন্দ্র চাহালের। ২টি উইকেট জয়দেব উনাদকাতের।

‘হিট অব দ্য মোমেন্টে’ হয়ে গেছে: মাশরাফি

শ্রীলঙ্কাকে দুই উইকেটে হারিয়ে নিদহাস ট্রফির ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। তবে এই ম্যাচটিতে ছিল অনেক নাটকীয়তায় ভরা। বিশেষ করে দ্বিতীয় ইনিংসের শেষ ওভারে নো বল কাণ্ডে ম্যাচের উত্তেজনাটা বাড়িয়ে দিয়েছে অনেক বেশি। এমন অবস্থা হয়েছে ম্যাচে দুই দলের খেলোয়াড়রা তর্কে জড়িয়ে পড়েন। মাহমুদউল্লাহ উত্তেজিত হয়ে কথা বলা আম্পায়ারদের সঙ্গে। অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও মাঠের বাইরে থেকে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তিনি দুই ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ ও রুবেল হোসেনকে মাঠ থেকে বেরিয়ে আসতেও বলেছিলেন।

শেষ ওভারে প্রয়োজন ১২ রান, পেন্ডুলামের মতো দুলছে ম্যাচের ভাগ্য। থিসারার পরপর দুটি বাউন্সার। এর মধ্যে দ্বিতীয় বলে রান আউট হয়ে গেলেন মোস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু টানা দ্বিতীয় বাউন্সারেও নো বল দিলেন না শ্রীলঙ্কান আম্পায়ার। এ নিয়েই শুরু তর্ক। পরবর্তী সময়ে যা রূপ নিল হট্টগোলে।

ম্যাচের এ রকম টান টান মুহূর্তে এসে নো বল না পেয়ে সীমানার কাছে এসে উত্তেজিত হয়ে পড়েন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। মাঠ থেকে ব্যাটসম্যানদের চলে আসার ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন সাকিব। যা হলে টুর্নামেন্ট থেকে ডিসকোয়ালিফাইড হয়ে যেতে পারত বাংলাদেশ। তিক্ততা ছড়িয়ে পড়ত পুরো টুর্নামেন্টে। যা শনিবার সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখেছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ব্যাপারটাকে সাময়িক উত্তেজনা হিসেবেই দেখছেন ওয়ানডে অধিনায়ক, ‘আজ (শনিবার) সকালে উঠে দেখেছি। জানি না পুরোপুরি। না জেনে আমাদের মতামত দেওয়া ঠিক হবে না। আর যেটা হয়েছে মাঠে ‘হিট অব দ্য মোমেন্ট’ বলতে পারেন। নো বলটা আমাদের পক্ষে আসা উচিত ছিল। টি-টোয়েন্টিতে দুই বাউন্সার তো নিয়মে নাই। হয়তো আরেকটু সংযত হলে ভালো হতো। কিন্তু যেটা বললাম, ‘হিট অব দ্য মোমেন্টে’ হয়ে গেছে।’

এই ঘটনার পরেই দুর্দান্ত ব্যাটিং করে দলকে জিতিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। যা দেখে এখনো উচ্ছ্বাসে বুঁদ হয়ে আছেন মাশরাফি, ‘চার বলে যখন ১২ লাগবে। তখন রিয়াদ প্রথম চারটা মারল। তখন মনে হয়েছে সম্ভব। তারপর রিয়াদ যেভাবে খেলেছে, অসাধারণ। ১৮ বলে ৪৩। প্রথম থেকে এসেই যেভাবে অ্যাটাক করেছে, ওটা ছিল দারুণ।’

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ম্যাচে অসদাচরণের জন্য শাস্তি সাকিব ও সোহানের

সাকিব, সোহানের শাস্তি

কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ম্যাচে অসদাচরণের জন্য শাস্তি দেয়া হয়েছে সাকিব আল হাসান ও নুরুল হাসান সোহানের। আলাদা আলাদা ঘটনার জন্য তাদের ২৫ ভাগ জরিমানা করা হয়েছে। আইসিসির আচরণবিধির লেভেল ১ লঙ্ঘনের জন্য উভয় খেলোয়াড়কে একটি করে ডিমেরিট পয়েন্টও দেয়া হয়েছে।

খেলার শেষ ওভারের উত্তেজনার জের ধরে তাদের এই শাস্তি পেতে হলো। উল্লেখ্য, উত্তেজনাপূর্ণ ওই ম্যাচে বাংলাদেশ ১ বল বাকি থাকতে জয় পায়। বাংলাদেশ এখন ফাইনালে খেলবে ভারতের বিরুদ্ধে।

মাহমুদুল্লাহর ছক্কায় ফাইনালে বাংলাদেশ

দমিয়ে রাখতে পারেনি টাইগারদের। শেষ ওভারে এসে শ্রীলঙ্কার পক্ষেই ছিলেন মনে হয় আম্পায়ার । পরপর দুটি নিশ্চিত ওয়াইড বল যখন তার চোখ এড়িয়ে গেলো তখন এমনই মনে হচ্ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শেষ ওভারের পঞ্চম বলে মাহমুদুল্লাহর অসাধারণ এক ছক্কায় ২ উইকেটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এর ফলে নিদাহাস ট্রফির ফাইনাল খেলবে বাংলাদেশ ও ভারত। ১৮ বলে ৪৩ রান করে ম্যাচ সেরা হয়েছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।

