উন্নত দেশ হতে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নানা পদক্ষেপ

ঢাকা টেলিগ্রাফ: সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং উচ্চ প্রবৃদ্ধির দেশের তালিকায় বাংলাদেশকে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে আগামী অর্থবছরের বাজেট জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের বর্তমান মেয়াদে শেষ এবং সাধারণ নির্বাচনের আগের বাজেট।

টানা দশ বছর ধরে বর্তমান সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তিসহ প্রস্তাবিত বাজেটে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতা, কর্পোরেট কর হার হ্রাস, কিছু স্থানীয় শিল্পে প্রণোদনা দিয়ে শিল্পায়ন এবং ২০৪১ সালে দেশকে উন্নত দেশে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। আরো ১১ লাখ লোককে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় আনার ঘোষণা দিয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদে ঘোষিত বাজেট ঘোষণার আগে মন্ত্রিপরিষদ তা অনুমোদন করে।

এগিয়ে নিতে বিপুল অংকের বিনিয়োগ লক্ষ্য নিয়ে বিশাল ব্যয়ের টার্গেট করা হয়। যে কারণে বাড়ে বাজেটের আকারও। তবে বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে জুলাই মাসের প্রথম দিন থেকে টাকা ব্যবহারের সুবিধা পাওয়া যাবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। অর্থমন্ত্রী নিজেও বলেছেন, বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে আমাদের ভাবনা আছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন হলে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছে।

বিগত সময়ের ন্যায় প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে মানব সম্পদ তথা শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর জন্য ৭ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যা ধরলে এডিপির আকার বেড়ে ১ লাখ ৮০ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকায় দাঁড়াবে।

মোট ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করে নতুন বাজেটে বাড়ানো হয়েছে রাজস্ব আদায়ের টার্গেট। ব্যক্তি শ্রেণির আয়করের সর্বনিম্ন সীমা আড়াই লাখ টাকায় অপরিবর্তিত রেখে কমানো হয়েছে কর্পোরেট কর। তবে ভ্যাটের স্তর কমিয়ে আনায় যারা কম হারে ভ্যাট দিতেন, তাদের কিছুটা বাড়তি ভ্যাট দিতে হবে। পাশাপাশি আয় বাড়ানোর জন্য বেশ কিছু খাতে সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। তবে রাজস্ব আদায় বাড়াতে কর হারে পরিবর্তন করা হলেও আদায়ের চ্যালেঞ্জ কিন্তু থাকছেই। নির্বাচনের বছর হওয়ায় এদিকে খুব বেশি চাপ দেওয়া যাবে না আবার চলতি বছরে আয় মুনাফার ওপর কর ও মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট খাতে অর্জন আশানুরূপ ছিল না। ফলে বছরের শেষে লক্ষ্যমাত্রায় সংশোধনী আনা হয়। এ অবস্থায় আগামী বছর রাজস্ব আদায় বাড়ানো অনেকটা অনিশ্চয়তায় রয়ে যাচ্ছে। যদিও কর আদায়ে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। কর আইনের বিভিন্ন বিধান পরিপালনের ব্যর্থতায় জরিমানা বাড়ানো হয়েছে যা সাধারণ করদাতাকে হয়রানির মুখে ফেলতে পারে।

বহুল আলোচিত ভ্যাটের হার এবারে ৫টি স্তরে বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অগ্রিম ট্রেড ভ্যাট বা এটিভি ৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করায় আমদানি নির্ভর পণ্যের দাম বাড়বে। যেখানে খাদ্যপণ্য মূল্যস্ফীতিও ঊর্ধ্বমুখী। সেখানে আগামী বছর মূল্যস্ফীতির লাগাম টানা কঠিন হতে পারে। ই-কমার্সে ভ্যাট আরোপ করায় এখাত নিরুত্সাহিত হবে বলে অনেকেই মনে করছেন। সাধারণত ভ্যাট না দিয়ে কোনো পণ্য বিক্রি হয় না। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার এই সময়ে ই— কমার্স জনপ্রিয় হয় এবং তরুণরা এ ব্যবসায় ঝুঁকছে।

এদিকে, কিছু খাতে প্রণোদনাও রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে সেলুলার ফোন উত্পাদনে কাঁচামালের শুল্ক হ্রাস করা হয়েছে। দেশে তৈরি হয় না এমন সফটওয়্যার যেমন ডাটাবেজ, প্রডাক্টিভিটি সফটওয়্যার আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। বাইসাইকেল, লিফস্প্রিং, টায়ার টিউব উত্পাদন, মোটর সাইকেল উত্পাদনে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। শুল্ক হ্রাস করা হয়েছে হাইব্রিড গাড়ির। ঢাকার যানজট কমাতে বিনাশুল্কে স্কুল বাস আমদানির সুযোগ ঘোষণা করা হয়েছে। ওষুধ, চামড়া, টেক্সটাইল, লৌহ ও ইস্পাত, গুঁড়া দুধ, রেফ্রিজারেটর ও কম্প্রেসার, মুদ্রণ শিল্পসহ কয়েকটি খাতে সুবিধা দিয়ে রফতানি আয়ে উেস কর বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে। যা শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ ছিল। নিটওয়্যার ও ওভেন গার্মেন্টস খাতের রফতানি আয়ের ওপর প্রযোজ্য কর ১৫ শতাংশ প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে পুুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলে সেটা সাড়ে ১২ শতাংশ প্রযোজ্য হবে।

বাজেট কাঠামো: মোট ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে যা জিডিপির ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ। এডিপি বরাদ্দ স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাসহ ১ লাখ ৮০ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা। অনুন্নয়ন খাতে রাখা হয়েছে ২ লাখ ৯১ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা যা জিডিপির সাড়ে ১১ শতাংশ। এই ব্যয় নিশ্চিত করতে আয়ের টার্গেট করা হয়েছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। যা জিডিপির ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ। এরমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআরের মাধ্যমে কর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা। এনবিআর বহির্ভূত উত্স থেকে রাজস্ব পাওয়া যাবে ৯ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। অন্যদিকে, করবহির্ভূত খাত থেকে পাওয়া যাবে ৩৩ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। বাকিটা থাকবে ঘাটতি।

ঘাটতি অর্থায়ন: প্রস্তাবিত বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। যা জিডিপির ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। এই ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক উত্স থেকে ঋণসহায়তা বাবদ প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ ঋণ (ব্যাংকসহ) প্রাপ্তির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৭১ লাখ ২২৬ কোটি টাকা। অনুদান বাবদ প্রাক্কলন রয়েছে ৪ হাজার ৫১ কোটি টাকার।

রাজস্ব প্রাক্কলন: আগামী অর্থবছরে আয়কর ও অন্যান্য খাত থেকে প্রত্যক্ষ কর বাবদ ১ লাখ ২ হাজার ২০১ কোটি টাকা এবং আমদানি ও রফতানি শুল্ক বাবদ ৩২ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। ভ্যাট খাতে ১ লাখ ১০ হাজার ৫৪৩ কোটি টাকা এবং সম্পূরক শুল্ক খাতে ৪৮ হাজার ৭৬৬ কোটি টাকা আয় হবে। আবগারি শুল্ক বাবদ ২ হাজার ৯১ কোটি এবং টার্নওভার ট্যাক্স খাত ১১ কোটি টাকা আয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে।

সংশোধিত বাজেট: চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য সংশোধিত বাজেটও জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়। ঘোষিত মোট ব্যয় ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা থেকে ২৮ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা কমিয়ে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। এডিপির আকার ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৮১ কোটি টাকা করা হয়েছে। রাজস্ব আয় ২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকার বদলে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা করা হয়েছে।

সংশোধিত বাজেটে ঘাটতি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৪১ কোটি টাকা যা মূল বাজেটে ছিল ১ লাখ ১২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। ঘাটতির বিপরীতে বৈদেশিক উত্স হতে অর্থায়নের প্রাক্কলন ছিল ৫১ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা যা সংশোধিত বাজেটে ৪৬ হাজার ২৪ কোটি টাকা করা হয়।

প্রমাণ হলে বদিকেও ছাড়া হবে না: ওবায়দুল কাদের

ঢাকা টেলিগ্রাফ: বদিকে সরকার ছাড় দিচ্ছে কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের করেন পাল্টা প্রশ্ন- বদি মাদকের গডফাদার প্রমাণ কি? তিনি বলেছেন, বদির মাদক সংশ্নিষ্টতা প্রমাণ করা গেলে তাকেও ছাড়া হবে না।

আওয়ামী লীগের এমপি আবদুর রহমান বদি দেশত্যাগে কোন সমস্যা দেখছেন না আওয়ামী লীগ সাধারণ ও সেতুমন্ত্রী সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। রোববার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মেট্রোরেলের প্যাকেজ-৭ এর চুক্তি সই অনুষ্ঠান শেষে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে মাদক বিরোধী অভিযান চলেছে। এতে অন্তত ১৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের দাবি, নিহতরা মাদক ব্যবসায়ী। তারা বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। তবে টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে পৌর কাউন্সিলর একরামুল হকের মৃত্যু মুহূর্তের অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই অভিযোগ করছেন বন্দুকযুদ্ধের নামে সন্দেহভাজনদের হত্যা করা হচ্ছে।

চলমান অভিযানে প্রাণহানীর ঘটনায় জাতিসংঘের অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম (ইউএনওডিসি) জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণের অধিকার রয়েছে, তা তারা করুক। বিদেশি বন্ধুরাও চাইলে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। কিন্তু কারো চাপে বাংলাদেশ নতি স্বীকার করবে না। কারো কথায় অভিযান বন্ধ হবে না।

একরামুলের মৃত্যুতে কেউ দোষী হয়ে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, একরাম আওয়ামী লীগের কর্মী। একরামুল তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হলে যারা তাকে দোষী সাবস্ত করেছে তাদের ছাড়া হবে না। মাদক বিরোধী অভিযানে প্রাণহানী বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন ১০ বিশিষ্ট নাগরিক। তাদের সমালোচনার জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, সমালোচনা করার অধিকার সকলেরই রয়েছে। তরুণ সমাজকে ধ্বংস করছে মাদক, তা ধ্বংস করতেই হবে।

প্যাকেজ-৭ এর চুক্তি : অনুষ্ঠানে মেট্রোরেলের (এমআরটি-৬) বৈদ্যুতিক সাব স্টেশন ও ট্রেনে বিদ্যুতে সরবরাহের লাইন নির্মাণ, চলন্ত সিড়ি নির্মাণ ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ভাড়া আদায়ে ব্যবস্থাপনা নির্মাণ কাজের চুক্তি সই হয়েছে। চার হাজার ৯৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে এসব কাজ করবে জাপান ও ভারতের যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মারুবেনি-লারসেন-টুবরু।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ওবায়দুল কাদের। উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা, জাপানের রাষ্ট্রদূত মাসাতো ওতানাবে, সড়ক নজরুল ইসলাম, মেট্রোরেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম,এ,এন ছিদ্দিক, প্রকল্প পরিচালক আফতাব উদ্দিন তালুকদার।

জানুয়ারির মধ্যে চলে যাবে এ্যাকর্ড ও এ্যালায়েন্স

ঢাকা টেলিগ্রাফ: পৃথিবীর কোথাও ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রেতাদের জোট এ্যাকর্ড ও এ্যালায়েন্সের কার্যক্রম নেই। বাংলাদেশেও তাদের প্রয়োজন নেই। আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে দেশের পোশাক কারখানায় তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়ে চলে যাবে। এমনটাই বলেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

আজ (বৃহঃষ্পতিবার) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স এ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) সহ ৮টি সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকে এ ঘোষণা দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

আসন্ন ঈদুল ফিতর সুষ্ঠুভাবে উদযাপনে তৈরি পোশাক শিল্পখাতের শ্রমিকদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতাদি সময় মতো পরিশোধের বিষয়ে তাগিদ দেয়া হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ১০ তারিখের মধ্যে মে মাসের পূর্ণ বেতন এবং ১৪ তারিখের আগে বোনাস পরিশোধ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ঈদের আগে কোনো শ্রমিককে ছাঁটাই করা চলবে না। শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা যাবে না। এ্যকর্ড-এ্যালায়েন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে। উন্নত কোনো দেশেই এদের ঢুকতে দেয়া হয় না। বাংলাদেশ একটা মর্যাদাকর দেশে, এদেশে তাদের আর ঠাঁই নেই।

রানা প্লাজার ধ্বস এবং তাজরীন গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ডে কয়েকশ শ্রমিক নিহতের প্রেক্ষাপটে ইউরোপ এবং আমেরিকার ক্রেতাদের দুটি জোট এ্যাকর্ড ও এ্যালায়েন্স বাংলাদেশ সরকার এবং গার্মেন্টস মালিকদের সাথে একটি চুক্তি করেছিল। তারা দেশের পোশাক কারখানাগুলো পরিদর্শন করে, বিভিন্ন পরামর্শ দিতো। সে অনুযায়ী এ্যালায়েন্স ইতমধ্যেই তাদের কাজ শেষ করেছে আর চলতি বছর মে মাসে শেষ হবে এ্যাকর্ডের কাজ।

মালয়েশিয়া ১৫ লাখ শ্রমিক নেওয়ার চুক্তি পর্যালোচনা করবে

ঢাকা টেলিগ্রাফ: বাংলাদেশ থেকে ১৫ লাখ শ্রমিক নেওয়ার যে চুক্তি ছিল তা পর্যালোচনা করবে মালয়েশিয়া। এ ছাড়া বিদেশি শ্রমিকের নির্ভরতা কমিয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে দেশিয় শ্রমিকদের এবং বেতন ভাতা বাড়ানো হবে। আজ বৃহস্পতিবার ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোর্ট পরিদর্শন করে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী এম কুলাসেগারান।

সংবাদ মাধ্যম নিউ স্টেইটস টাইমস বলছে, দেশটির মানবসম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী এম কুলাসেগারান বলেছেন, বিদেশি শ্রমিকদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনতে চাইছে সরকার। আর সেই সঙ্গে স্থানীয়দের বেতন বাড়াতে চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই সব কিছুই পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।’

এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বিদেশি শ্রমিকদের দেশে পাঠানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এক্ষেত্রে কিছু সময় লাগবে। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের মধ্যে যারা বৈধ কাজ করছেন তাদেরকে দেশ ছাড়তে হবে না।’

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘এক সময় যে চাকরিগুলো বিদেশিরা করতেন সেখানে শূন্য পদ সৃষ্টিতে কাজ করবে সরকার। এসব শূন্যপদ পূরণ করে মালয়েশীয়দের নতুন করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। যদি আপনি নিউজিল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়া যান তাহলে সেখানে কোনো বিদেশি শ্রমিক পাবেন না। আমাদেরও তাই করতে হবে।’

২০১৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ সরকার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। এতে বলা হয়, তিন বছরের মধ্যে ১৫ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া।

গত ৯ মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৯৫৭ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা ন্যাশনাল ফ্রন্টের পতন হয়। ওই জোটের নেতৃত্বে ছিলেন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। নির্বাচনে মাহাথির মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন জোট ‘অ্যালায়েন্স অব হোপ’ জয়লাভ করে। এক সময় এই জোট থেকেই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন মাহাথির।

নাজিবের আমলে করা এই সমঝোতা চুক্তিকে আবার পর্যালোচনা করা হবে। চার দিন আগে এই মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান এম কুলাসেগারান। নির্বাচনের আগে মাহাথিরের দল অঙ্গীকার করেছিল বিদেশি শ্রমিকদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় কর্মশক্তিকে কাজে লাগানো।

ঈদে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট: বিক্রি শুরু ১ জুন

ঢাকা টেলিগ্রাফ: ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এবার ট্রেনের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু হবে ১ জুন থেকে। চলবে ৬ জুন পর্যন্ত। আর ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হবে ১০ জুন, চলবে ১৫ জুন পর্যন্ত। আজ বৃহস্পতিবার রেলভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, ১৬ জুন ঈদের সম্ভাব্য দিন ধরে ১ জুন থেকে টিকেট বিক্রির সূচি ঠিক করা হয়েছে।

সে হিসেবে ঈদে বাড়ি গমনেচ্ছু যাত্রীদের ১ জুন দেয়া হবে ১০ জুনের (রবিবার) টিকিট। ২ জুন দেয়া হবে ১১ জুনের (সোমবার), ৩ জুন দেয়া হবে ১২ জুনের (মঙ্গলবার), ৪ জুন দেয়া হবে ১৩ জুনের (বুধবার), ৫ জুন দেয়া হবে ১৪ জুনের (বৃহস্পতিবার) এবং ৬ জুন দেয়া হবে ১৫ জুনের (শুক্রবার) টিকিট।

আর ঈদ উদযাপন শেষে কর্মস্থলে ফেরত যাত্রীদের ১০ জুন দেয়া হবে ১৯ জুনের, ১১ জুনে দেয়া হবে ২০ জুনের, ১২ জুনে ২১ জুনের, ১৩ জুনে ২২ জুনের, ১৪ জুনে ২৩ জুনের এবং ১৫ জুনে দেওয়া হবে ২৪ জুনের ফিরতি টিকিট।

ঢাকার কমলাপুরের পাশাপাশি বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম সিলেট, খুলনা, যশোর ঈশ্বরদী, রাজশাহী, দিনাজপুর, লালমনিরহাটসহ বড় স্টেশনগুলো থেকেও অগ্রিম টিকেট বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছেন মুজিবুল হক।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অব্যাহত মাদকবিরোধী অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা টেলিগ্রাফ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘ভিশন-২০২১ ও ভিশন-২০৪১ বাস্তবায়ন করতে হলে যুব সমাজকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে হবে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সারা দেশে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি তিন হাজারের অধিক মাদক ব্যবসায়ীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।’

বুধবার দুপুরে র‌্যাব-৬ সদর দফতরে বনদস্যু ও জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। শেখ হাসিনার নির্দেশে সারা দেশে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, মাদকমুক্ত দেশ গড়তে আইন-শৃংখলা বাহিনীতে ঢেলে সাজানো হচ্ছে, খুব দ্রুত সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা দেশকে মাদকমুক্ত করবোই। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দেশকে জঙ্গি, মাদক ও জলদস্যু-বনদস্যুমুক্ত করতে হবে। আর এ প্রত্যয়ে র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিটি ইউনিট কঠোর অবস্থান নিয়ে কাজ করছে। অতি শিগগিরই সুন্দরবনকে জলদস্যু ও বনদস্যু মুক্ত ঘোষণা করা হবে।’

দীর্ঘদিনের দস্যুতার জীবন ছেড়ে স্বাভাবিক ও সুন্দর জীবনের প্রত্যয় নিয়ে খুলনার লবণচরাস্থ র‌্যাব-৬ কার্যালয়ে দুপুরে সুন্দরবনের ছয় কুখ্যাত জলদস্যু-বনদস্যু বাহিনীর ৫৭ সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। এরা হলেন- র‌্যাব-৬ এর আওতাধীন দাদা ভাই বাহিনীর ১৫ জন, হান্নান বাহিনীর ৯ জন এবং আমির আলী বাহিনীর ৭ জন। অপরদিকে র‌্যাব-৮ এর আওতাধীন সূর্য বাহিনীর ১০ জন, ছোট সামসু বাহিনীর ৯ জন এবং মুন্না বাহিনীর ৭ জন।

এসময় আগে র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণকারী সাবেক ৫৮ জন জলদস্যু ও বনদস্যুর প্রত্যেককে পুনর্বাসন জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত এক লাখ টাকা করে চেক প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মো. মোজাম্মেল হোসেন, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নব নির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ, নৌপুলিশের ডিআইজি শেখ মো. মারুফ হাসান, র‌্যাব-৮ এর অধিনায়ক আতিকা ইসলাম, খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. হাবিবুর রহমান এবং খুলনা জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন র‌্যাব-৬ এর পরিচালক খন্দকার রফিকুল ইসলাম। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মৎস ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, কেসিসির নব-নির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ, কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক আওরঙ্গজেব চৌধুরী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ছয়জন সদস্য। সূত্র: অনলাইন।

DH-RH

গত রাতেও বন্দুকযুদ্ধ: ৯ মাদক ব্যবসায়ী নিহত

ঢাকা টেলিগ্রাফ: মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত আছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতেও দেশের আট জেলায় অভিযান চালানোর সময় নয় ব্যক্তি তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ও পুলিশ।

এর মধ্যে কুষ্টিয়ায় দুজন, গাইবান্ধা একজন, জামালপুরে একজন, ফেনীতে একজন, ঠাকুরগাঁওয়ে একজন, রংপুরে একজন এবং কুমিল্লায় একজন নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। র‍্যাব ও পুলিশের পক্ষ থেকে আরো দাবি করা হয়েছে, নিহতরা সবাই মাদক ব্যবসায়ী। ‘বন্দুকযুদ্ধের’ সময় অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকে প্রতি রাতেই মাদক ব্যবসায়ীরা তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ অভিযান চলবে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে সারা দেশে অন্তত ৩৭ ব্যক্তি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত রোববার চারজন, সোমবার নয়জন এবং গতকাল মঙ্গলবার ১১ জন নিহত হয়েছেন। লাগাতার বন্দুকযুদ্ধের মধ্যে আজ বুধবার আরও নয়জন নিহতের খবর এলো।

এদিকে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র গত সোমবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২১ দিনে ২৭ ব্যক্তি তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বেশির ভাগই মাদক ব্যবসায়ী বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নিহতদের মধ্যে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) হাতে ১০ জন, পুলিশের হাতে আটজন এবং গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হাতে নয়জন ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। সূত্র: অনলাইন।

DH-RH

পদ্মাসেতু রেল সংযোগ প্রকল্প: একনেকে অনুমোদন

ঢাকা টেলিগ্রাফ: পদ্মা সেতু রেল সংযোগ (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পটি ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হবে। বাংলাদেশ রেলওয়ে ২০২৪ সাল নাগাদ এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করবে। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়। এছাড়া  পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পসহ মোট ৯৬ হাজার ২৩৪ কোটি ৭৭ টাকা ব্যয়ে ১৬টি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন হয় এ সভায়।

একনেক সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল বলেন, ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে সরকারি তহবিলের পরিমাণ বৃদ্ধি, বৈদেশিক সহায়তা হ্রাস এবং ভূমি অধিগ্রহণ, পরামর্শক সেবা, নির্মাণ কাজ ও বাস্তবায়ন ইউনিটের জন্য অন্যান্য খরচ বৃদ্ধি, যানবাহন ক্রয় খাতে খরচ কমে যাওয়া এবং প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত অতিরিক্ত দু’বছর বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পটি সংশোধন করা হয়েছে।’

প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৫২ হাজার ৬৮৫ কোটি ৫ লাখ টাকা, বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৪৩ হাজার ২২১ কোটি ১৭ লাখ এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হবে ৩২৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) প্রকল্প সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার মানন্নোয়নে ৩৮ হাজার ৩৯৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।’ একই সাথে মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, পিইডিপি-৪ প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে পাওয়া যাবে ২৫ হাজার ৫৯১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য হিসেবে বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ডিএফআইডি, অস্ট্রেলিয়ান এইড, কানাডীয় সিডা, সুইডিশ সিডা, ইউনিসেফ ও ইউএসএইচ ঋণ থেকে আসবে ১২ হাজার ৮০৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

একনেক অনুমোদিত অন্য প্রকল্পসমূহ হলো- রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প, কন্সট্রাকশন অব নিউ ১৩২/৩৩ কেভি অ্যান্ড ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশন আন্ডার ডিপিডিসি প্রকল্প, ১৪টি চিনিকলে বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) স্থাপন প্রকল্প, যশোরে ৫শ’ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল, কক্সবাজার, পাবনা, ও আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড জননেতা নুরুল হক আধুনিক হাসপাতাল প্রকল্প, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস-এর উন্নয়ন প্রকল্প, তথ্য কমিশন ভবন নির্মাণ প্রকল্প, বাংলাদেশ বেতার, সিলেট কেন্দ্র আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল সম্প্রচার যন্ত্রপাতি স্থাপন প্রকল্প।

এ ছাড়া আছে সাতক্ষীরা সড়ক ও সিটি বাইপাস সড়ককে সংযুক্ত করে সংযোগ সড়কসহ তিনটি লিংক রোড নির্মাণ প্রকল্প, ঢাকার তেজগাঁওয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের জন্য বহুতল আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প, আশুগঞ্জ অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার নদীবন্দর স্থাপন প্রকল্প, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর তীর ভূমিতে পিলার স্থাপন, তীর রক্ষা,ওয়াকওয়ে ও জেটিসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প, গুরুত্বপূর্ণ ১৯টি পৌরসভা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প,ঢাকা মহানগরীর ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং খাল উন্নয়ন প্রকল্প, পাঁচটি র‌্যাব ফোর্সেস ট্রেনিং স্কুল কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প।

DH-RH

যেসব কাজে সহায়তা করবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট

ঢাকা টেলিগ্রাফ: বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার রাতে। বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টা থেকে ৪টার মধ্যে যেকোনো সময় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য থেকে উৎক্ষেপণ করা হবে এটি। আর এর মাধ্যমে ৫৭তম স্যাটেলাইট সদস্য দেশের তালিকায় নাম লেখাবে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে স্যাটেলাইটটির উৎক্ষেপণ যান ফ্যালকন-৯-এর সফল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। কৃত্রিম এই উপগ্রহের মাধ্যমে দেশের টেলিযোগাযোগসহ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে থাকবে নিত্য নতুন সুবিধা।

ভূপৃষ্ঠ থেকে ২২ হাজার মাইল ওপরে মহাকাশের ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমায় অবস্থান করবে বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে দেশটির বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের ‘ফ্যালকন-৯’ রকেটে করে এটি পৌঁছাবে নির্ধারিত কক্ষপথে, উৎক্ষেপণের আট দিন পর। প্রায় দুই হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস। ৩ দশমিক ৭ টন ওজনের কৃত্রিম স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে বিশ্বে স্যাটেলাইট সদস্য দেশের মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় যুক্ত হলো বাংলাদেশ।

টেলিভিশন ও বেতার সম্প্রচার, ইন্টারনেট সেবাদান, ভি-স্যাটসহ ৪০ ধরনের সেবা দেবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে টেরিস্ট্রিয়াল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এটি সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন টেলি যোগাযোগব্যবস্থা বহাল রাখবে। এর আগে এসব সেবার জন্য দেশের টেলিভিশন চ্যানেল কিংবা টোলিযোগাযোগ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সিঙ্গাপুর, হংকসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্যাটেলাইট ব্যবহার করত। আর এসব সেবা এখন নিশ্চিত করবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা শুধু বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ই করব না, এই ট্রান্সপন্ডারগুলা বাইরে বিক্রির ফলে বাইরে থেকেও আরো বৈদেশিক মুদ্রা আসবে। আমরা আশা করি, স্যাটেলাইটের জীবনের অর্ধেক বয়সেই আমরা পুরোপুরি টাকাটা তুলে আনতে হবে। এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে শুধু ডাটা না, ডাটার সঙ্গে আমরা ভয়েসও দিতে পারব।’

প্রায় ১৫ বছর মিশনের কৃত্রিম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ কক্ষপথে যাওয়ার পর ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন থেকে শুরু করে বাংলাদেশ-ভারত হয়ে তাজিকিস্তান পর্যন্ত ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করবে মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থেকে ৪০ মেগাহার্টজ গতিতে। এর মধ্যে ২৬টি কেইউ ব্যান্ড এবং ১৪টি থাকবে সি ব্যান্ডের।

এদিকে, দেশের চাহিদা মিটিয়ে কৃত্রিম উপগ্রহটির ২০টি ট্রান্সপন্ডার থেকে ফ্রিকোয়েন্সি রপ্তানি করবে বাংলাদেশ।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষক আবু সাঈদ খান বলেন, ‘যে অঞ্চলে যতটুকু কাভারেজ আছে আমি সেটার দিকেই যদি নজর দেই : সবচেয়ে বড় কথা, বাংলাদেশের ভেতরে কিন্তু অত্যন্ত চমৎকার কাভারেজ আমরা পেতে যাচ্ছি। আমরা যদি সেদিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করি এবং তার ওপর ভিত্তি করে যদি আমাদের নীতিমালা প্রণয়ন করি, তাহলে কিন্তু আমরা সফল হতে পারব। ১৫ বছরের মধ্যে এই তিন হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ উঠিয়ে আনতে হবে এবং তার পরে লাভও করতে হবে। এই স্যাটেলাইটের বাণিজ্যিক সাফল্য না হবার কোনোই কারণ নাই।’

এদিকে, স্যাটেলাইটটি প্রাথমিকভাবে পরিচালনা করবে ফ্রান্সের থ্যালেস এলেনিয়া স্পেস। তবে পরবর্তী সময় এটি পরিচালনার জন্য তৈরি করা হয়েছে একটি শক্তিশালী দেশীয় জনশক্তি। অনলাইন।

ওআইসি নিশ্চুপ থাকতে পারে না

ঢাকা টেলিগ্রাফ: ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দুই দিনব্যাপী সম্মেলন উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই।’ সমঝোতা ও শান্তির বাণী বিশ্বময় ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। আজ শনিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ সম্মেলন শুরু হয়।

সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকটের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্পূর্ণ মানবিক কারণেই আমরা ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছি। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (স) মানবতার পাশে দাঁড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন। কাজেই মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যখন জাতিগত নির্মূলের শিকার তখন ওআইসি নিশ্চুপ থাকতে পারে না।

শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের জনগণে সমস্যা দ্রুত সমাধানে ওআইসি কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলেও আমি আশা করছি। আমরা পারস্পরিক সমঝোতা ও সহযোগিতা চাই্। যুদ্ধ চাই না। সমঝোতা ও শান্তির বাণী বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হবে।

৫৬টি ওআইসি সদস্য দেশের মধ্যে ৫২টি দেশের ৬০০ প্রতিনিধি এতে অংশ নিয়েছেন। এ ছাড়া ৪০ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত আছেন। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘টেকসই শান্তি, সংহতি ও উন্নয়নে ইসলামিক মূল্যবোধ’।