প্রমাণ হলে বদিকেও ছাড়া হবে না: ওবায়দুল কাদের

ঢাকা টেলিগ্রাফ: বদিকে সরকার ছাড় দিচ্ছে কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের করেন পাল্টা প্রশ্ন- বদি মাদকের গডফাদার প্রমাণ কি? তিনি বলেছেন, বদির মাদক সংশ্নিষ্টতা প্রমাণ করা গেলে তাকেও ছাড়া হবে না।

আওয়ামী লীগের এমপি আবদুর রহমান বদি দেশত্যাগে কোন সমস্যা দেখছেন না আওয়ামী লীগ সাধারণ ও সেতুমন্ত্রী সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। রোববার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মেট্রোরেলের প্যাকেজ-৭ এর চুক্তি সই অনুষ্ঠান শেষে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে মাদক বিরোধী অভিযান চলেছে। এতে অন্তত ১৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের দাবি, নিহতরা মাদক ব্যবসায়ী। তারা বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। তবে টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে পৌর কাউন্সিলর একরামুল হকের মৃত্যু মুহূর্তের অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই অভিযোগ করছেন বন্দুকযুদ্ধের নামে সন্দেহভাজনদের হত্যা করা হচ্ছে।

চলমান অভিযানে প্রাণহানীর ঘটনায় জাতিসংঘের অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম (ইউএনওডিসি) জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণের অধিকার রয়েছে, তা তারা করুক। বিদেশি বন্ধুরাও চাইলে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। কিন্তু কারো চাপে বাংলাদেশ নতি স্বীকার করবে না। কারো কথায় অভিযান বন্ধ হবে না।

একরামুলের মৃত্যুতে কেউ দোষী হয়ে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, একরাম আওয়ামী লীগের কর্মী। একরামুল তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হলে যারা তাকে দোষী সাবস্ত করেছে তাদের ছাড়া হবে না। মাদক বিরোধী অভিযানে প্রাণহানী বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন ১০ বিশিষ্ট নাগরিক। তাদের সমালোচনার জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, সমালোচনা করার অধিকার সকলেরই রয়েছে। তরুণ সমাজকে ধ্বংস করছে মাদক, তা ধ্বংস করতেই হবে।

প্যাকেজ-৭ এর চুক্তি : অনুষ্ঠানে মেট্রোরেলের (এমআরটি-৬) বৈদ্যুতিক সাব স্টেশন ও ট্রেনে বিদ্যুতে সরবরাহের লাইন নির্মাণ, চলন্ত সিড়ি নির্মাণ ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ভাড়া আদায়ে ব্যবস্থাপনা নির্মাণ কাজের চুক্তি সই হয়েছে। চার হাজার ৯৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে এসব কাজ করবে জাপান ও ভারতের যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মারুবেনি-লারসেন-টুবরু।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ওবায়দুল কাদের। উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা, জাপানের রাষ্ট্রদূত মাসাতো ওতানাবে, সড়ক নজরুল ইসলাম, মেট্রোরেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম,এ,এন ছিদ্দিক, প্রকল্প পরিচালক আফতাব উদ্দিন তালুকদার।

মালয়েশিয়া ১৫ লাখ শ্রমিক নেওয়ার চুক্তি পর্যালোচনা করবে

ঢাকা টেলিগ্রাফ: বাংলাদেশ থেকে ১৫ লাখ শ্রমিক নেওয়ার যে চুক্তি ছিল তা পর্যালোচনা করবে মালয়েশিয়া। এ ছাড়া বিদেশি শ্রমিকের নির্ভরতা কমিয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে দেশিয় শ্রমিকদের এবং বেতন ভাতা বাড়ানো হবে। আজ বৃহস্পতিবার ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোর্ট পরিদর্শন করে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী এম কুলাসেগারান।

সংবাদ মাধ্যম নিউ স্টেইটস টাইমস বলছে, দেশটির মানবসম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী এম কুলাসেগারান বলেছেন, বিদেশি শ্রমিকদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনতে চাইছে সরকার। আর সেই সঙ্গে স্থানীয়দের বেতন বাড়াতে চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই সব কিছুই পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।’

এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বিদেশি শ্রমিকদের দেশে পাঠানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এক্ষেত্রে কিছু সময় লাগবে। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের মধ্যে যারা বৈধ কাজ করছেন তাদেরকে দেশ ছাড়তে হবে না।’

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘এক সময় যে চাকরিগুলো বিদেশিরা করতেন সেখানে শূন্য পদ সৃষ্টিতে কাজ করবে সরকার। এসব শূন্যপদ পূরণ করে মালয়েশীয়দের নতুন করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। যদি আপনি নিউজিল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়া যান তাহলে সেখানে কোনো বিদেশি শ্রমিক পাবেন না। আমাদেরও তাই করতে হবে।’

২০১৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ সরকার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। এতে বলা হয়, তিন বছরের মধ্যে ১৫ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া।

গত ৯ মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৯৫৭ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা ন্যাশনাল ফ্রন্টের পতন হয়। ওই জোটের নেতৃত্বে ছিলেন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। নির্বাচনে মাহাথির মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন জোট ‘অ্যালায়েন্স অব হোপ’ জয়লাভ করে। এক সময় এই জোট থেকেই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন মাহাথির।

নাজিবের আমলে করা এই সমঝোতা চুক্তিকে আবার পর্যালোচনা করা হবে। চার দিন আগে এই মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান এম কুলাসেগারান। নির্বাচনের আগে মাহাথিরের দল অঙ্গীকার করেছিল বিদেশি শ্রমিকদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় কর্মশক্তিকে কাজে লাগানো।

ঈদে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট: বিক্রি শুরু ১ জুন

ঢাকা টেলিগ্রাফ: ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এবার ট্রেনের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু হবে ১ জুন থেকে। চলবে ৬ জুন পর্যন্ত। আর ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হবে ১০ জুন, চলবে ১৫ জুন পর্যন্ত। আজ বৃহস্পতিবার রেলভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, ১৬ জুন ঈদের সম্ভাব্য দিন ধরে ১ জুন থেকে টিকেট বিক্রির সূচি ঠিক করা হয়েছে।

সে হিসেবে ঈদে বাড়ি গমনেচ্ছু যাত্রীদের ১ জুন দেয়া হবে ১০ জুনের (রবিবার) টিকিট। ২ জুন দেয়া হবে ১১ জুনের (সোমবার), ৩ জুন দেয়া হবে ১২ জুনের (মঙ্গলবার), ৪ জুন দেয়া হবে ১৩ জুনের (বুধবার), ৫ জুন দেয়া হবে ১৪ জুনের (বৃহস্পতিবার) এবং ৬ জুন দেয়া হবে ১৫ জুনের (শুক্রবার) টিকিট।

আর ঈদ উদযাপন শেষে কর্মস্থলে ফেরত যাত্রীদের ১০ জুন দেয়া হবে ১৯ জুনের, ১১ জুনে দেয়া হবে ২০ জুনের, ১২ জুনে ২১ জুনের, ১৩ জুনে ২২ জুনের, ১৪ জুনে ২৩ জুনের এবং ১৫ জুনে দেওয়া হবে ২৪ জুনের ফিরতি টিকিট।

ঢাকার কমলাপুরের পাশাপাশি বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম সিলেট, খুলনা, যশোর ঈশ্বরদী, রাজশাহী, দিনাজপুর, লালমনিরহাটসহ বড় স্টেশনগুলো থেকেও অগ্রিম টিকেট বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছেন মুজিবুল হক।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অব্যাহত মাদকবিরোধী অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা টেলিগ্রাফ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘ভিশন-২০২১ ও ভিশন-২০৪১ বাস্তবায়ন করতে হলে যুব সমাজকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে হবে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সারা দেশে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি তিন হাজারের অধিক মাদক ব্যবসায়ীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।’

বুধবার দুপুরে র‌্যাব-৬ সদর দফতরে বনদস্যু ও জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। শেখ হাসিনার নির্দেশে সারা দেশে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, মাদকমুক্ত দেশ গড়তে আইন-শৃংখলা বাহিনীতে ঢেলে সাজানো হচ্ছে, খুব দ্রুত সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা দেশকে মাদকমুক্ত করবোই। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দেশকে জঙ্গি, মাদক ও জলদস্যু-বনদস্যুমুক্ত করতে হবে। আর এ প্রত্যয়ে র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিটি ইউনিট কঠোর অবস্থান নিয়ে কাজ করছে। অতি শিগগিরই সুন্দরবনকে জলদস্যু ও বনদস্যু মুক্ত ঘোষণা করা হবে।’

দীর্ঘদিনের দস্যুতার জীবন ছেড়ে স্বাভাবিক ও সুন্দর জীবনের প্রত্যয় নিয়ে খুলনার লবণচরাস্থ র‌্যাব-৬ কার্যালয়ে দুপুরে সুন্দরবনের ছয় কুখ্যাত জলদস্যু-বনদস্যু বাহিনীর ৫৭ সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। এরা হলেন- র‌্যাব-৬ এর আওতাধীন দাদা ভাই বাহিনীর ১৫ জন, হান্নান বাহিনীর ৯ জন এবং আমির আলী বাহিনীর ৭ জন। অপরদিকে র‌্যাব-৮ এর আওতাধীন সূর্য বাহিনীর ১০ জন, ছোট সামসু বাহিনীর ৯ জন এবং মুন্না বাহিনীর ৭ জন।

এসময় আগে র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণকারী সাবেক ৫৮ জন জলদস্যু ও বনদস্যুর প্রত্যেককে পুনর্বাসন জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত এক লাখ টাকা করে চেক প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মো. মোজাম্মেল হোসেন, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নব নির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ, নৌপুলিশের ডিআইজি শেখ মো. মারুফ হাসান, র‌্যাব-৮ এর অধিনায়ক আতিকা ইসলাম, খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. হাবিবুর রহমান এবং খুলনা জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন র‌্যাব-৬ এর পরিচালক খন্দকার রফিকুল ইসলাম। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মৎস ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, কেসিসির নব-নির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ, কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক আওরঙ্গজেব চৌধুরী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ছয়জন সদস্য। সূত্র: অনলাইন।

DH-RH

বেসিক ব্যাংক দুর্নীতি মামলা: তদন্ত কর্মকর্তাদের তলব

ঢাকা টেলিগ্রাফ: বেসিক ব্যাংক দুর্নীতি মামলাগুলোর সব তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ৩০ মে সব মামলার নথি নিয়ে তাদেরকে হাজির হতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আজ বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

খুরশীদ আলম বলেন, আইন অনুযায়ী ১৮০ দিনের মধ্যে এসব মামলার তদন্ত শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু প্রায় আড়াই বছর হয়ে গেছে। এখনো তদন্ত শেষ হয়নি। এর কারণ ব্যাখ্যার জন্য তাদের তলব করা হয়েছে। বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে ২০১৫ সালের ২১-২৩ সেপ্টেম্বর ১৫৬ জনকে আসামি করে মতিঝিল, পল্টন ও গুলশান থানায় ৫৬টি মামলা করে দুদক।

১৫৬ জন আসামির মধ্যে বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তা ২৬ জন। বাকি ১৩০ জন আসামি ঋণগ্রহীতা ৫৪ প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী ও সার্ভে প্রতিষ্ঠানের। এর মধ্যে ব্যাংকের সাবেক এমডি কাজী ফখরুল ইসলামকে ৪৮টি, ডিএমডি ফজলুস সোবহানকে ৪৭টি, কনক কুমার পুরকায়স্থকে ২৩টি এবং ডিএমডি এ মোনায়েম খানকে ৩৫টি মামলায় আসামি করে দুদক। পরবর্তীতে আরও মামলা হয়। সূত্র: ইত্তেফাক।

DH-RH

ডিএসই’তে নিম্নমুখী প্রবণতায় লেনদেন শেষ

ঢাকা টেলিগ্রাফ: সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে (বুধবার, ২৩ মে) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতায় লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন সূচকের পাশাপাশি কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। আর টাকার অংকে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। সারাদিনে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪৮৮ কোটি ৬০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। মূলত ব্লক মার্কেটে বড় লেনদেনের কারণে ডিএসই’র সার্বিক লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আজ লেনদেন শেষে শেষে ডিএসই’র মূল সূচক আগের দিনের চেয়ে ৩০ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫৩৬১ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১২৫১ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১৯৮৮ পয়েন্টে। সারাদিনে লেনদেন হওয়া ৩২৯টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৬০টির, কমেছে ২৩০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৯টির।

ডিএসই-তে আজ লেনদেনের শীর্ষে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। কোম্পানিটির মোট ২৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। একই সময়ে শেয়ারটির দর বেড়েছে ৭.৭৭ শতাংশ। গত কয়েক কার্যদিবসে দর বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং। কোম্পানিটির ২৭ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এছাড়া বিএসআরএম লি:, কুইন সাউথ, লিগ্যাসি, ইউনাইটেড পাওয়ার লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করছে।

এদিকে পতনের বাজারে আজ ডিএসই-তে দর বৃদ্ধির শীর্ষে রয়েছেেইস্টার্ন ক্যাবল, ইন্ট্রাকো, শ্যামপুর সুগার, লিগ্যাসি, ফাইনফুডস, ব্র্যাক ব্যাংক। এছাড়া আজ অধিকাংশ ব্যাংকই শেয়ার দর হারিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে যমুনা ব্যাংক, এসআইবিএল, এক্সিম ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক প্রভৃতি।

এছাড়া আজ ডিএসই-তে ব্লক মার্কেটে মোট ৭২ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রেনেটার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। কোম্পানিটির মোট ৬২ কোটি ২৫ লাখ টাকায় ৫ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

অন্যদিকে, সারাদিনে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সাধারণ মূল্য সূচক সিএসইএক্স ৩০ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১০ হাজার ৩৩ পয়েন্টে। দিনভর লেনদেন হওয়া ২১৩টি কোম্পানির ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৫৭টির, কমেছে ১৩৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২১টির। আর এ দিন মোট লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৫৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকার শেয়ার।

গত রাতেও বন্দুকযুদ্ধ: ৯ মাদক ব্যবসায়ী নিহত

ঢাকা টেলিগ্রাফ: মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত আছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতেও দেশের আট জেলায় অভিযান চালানোর সময় নয় ব্যক্তি তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ও পুলিশ।

এর মধ্যে কুষ্টিয়ায় দুজন, গাইবান্ধা একজন, জামালপুরে একজন, ফেনীতে একজন, ঠাকুরগাঁওয়ে একজন, রংপুরে একজন এবং কুমিল্লায় একজন নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। র‍্যাব ও পুলিশের পক্ষ থেকে আরো দাবি করা হয়েছে, নিহতরা সবাই মাদক ব্যবসায়ী। ‘বন্দুকযুদ্ধের’ সময় অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকে প্রতি রাতেই মাদক ব্যবসায়ীরা তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ অভিযান চলবে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে সারা দেশে অন্তত ৩৭ ব্যক্তি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত রোববার চারজন, সোমবার নয়জন এবং গতকাল মঙ্গলবার ১১ জন নিহত হয়েছেন। লাগাতার বন্দুকযুদ্ধের মধ্যে আজ বুধবার আরও নয়জন নিহতের খবর এলো।

এদিকে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র গত সোমবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২১ দিনে ২৭ ব্যক্তি তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বেশির ভাগই মাদক ব্যবসায়ী বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নিহতদের মধ্যে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) হাতে ১০ জন, পুলিশের হাতে আটজন এবং গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হাতে নয়জন ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। সূত্র: অনলাইন।

DH-RH

চলেই গেল মুক্তামনি!

ঢাকা টেলিগ্রাফ: রক্তনালীতে টিউমার আক্রান্ত সাতক্ষীরার বহুল আলোচিত মুক্তামনি অবশেষে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে শেষ পর্যন্ত চলেই গেল। আজ (বুধবার) সকাল সোয়া ৮ টার দিকে মুক্তামনি তার নিজ বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামারবায়সা গ্রামে মারা যায়। মুক্তামনির বাবা ইব্রাহিম হোসেন তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জাকামারবায়সা গ্রামের মুদি দোকানি ইব্রাহিম হোসেনের মেয়ে ১৩ বছরের মুক্তামনির দেহের দেড় বছর বয়সে একটি মার্বেলের মতো গোটা দেখা যায়। সেটি পরে বড় আকার ধারণ করে। কয়েক বছর আগে থেকে তার আক্রান্ত ডান হাতটি একটি গাছের ডালের আকার ধারণ করে পচে উঠতে থাকে।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে মুক্তামনির রোগের কথা প্রচারিত হলে সরকারি উদ্যোগে তাকে ২০১৭ সনের ১১ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল।

টানা ছয় মাসের চিকিৎসায় খানিকটা উন্নতি হওয়ায় ২০১৭ সনের ২২ ডিসেম্বর মুক্তামনিকে এক মাসের ছুটিতে বাড়ি পাঠানো হয়। বাড়িতে আসার পর থেকে তার অবস্থা ক্রমেই অবনতির দিকে যেতে থাকে। তার দেহে নতুন করে পচন ধরে। পোকা জন্মায়। এমনকি রক্তও ঝরে। তার ওষুধপত্র বন্ধ হয়ে যায়। দিনে একবার করে তার ড্রেসিং করা হতো। মুক্তামনির বাবা ইব্রাহিম হোসেন জানান, আজ বুধবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে মুক্তা মারা যায়।