নিদাহাস ট্রফির অঘোষিত সেমিফাইনালে জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশ ব্যাটিং করছে ১৬০ রানের লক্ষ্য নিয়ে। বাঁচামরার এই লড়াইয়ে ব্যাট হাতে শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম চার ওভারের মধ্যে সাজঘরে ফিরেছেন লিটন দাস ও সাব্বির রহমান। দ্বিতীয় ওভারেই লিটন দাসের উইকেট তুলে নিয়েছিলেন ধনঞ্জয়।

রানের খাতা না খুলেই ফিরে যেতে হয়েছে লিটনকে। নিজের পরের ওভারে সাব্বিরকেও স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেছেন ধনঞ্জয়। তবে তৃতীয় উইকেটে ৬৪ উইকেটের জুটি গড়ে দলকে ভালোই এগিয়ে নিচ্ছিলেন তামিম ও মুশফিক। কিন্তু এই আশার আলো বেশিক্ষণ থাকেনি। পর পর দুই ওভারে দুজই ফিরে যান। এর পর সাজঘরে ফিরে সৌম্য সরকারও। তবে শেষপর্যায়ে চাপের মুখে ১৮ বলে ৪৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান মাহমুদউল্লাহ।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে শ্রীলঙ্কাও অবশ্য পড়েছিল ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে। মাত্র ৪১ রান সংগ্রহ করতেই হারিয়েছিল ৫টি উইকেট। শেষপর্যন্ত অবশ্য কুশল পেরেরার ৬১ ও থিসারা পেরেরার ৫৮ রানের ইনিংসে ভর করে স্কোরবোর্ডে ১৫৯ রানের লড়িয়ে পুঁজি জমা করেছে লঙ্কানরা।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আজকের ম্যাচে বাংলাদেশ খেলছে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে। ইনজুরি কাটিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই মাঠে ফিরেছেন বাংলাদেশী এই অলরাউন্ডার।

এশিয়ান গেমস বাছাই: হকির ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ

এশিয়ান গেমস বাছাই হকির ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার ওমানে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে বাংলাদেশ দু’দুবার পিছিয়ে পড়েও ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছে শ্রীলংকাকে। বাংলাদেশ গোল তিনটি করেছে শেষ ২১ মিনিটে।

৩৪ মিনিটে সুধা সিংহের গোলে এগিয়ে যায় শ্রীলংকা। ৪৯ মিনিটে রোমান সরকারের ফিল্ডগোলে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ। তবে মিনিট খানেক পরই আবার এগিয়ে যায় শ্রীলংকা রানা সিংহের গোলে।

৫২ মিনিটে আবার ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। এবারও রোমান সরকার। পেনাল্টি কর্নার থেকে গোলে তিনি আশা জাগান লাল-সবুজ শিবিরে। ম্যাচ শেষ হওয়ার ২ মিনিট আগে বাংলাদেশের জয়সূচক গোলটি করেন মিলন হোসেন।

সাকিব খেলছেন সেমিফাইনালে

নিদাহাস ট্রফির আগে বিসিবির সিদ্ধান্ত ছিল, সাকিব দলের সঙ্গে কলম্বোয় থাকবেন। অন্তত শেষ এক-দুটি ম্যাচ খেলবেন। কিন্তু চোটের অগ্রগতি না হওয়ায় সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়। সাকিবের জায়গায় অধিনায়কত্বের ভার দেওয়া হয় মাহমুদউল্লাহকে।

অবশেষে সুখবর, সাকিব পুরোপুরি সেরে উঠেছেন। নিদাহাস ট্রফি খেলতে আজ বৃহস্পতিবার কলম্বোয় যাচ্ছেন সাকিব। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সব ঠিক থাকলে সাকিব খেলছেন আগামীকালের ‘সেমিফাইনাল’!

ফাইনালে জায়গা করে নিতে শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের কোন বিকল্প নেই বাংলাদেশের।

গত ২৭ জানুয়ারি ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে আঙুলে চোট পান সাকিব। এরপর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘরের মাঠে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ মিস করেন এই তারকা। ধারণা করা হয় নিদাহাস ট্রফির শুরু থেকেই খেলতে পারবেন। তবে পরে চোট এতই গুরুতর হয় যে প্রথমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখাতে থাইল্যান্ডে যান। সেখান থেকে ঢাকায় ফিরে কলম্বো আসেন। কলম্বো থেকে যান অস্ট্রেলিয়ায়।

সেখানে গত ৯ মার্চ মেলবোর্নে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডেভিড হয়ের সঙ্গে দেখা করেন সাকিব। দেশে ফিরেন সুখবর নিয়ে। জানান, চোটের অবস্থা এখন অনেকটাই ভালো। যার কারণে কোনো অস্ত্রোপচারের দরকার পড়েনি।

এরপর থেকেই মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের ইনডোরে গিয়ে সময় নিয়ে অনুশীলন করেন বাংলাদেশ টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক। অবশেষে সুখবর, সাকিব পুরোপুরি সেরে উঠেছেন। নিদাহাস ট্রফি খেলতে আজ যাচ্ছেন কলম্বোয়। সবকিছু ঠিক থাকলে খেলবেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচ।