বিএনপির ১৭ নেতাকর্মী গ্রেফতার

ঢাকা টেলিগ্রাফ: রাজধানীর বাংলামোটর থেকে বিএনপির ১৭ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার বিকেলে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব। বিষয়টি নিশ্চিত করে রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার জানান, বাংলামোটর রুপায়ন টাওয়ারে বৈঠক করার সময় তাদের আটক করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বৈঠকের কারণ জানার চেষ্টা চলছে। এছাড়া আটককৃতদের অধিকাংশই বিভিন্ন মামলার আসামি।

গ্রেফতারকৃতের মধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শামসুল হুদা, সহসভাপতি ইউনুছ মৃধা, যুগ্ম সম্পাদক কে এম জোবায়ের, আলমগীর হোসেন, আ ন ম সাইফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম আছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় রোববার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সারাদেশে বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার ধারাবাহিকতায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির নেতাদের গ্রেফতারর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কারাবন্দি খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে চলমান আন্দোলনকে দমন করার উদ্দেশ্যেই নেতা-কর্মীদের ওপর জুলুম চালানো হচ্ছে এবং গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এসব নিপীড়ন করে সরকার যেমন জনগণের রোষ থেকে রেহাই পাবে না, তেমনি দেশনেত্রীর মুক্তি আন্দোলনকেও বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। বিবৃতিতে আটক নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিও জানান বিএনপি মহাসচিব। সূত্র: অনলাইন।

তারেক রহমান পাসপোর্ট পাবেন না, দেশে ফিরতে পারবেন

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মেয়াদ শেষে বাংলাদেশের পাসপোর্ট জমা দিয়ে দিলেও দূতাবাসের মাধ্যমে ট্রাভেল পাস (ভ্রমণ ভিসা) নিয়ে দেশে ফিরতে পারবেন বলে মন্তব্য করেছে পাসপোর্ট অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ (ডিআইপি)।

‘বর্তমানে তারেক রহমান বাংলাদেশি পাসপোর্টবিহীন অবস্থায় বিদেশে অবস্থান করছেন’—এমন তথ্য জানিয়ে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মো. মাসুদ রেজওয়ান বলেন, ‘তারেক রহমান ২০০৮ সালে যখন বিদেশ যান, তখন হাতে লেখা পাসপোর্টের মেয়াদ ছিল ২০১০ সাল পর্যন্ত। এরপর তিনি ২০১৪ সাল পর্যন্ত পাসপোর্টের মেয়াদ বৃদ্ধি করেন। তার পরে আর মেয়াদ বৃদ্ধি করেননি।’

‘এরপর তারেক রহমান যুক্তরাজ্যের এমবাসিতে পাসপোর্ট জমা দেন। তারপর সেটা আমাদের হাতে আসে। সুতরাং তিনি এখন বাংলাদেশি পাসপোর্টবিহীন অবস্থায় বিদেশে অবস্থান করছেন।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পাসপোর্ট নিয়ে যখন আলোচনা তুঙ্গে, তখন পাসপোর্ট অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে প্রতিষ্ঠানটির এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেওয়া হয়।

এ আলোচনার সূত্রপাত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। গত রোববার লন্ডনে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শাহরিয়ার আলম জানান, চার বছর আগেই পাসপোর্ট হস্তান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন তারেক রহমান।

তিনি আরো জানান, ব্রিটিশ হোম অফিস ২০১৪ সালের ২ জুন তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানের পাসপোর্ট যুক্তরাজ্যে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠিয়ে দেয়। ফলে এখন বাংলাদেশ ভ্রমণের আইনি কোনো কাগজপত্র তাঁদের কাছে নেই।

পরে শাহরিয়ার আলমের বক্তব্য খণ্ডন করে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয় বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন বরেণ্য রাজনীতিকের মতো তাঁর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন এবং তিনি সেটা পেয়েছেন।’

তারেক রহমান সুস্থ হলে এবং দেশে আসতে চাইলে তিনি আবার পাসপোর্ট ফেরত চেয়ে আবেদন করবেন। সেটি তিনি করতে পারবেন। সুতরাং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যে তথ্য দিয়েছেন, তা মোটেও সঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তারেক রহমানের পাসপোর্ট ও নাগরিকত্বের বিষয়ে যে চিঠি দিয়েছেন, এটি অত্যন্ত রহস্যজনক। কারণ এ চিঠিতে ১৩টি মারাত্মক ভুল আছে, যা ব্রিটিশরা কোনোভাবেই করতে পারেন না।’

এই পরিপ্রেক্ষিতেই আজ পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ‘এখন আবেদন করলেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পাসপোর্ট পাবেন না। তবে তিনি চাইলে ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরতে পারবেন।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পাসপোর্ট না পাওয়ার বিষয়ের ব্যাখ্যা দিয়ে মেজর জেনারেল মো. মাসুদ রেজওয়ান বলেন, ‘পাসপোর্ট আদেশ ১৯৭৩ অনুযায়ী, যেকোনো আবেদনকারী দরখাস্ত করার তারিখ থেকে তার আগের পাঁচ বছরের মধ্য যদি সে দুই বছরের জন্য যদি দণ্ডিত হয়ে থাকেন, তাহলে আমরা তাঁকে পাসপোর্ট দেবো না।’

‘এ ছাড়া কোনো আবেদনকারী যদি বাংলাদেশে কোনো ফৌজদারি আদালতে বিচারাধীন মামলার ক্ষেত্রে হাজিরা দিচ্ছেন না কিংবা হাজিরা না দেওয়ার চেষ্টা করেন অথবা আদলত থেকে বাংলাদেশের বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ওপর ইনজাংশন জারি করা হয়; তাহলেও আমরা তাঁকে পাসপোর্ট দিতে পারব না। তবে কোনো আসামি যদি সাজা পাওয়ার আগেই পাসপোর্ট নিয়ে নেন, তাহলে তাঁর পাসপোর্ট ফেরত নেওয়া হয় না। কিন্তু তাঁকে দেশের বাইরে যেতেও দেওয়া হবে না।’

তবে পাসপোর্টের সঙ্গে দেশের নাগরিকত্বের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও মন্তব্য করেন পাসপোর্ট অধিদপ্তরের শীর্ষ এ কর্মকর্তা।

তারেক রহমানের লিগ্যাল নোটিশের জবাব দেবেন প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা টেলিগ্রাফ: স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েসহ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান চার বছর আগেই ব্রিটিশ সরকারের কাছে তাঁদের পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, এ থেকে বোঝা যায় তাঁদের বাংলাদেশের নাগরিকত্বের প্রয়োজন নেই।

আজ সোমবার রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। বার্তা সংস্থা ইউএনবি এই খবর জানিয়েছে।

শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘তিনি (তারেক রহমান) কী পাসপোর্ট নবায়ন করতে চেয়েছেন? বা এর মেয়াদ বাড়াতে চেয়েছেন? তিনি তো চাইলে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ দূতাবাসে তাঁদের পাসপোর্ট হস্তান্তর করতে পারতেন। তবে সেটি না করে তিনি পাসপোর্ট যুক্তরাজ্যের হোম অফিসে জমা দিয়েছেন। এর অর্থ কী? একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে আমি মনে করি, এটা জাতীয়তাকে বা নাগরিকত্বকে অস্বীকার করা।’

ফৌজদারি আইনে সাজাপ্রাপ্ত একজন আসামি তাঁকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে মন্তব্য করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিষয়টিতে মজার হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি আইনগতভাবেই বিষয়টির মোকাবিলা করবেন। তিনি বলেন, কারণ তাঁর কাছে তারেক রহমানের পাসপোর্ট জমা দেওয়ার বিষয়ে সব ধরনের তথ্য প্রমাণ আছে।

শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘এটা জেনে ভালো লাগছে যে বিএনপির আবারো বাংলাদেশের আইনের প্রতি বিশ্বাস ফিরে এসেছে।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, ব্রিটিশ হোম অফিস ২০১৪ সালের ২ জুন তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানের পাসপোর্ট যুক্তরাজ্যে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠিয়ে দেয়। ফলে এখন বাংলাদেশ ভ্রমণের আইনী কোনো কাগজপত্র তাঁদের কাছে নেই।

এর আগে লন্ডনের স্থানীয় সময় রোববার যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শাহরিয়ার আলম জানান, চার বছর আগেই পাসপোর্ট হস্তান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন তারেক রহমান।

এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আজ দুপুরে তারেক রহমানের পক্ষে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল রেজিস্ট্রি ডাকযোগে প্রতিমন্ত্রী, দৈনিক কালের কণ্ঠ ও বাংলাদেশে প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদককে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।

নোটিশে ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন’ এ খবর ‘ভিত্তিহীন’ দাবি করে তা প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে।

আগামী ১০ দিনের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এ বক্তব্য রাখা হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই এই বক্তব্য, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বক্তব্য। দশ দিনের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় তাদের সবার বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে।’ সূত্র: অনলাইন।

কোটা ব্যবস্থা বাতিল হচ্ছে না

ঢাকা টেলিগ্রাফ: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধীসহ অন্যান্য কোটাও থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম।

অন্যদিকে, সরকারি চাকরিতে একটি অর্থবহ কোটা ব্যবস্থা রাখার পক্ষে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. সা’দত হোসেন।

কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের মুখে গত বুধবার সংসদে সরকারি চাকরিতে কোনো কোটা থাকার দরকার নেই বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কোটা ব্যবস্থা পুরোপুরি তুলে দেয়ার কথায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। আন্দোলনকারীরা এ বিষয়ে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানায়। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম সাংবাদিকদের জানান শিগগিরই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হবে।

১৯৮৫ সালে মেধা তালিকা থেকে ৪৫ শতাংশ, নারী কোটায় ১০ শতাংশ, জেলা কোটায় ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটায় ৫ শতাংশ এবং মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৩০ শতাংশ নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়। ১৯৯৭ সালে এই কোটা ব্যবস্থাকে সম্প্রসারিত করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের এর আওতাভুক্ত করা হয়। যোগ হয় ১ শতাংশ প্রতিবন্ধী কোটাও।

বর্তমানে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা, নারী, জেলা, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী মিলিয়ে ৫৬ শতাংশ কোটা রয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল তা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা।

এদিকে, সরকারি চাকরিতে একটি অর্থবহ কোটা ব্যবস্থা থাকা উচিত বলে মনে করেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ড. সা’দত হোসেন।

কোন অশুভ শক্তি যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে

ভাষা ও ঐতিহ্যের উপর আঘাতকারী কোন অশুভ শক্তি যেন ক্ষমতায় না আসতে পারে সেজন্য সকলে সজাগ থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

আজ শনিবার সকালে, নববর্ষ উপলক্ষ্যে গণভবনে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ, সহযোগি ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় এ কথা বলেন তিনি।

এসময় শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ উপমহাদেশের ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র। এদেশের মানুষকে বারবার অশুভ শক্তি বাধাগ্রস্ত করতে চেয়েছে। কিন্তু বাঙালি জানে কি করে অশুভ শক্তিকে রুখ দিতে হয়। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা নববর্ষ উদযাপন করি। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বৈশাখী ভাতা চালু করা হয়েছে। প্রবাসীরাও নানা অনুষ্ঠানে নতুন বছরকে বরণ করে নেন।

বাংলাদেশকে অসাম্প্রদায়িক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলব। সকল বাঙালি ঐক্যবদ্ধভাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ১৯৯২ সালে আমরা ১৪০০ বঙ্গাব্দকে বরণ করতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু সেখানে তৎকালীন খালেদা জিয়া সরকার বাঁধা দেয়। আমরা কবি সুফিয়া কামালকে নিয়ে সেসব বাধা উপেক্ষা করে রমনা পার্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নতুন শতাব্দিকে স্মরণ করি।

শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে অতিথিদের জন্য বাঙালি খাবার পরিবেশন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনানুযায়ী কোটা বাতিলের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি

কোটা বাতিলের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনানুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারি হবে বলে জানালেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এ কথা জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান। এ সময় তিনি বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এখন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার অপেক্ষায় আছে। এটি নিয়ে তাড়াহুড়োর কিছু নেই।

এছাড়া, কোটা বাতিল সংক্রান্ত প্রস্তাবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী বিষয়ে সুপারিশ করা হবে বলেও জানান, মোজাম্মেল হক খান।

কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে গত রবিবার থেকে চলা দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলনের মধ্যেই বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা পদ্ধতি তুলে দেয়ার ঘোষণা দেন।

সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোটা নিয়ে যখন এতকিছু, তখন কোটাই থাকবে না। কোনো কোটার দরকার নেই। কোটা পদ্ধতি তুলে দিলাম। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সবাই চাকরিতে আসবে। আর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের চাকরির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে’।

প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে চলমান আন্দোলন স্থগিত করার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

এ সময় তারা কোটা পদ্ধতি বাতিল করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে তারা দ্রুত সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করার আহ্বান জানান।

ক্ষুব্ধ হয়ে আবারও কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া-না-যাওয়া নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে একটা বিভক্তি তৈরি হলেও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর এক উক্তিতে ক্ষুব্ধ হয়ে আবার এক হয়ে গেছেন তারা। যে নেতারা সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সাথে বৈঠক করার পর আন্দোলন স্থগিত করেছিলেন – তারা এখন বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

এই নাটকীয় মোড় পরিবর্তন ঘটেছে মঙ্গলবার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দিনের চেহারাই ছিল অন্যরকম। দিনের প্রথম দিকে সেখানে চলছিল কোটা-সংস্কার প্রশ্নে সরকারের সাথে সমঝোতার পক্ষে বিপক্ষে সমাবেশ আর পাল্টা সমাবেশ।

রোববার ছাত্র অধিকার পরিষদের যে নেতারা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেছিলেন তারা সরকারের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে বিক্ষোভ স্থগিত করেছিলেন। কিন্তু এ সমঝোতা বিক্ষোভরত ছাত্রদের একাংশ মেনে না নিলে দৃশ্যত ছাত্র অধিকার পরিষদেই একটা বিভক্তি দেখা দেয়।

মঙ্গলবার সকালে আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্তের বিরোধী একদল শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নেন। এদের মধ্যে একজন ছাত্রী বলছিলেন, সরকারের বক্তব্যে তারা ভরসা পাচ্ছেন না এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যেতে চান। তারা দাবি বাস্তবায়নে সরকারের এক মাস সময় নেয়া নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন।

মন্ত্রীর সাথে আলোচনাকারী নেতাদের একজন মোহাম্মদ উজ্জ্বল বলেন, তারা প্রধানমন্ত্রী আশ্বাসের ওপর আস্থা রেখে আন্দোলন স্থগিত করেছেন। যারা এর পরও আন্দোলন করছে তাদের ভিন্ন কোন উদ্দেশ্য থাকতে পারে, এর মধ্যে বিভিন্ন চক্রান্ত ঢুকে গেছে বলে মনে হচ্ছে।

কিন্তু আন্দোলন চালানোর পক্ষের ছাত্রদের একজন নেতা এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তাদের অরাজনৈতিক আন্দোলনকে রাজনৈতিক চেহারা দেবার চেষ্টা হচ্ছে।

মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে পাল্টা সমাবেশ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থক ছাত্রলীগ। তাদের নেতারা বলছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ভিসির বাসভবনে হামলা ও নানা রকম গুজব ছড়ানোর পেছনে ষড়যন্ত্র আছে।

কিন্তু বিকেলে দেখা যায় পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন। সরকারের মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর এই আন্দোলন সম্পর্কে সংসদে দেয়া এক বক্তব্যে ছাত্রদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

যারা আন্দোলন স্থগিত করেছিলেন – তারাই আবার আন্দোলনরতদের সাথে মিলে গিয়ে আন্দোলনের নেতৃত্ব নিয়ে নেন। ফলে ছাত্র অধিকার পরিষদে আগে একটা বিভক্তি তৈরি হলেও মতিয়া চৌধুরীর বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে আবার তারা এক হয়ে গেছেন।

ছাত্র পরিষদের এক নেতা মোহাম্মদ রাশেদ খান বিবিসি বাংলাকে বলেন, তারা সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সাথে বৈঠকের পর সরকারি আশ্বাসের ভিত্তিতে আন্দোলণ স্থগিত করেছিলেন, কিন্তু মতিয়া চৌধুরীর বক্তব্যে তারা ক্ষুব্ধ।

তারা দাবি করেন, মতিয়া চৌধুরীকে বিকেল পাঁচটার মধ্যে এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করতে হবে।

শেষ খবর পর্যন্ত মতিয়া চৌধুরীর দিক থেকে অবশ্য কোনো দুঃখ প্রকাশের খবর আসেনি।

এ ছাড়া অর্থমন্ত্রী’র একটি বক্তব্যও ছাত্রদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে – যাতে তিনি বলেন, কোটা সংস্কারের ব্যাপারটা বাস্তবায়নের প্রশ্ন আসবে বাজেটের পর।

এ নিয়ে ছাত্র নেতারা বলছেন, তাদের মধ্যে সরকারের অবস্থান নিয়েই সংশয় তৈরি হচ্ছে – কারণ সরকার একদিকে ছাত্রনেতাদের আশ্বাস দিচ্ছেন, অন্যদিকে সিনিয়র মন্ত্রীরা আন্দোলনকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দিচ্ছেন।

ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতারা বলছেন, সে কারণেই তারা আবার আন্দোলনে ফিরে গেছেন।

তারা বলছেন, এখন প্রধানমন্ত্রীকে ঘোষণা দিতে হবে যে তাদের এই দাবির ব্যাপারে কি ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। এটা না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। তারা ঘোষণা করেন, ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট এবং ক্লাস বর্জন করা হবে।

এ ছাড়া প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যে সাতটা পর্যন্ত ক্যাম্পাসগুলোতে অবস্থান এবং অবরোধ পালন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে

প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কোটা সংস্কারের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা জানান তারা।

আন্দোলনকারীরা জানান, কোটা সংস্কারের দাবির পাশাপাশি আরো চারটি ইস্যুর কারণে তারা আবারো মাঠে নামতে বাধ্য হয়েছে। এগুলো হলো- দেশের ৯৮ শতাংশ সাধারণ ছাত্রছাত্রীকে রাজাকারের বাচ্চা বলার পরও মতিয়া চৌধুরীর ক্ষমা না চাওয়া, অর্থমন্ত্রীর আজকের সাংঘর্ষিক বক্তব্য, আটককৃতদের ছেড়ে না দেওয়া এবং আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব না নেয়া।

এর আগে সকালে এক সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলনকারীরা বিকলে পাঁচটার মধ্যে কোটা সংস্কার নিয়ে জাতীয় সংসদে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিতে বলেন। কিন্তু আন্দোলনকারীদের কথায় সাড়া দেননি কৃষিমন্ত্রী। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিকেলে এই সংবাদ সম্মেলন করেন তাঁরা।

আন্দোলনকারীরা বলেন, সচিবালয়ে সরকারের সঙ্গে বৈঠকের এক দিন পরই অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাজেটের পরে কোটা সংস্কারে হাত দেওয়া হবে। তারা এমন দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া মেনে নেবে না। সারা দেশে অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে দেশের সব কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করার আহ্বান জানান আন্দোলনকারীরা।

খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে আগামীতে কোনো নির্বাচন হবে না

বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে আগামীতে কোনো নির্বাচন হবে না এবং হতে দেয়া হবে না বলে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট জেলা রেজিস্ট্রারি মাঠে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে তারা এই হুঁশিয়ারি দেন। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি।

নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠের চারপাশ লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ক্ষমতাসীন সরকার ভেবেছিল বেগম খালেদা জিয়াকে জেল খানায় বন্দি রেখে বিএনপিকে দুর্বল করা যাবে। কিন্তু তাদের সেই আশা ব্যুমেরাং হয়েছে। তিনি সরকারকে অবিলম্বে সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়ে বলেন, আমাদের ‘এক দফা এক দাবি, স্বৈরাচার তুই কবে যাবি?’

‘এক দফা এক দাবি, হাসিনা তুই কবে যাবি?’ ‘শেখ হাসিনার সময় শেষ, খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ’। দলের নেতাকর্মীদেরকে আগামীদিনে আন্দোলনের জন্য আবারো প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমেই বেগম খালেদ জিয়াকে মুক্ত করা হবে এবং তার নেতৃত্বেই বিএনপি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। তাকে ছাড়া দেশে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।

শিক্ষার্থীদের কোন ভ্যাট আরোপ হবে না: প্রধানমন্ত্রী

এই মুহূর্তে শিক্ষায় ভ্যাট না বসানোর কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় এক অনির্ধারিত আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। সভা শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

মুস্তফা কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে শিক্ষায় ভ্যাট বসানো হবে না। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কিছুতেই ভ্যাট নেওয়া যাবে না।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনা শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশনি ফির ওপর কর আরোপ হবে। ছাত্রদের কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকরা কিভাবে তা আদায় করবে সেটা তাদের বিষয়। আমরা এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেব না।