পদ্মাসেতু রেল সংযোগ প্রকল্প: একনেকে অনুমোদন

ঢাকা টেলিগ্রাফ: পদ্মা সেতু রেল সংযোগ (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পটি ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হবে। বাংলাদেশ রেলওয়ে ২০২৪ সাল নাগাদ এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করবে। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়। এছাড়া  পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পসহ মোট ৯৬ হাজার ২৩৪ কোটি ৭৭ টাকা ব্যয়ে ১৬টি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন হয় এ সভায়।

একনেক সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল বলেন, ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে সরকারি তহবিলের পরিমাণ বৃদ্ধি, বৈদেশিক সহায়তা হ্রাস এবং ভূমি অধিগ্রহণ, পরামর্শক সেবা, নির্মাণ কাজ ও বাস্তবায়ন ইউনিটের জন্য অন্যান্য খরচ বৃদ্ধি, যানবাহন ক্রয় খাতে খরচ কমে যাওয়া এবং প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত অতিরিক্ত দু’বছর বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পটি সংশোধন করা হয়েছে।’

প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৫২ হাজার ৬৮৫ কোটি ৫ লাখ টাকা, বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৪৩ হাজার ২২১ কোটি ১৭ লাখ এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হবে ৩২৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) প্রকল্প সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার মানন্নোয়নে ৩৮ হাজার ৩৯৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।’ একই সাথে মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, পিইডিপি-৪ প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে পাওয়া যাবে ২৫ হাজার ৫৯১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য হিসেবে বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ডিএফআইডি, অস্ট্রেলিয়ান এইড, কানাডীয় সিডা, সুইডিশ সিডা, ইউনিসেফ ও ইউএসএইচ ঋণ থেকে আসবে ১২ হাজার ৮০৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

একনেক অনুমোদিত অন্য প্রকল্পসমূহ হলো- রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প, কন্সট্রাকশন অব নিউ ১৩২/৩৩ কেভি অ্যান্ড ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশন আন্ডার ডিপিডিসি প্রকল্প, ১৪টি চিনিকলে বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) স্থাপন প্রকল্প, যশোরে ৫শ’ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল, কক্সবাজার, পাবনা, ও আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড জননেতা নুরুল হক আধুনিক হাসপাতাল প্রকল্প, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস-এর উন্নয়ন প্রকল্প, তথ্য কমিশন ভবন নির্মাণ প্রকল্প, বাংলাদেশ বেতার, সিলেট কেন্দ্র আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল সম্প্রচার যন্ত্রপাতি স্থাপন প্রকল্প।

এ ছাড়া আছে সাতক্ষীরা সড়ক ও সিটি বাইপাস সড়ককে সংযুক্ত করে সংযোগ সড়কসহ তিনটি লিংক রোড নির্মাণ প্রকল্প, ঢাকার তেজগাঁওয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের জন্য বহুতল আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প, আশুগঞ্জ অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার নদীবন্দর স্থাপন প্রকল্প, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর তীর ভূমিতে পিলার স্থাপন, তীর রক্ষা,ওয়াকওয়ে ও জেটিসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প, গুরুত্বপূর্ণ ১৯টি পৌরসভা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প,ঢাকা মহানগরীর ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং খাল উন্নয়ন প্রকল্প, পাঁচটি র‌্যাব ফোর্সেস ট্রেনিং স্কুল কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প।

DH-RH

ওআইসি নিশ্চুপ থাকতে পারে না

ঢাকা টেলিগ্রাফ: ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দুই দিনব্যাপী সম্মেলন উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই।’ সমঝোতা ও শান্তির বাণী বিশ্বময় ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। আজ শনিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ সম্মেলন শুরু হয়।

সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকটের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্পূর্ণ মানবিক কারণেই আমরা ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছি। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (স) মানবতার পাশে দাঁড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন। কাজেই মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যখন জাতিগত নির্মূলের শিকার তখন ওআইসি নিশ্চুপ থাকতে পারে না।

শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের জনগণে সমস্যা দ্রুত সমাধানে ওআইসি কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলেও আমি আশা করছি। আমরা পারস্পরিক সমঝোতা ও সহযোগিতা চাই্। যুদ্ধ চাই না। সমঝোতা ও শান্তির বাণী বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হবে।

৫৬টি ওআইসি সদস্য দেশের মধ্যে ৫২টি দেশের ৬০০ প্রতিনিধি এতে অংশ নিয়েছেন। এ ছাড়া ৪০ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত আছেন। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘টেকসই শান্তি, সংহতি ও উন্নয়নে ইসলামিক মূল্যবোধ’।