রোহিঙ্গা বাঙ্গালী হত্যা ও বাংলাদেশের ব্যর্থতা

 রোহিঙ্গারা প্রাচীনকাল থেকেই আরাকানে স্থায়ীভাবে বাস করে আসছে। তারা বহু আগ থেকে বাংলায় কথা বলে। প্রাসঙ্গিক লিংক- (https://www.hrw.org/reports/2000/burma/burm005-01.htm)| তাদের ব্যবহৃত ভাষা একটু ভিন্ন মনে হলেও, তা বাংলা। বাংলাদেশেও অঞ্চলভেদে বাংলাভাষা ভিন্ন। ১৯০৭ সালে ড. হরপ্রশাদ শাস্ত্রী বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদ আবিস্কার করেন মায়ানমারের আরাকান থেকেই। মধ্যযুগে সৈয়দ আলাওল ও কোরেশি মাগন ঠাকুরের মতো বাংলা সাহিত্যের বহু লেখক আরাকানের সভাসদ ছিলেন।

এভাবে আরাকানের রোহিঙ্গারা বহু আগ থেকেই বাংলা ভাষার সাথে পরিচিত হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় সব ধর্মের মানুষই রয়েছে। তবে বেশীরভাগই মুসলিম। যেমন বাংলাদেশে ৯০ভাগ মুসলিম হলেও সব ধর্মের অনুসারীই রয়েছে। তেমনি কলিকাতার বাঙ্গালিদের  বেশিরভাগই হিন্দু। অর্থাৎ ধর্ম যার যার, বাংলা ভাষা সবার। এভাষার জন্যই পৃথিবীতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস (২১শে ফেব্রুয়ারী) চালু হয়েছে। এটি এখন জাতিসংঘের অফিসিয়াল ভাষাভুক্ত হবার অপেক্ষায়।

সুতরাং রোহিঙ্গারা বাংলা ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে বাঙ্গালি হিসেবে অভিযুক্ত হবে এবং জঘন্য গণহত্যার শিকার হবে, এটা মানা যায়না। মায়ানমারের সামরিক জান্তা রোহিঙ্গাদের বাঙ্গালি হিসেবে নিকৃষ্ট হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। তাদেরকে বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারী মনে করছে। আরাকানিদের ইতিহাস-ঐতিহ্য ভ্রুক্ষেপ করছেনা। মায়ানমারের এ ঔদ্ধত্য আচরনের প্রেক্ষিèতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষীদের ব্যর্থতা প্রকাশ পেয়েছে।

মায়ানমারের মগেরা প্রাচীনকাল থেকেই রোহিঙ্গাদেরকে সংখ্যালঘু মুসলিম হিসেবে নির্মম অত্যাচার-নির্যাতন করে আসছে। এবারই প্রথম তাদেরকে বাঙ্গালি হিসেবে হত্যা ও নিধন করছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে, সংখ্যালঘু মুসলিমের মতো বাঙ্গালিও কি দুর্বল জাতি? বাঙ্গালি জাতির দুর্বলতা প্রকাশ পেল কিভাবে? এজন্য আমাদের করণীয় কি হতে পারে?

এখন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রচারিত যে, বাঙ্গালি মানেই ঘাতক, রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী, মানবতা বিরোধী অপরাধী, জঙ্গি ও সন্ত্রাসী। পৃথিবীর সর্বোচ্চ আদালত তথা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুধুমাত্র বাংলাদেশের কতিপয় নাগরিক উক্ত অভিযোগে সাজা পেয়েছে। ১৯৭১ সালে সংঘটিত জঘন্য হত্যাকান্ডের জন্য পাকিস্তানের কোনো নাগরিক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত হয়নি। যেহেতু ট্রাইব্যুনালে আন্তর্জাতিক শব্দটি রয়েছে, তাই এতে সন্দেহের অবকাশ নেই। এটি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ও বাস্তব সত্য।

এছাড়া সম্প্রতি বাংলাদেশে সংঘটিত কতিপয় অদ্ভুত জঙ্গি হামলার ঘটনায় প্রমাণ হয়েছে যে, অসংখ্য বাঙ্গালি জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত। সরকারের কর্তাব্যক্তিদের মাধ্যমে এটি প্রচারণা পেয়েছে। বিশেষ করে ১জুলাই, ২০১৬ ইং তারিখে গুলশান হলি আর্টিজান হামলায় কতিপয় বিদেশি নাগরিক হত্যার প্রেক্ষিèতে এটি বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়েছে। উক্ত ঘটনা বিশ্লেষণে এবং সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে দেখা যায়, মাত্র ৬/৭ জঙ্গি গুলশানে হামলা চালায়। তারা গ্রেনেড মেরে ২ পুলিশ হত্যা ও প্রায় ৪০ পুলিশকে আহত করে। এরপর তারা হোটেলে প্রবেশ করে আশ্চর্য্যজনকভাবে নিরীহ ১৫ বন্দীকে নিরাপদে ফেরত দেয়।

এঘটনায় দেশের সুদক্ষ প্রতিরক্ষা বাহিনী জঙ্গিদেরকে সারারাত অবকাশ দেয়। হোটেলে বাকী বন্দিদেরকে নিরাপদে হত্যা করার সুযোগ দেয়। জঙ্গিরা সারারাতে প্রায় ২০ বন্দিকে নির্মমভাবে হত্যা করে হোটেলের রক্তাক্ত মেঝেতে নিরবে ঘুমায়। পরদিন সকালে অপারেশন থান্ডারবোল্ট শুরু হলে, জঙ্গিরা সেনাবাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে নিহত হয়। লাশগুলো সেনাবাহিনীর কালো গাড়ীতে গোপনে সরানো হয়। সম্পুর্ণ ঘটনা মিডিয়ার অন্তরালে সম্পন্ন হয়।

আজও গুলশান হামলায় জড়িতদের নিহতের খবর পাওয়া যায়। এভাবে প্রায়ই দেখা যায়, পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের মাঝে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় পুলিশের কাছে আটক ব্যক্তিরাই শুধু হত্যার শিকার হয়। বিষয়গুলো দেশ-বিদেশের কারো কাছেই স্পষ্ট নয়। যে সেনাবাহিনী গুলশানে পরদিন অভিযান চালালো, আগেরদিন কেন ব্যর্থ ছিল? উক্ত ঘটনায় দেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রতিরক্ষা বাহিনীর দুর্বলতা মারাত্মকভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

উক্ত ঘটনায় সুস্পষ্ট হয়েছে যে, বাঙ্গালি মানেই ঘাতক, রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী, মানবতা বিরোধী অপরাধী, জঙ্গি ও সন্ত্রাসী। এটি শুধু বাংলাদেশের ব্যর্থতা নয়; বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষী সবার ব্যর্থতা। এজন্য অবশ্যই বাংলাদেশের প্রচলিত ইতিহাস পরিবর্তন করতে হবে। প্রমাণ করতে হবে, বাঙ্গালি মানেই মুক্তিযোদ্ধা ও ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তে গড়া সাহসী ও আত্মত্যাগী জাতি। বাংলাদেশে তালিকাভুক্ত শুধু দুই লাখ ব্যক্তিই মুক্তিযোদ্ধা নয়।

বাংলাদেশে প্রচলিত দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধার জন্য প্রদত্ত ভাতা ও তাদের সন্তান-সন্ততির জন্য প্রদত্ত মুক্তিযোদ্ধা কোটানীতিও সঠিক নয়। বরং ১৯৭১ সালে এদেশের সংগ্রামী ত্রিশ লাখ শহীদ, দুই লাখ সম্ভ্রমহারা নারীসহ বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়াদানকারী সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালি সবাই বীর মুক্তিযোদ্ধা। বাঙ্গালি মানেই যুদ্ধাপরাধী ও মানবতা বিরোধী অপরাধী নয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশ শাখার বিচার প্রক্রিয়া এদেশের জাতীয় আইনে পরিচালিত হয়েছে; আন্তর্জাতিক আইনে নয়।  শুধুমাত্র পাকিস্তানের সামরিক জান্তাই ঘাতক, যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধী।

একইভাবে বাংলাদেশ ও বাঙ্গালি মানেই জঙ্গি-সন্ত্রাসী প্রচারণা ঘুচাতে হবে। এজন্য বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে যোগ্যতম উত্তরসূরী শহীদ জিয়াউর রহমানের পন্থাবলম্বন করতে হবে। তিনি ১৯৭৮ সালে মায়ানমার সরকারকে রোহিঙ্গা নিধনের সমুচিত জবাবসহ আরাকান দখলের হুমকি দিয়েছিলেন। তখন মায়ানমার কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের সকল অধিকার ফিরে দিতে বাধ্য হয়েছিল। ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর এ যোগ্য উত্তরসূরীকে হারালে, ১৯৮২ সাল থেকেই রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন শুরু হয়। এখন অত্যাচারের সীমা অতিক্রান্ত হয়েছে। বিশ্ববিবেক জাগ্রত হয়েছে। এ সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। শুধুমাত্র বাংলাভাষা ও বাঙ্গালি জাতিসত্ত্বা রক্ষার স্বার্থে আরাকান দখল করে বাংলাদেশের অধিভুক্ত করতে হবে। এতেই ঘুচবে বাংলাদেশের কালিমা। বিশ্বজুড়ে সমুন্নত হবে বাঙ্গালি জাতির শির।

সিরাজী এম আর মোস্তাক শিক্ষানবিশ আইনজীবি, ঢাকা mrmostak786@gmail.com

 

পরিবারই হোক স্বপ্নের নীড়

দেশে ইদানিং পারিবারিক সহিংসতার মাত্রা এত বেড়ে গেছে যে, খবরের কাগজ খুললে ভাই তার বোনকে, সন্তান গর্ভধারিণী মাকে, স্বামী নববধূকে নির্মমভাবে খুন করেছে-এ রকম খবরই জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে বেশী চোখে পড়ে । এমন অনেক মৃত্যুর খবরই আমরা সংবাদমাধ্যমের কল্যাণে জানতে পারি, কিন্তু কখনও এসব খবরের ভেতরে প্রবেশ করার চেষ্টা করি না। এসব ঘটনা কেন ঘটছে বা এর থেকে পরিত্রান পাবার উপায় কি এ নিয়েও কখনও মাথা ঘামাইনা। ফলে এসব পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা দেশে দেশে দিন দিন বেড়েই চলছে এবং আমাদের কাছেও এসব ঘটনা আর নতুন কিছু মনে হয়না।

তবে পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে এসব ঘটনা অনেকটা অস্বাভাবিক । বাহ্যত ইউরোপ , কানাডা , আমেরিকার মত দেশগুলো সুখী দেশ হিসেবে পরিচিত এবং র‍্যাংকিংয়ের দিক থেকে সুখী দেশের তালিকায় কানাডার অবস্থান বেশ উপরে, তাই পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা খুব একটা চোখে পড়েনা। তবে ইদানিং কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশীদের মধ্যে পারিবারিক সহিংসতার মাত্রা দুঃখজনক হারে বেড়ে গেছে। গত সপ্তাহে ঘটে যাওয়া এমনি একটা ঘটনা ছিল এখানে বসবাসরত বাংলাদেশীদের আলোচনার বিষয়বস্তু । সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশ থেকে আসা একটি সুখী , সচ্ছল পরিবারের একমাত্র ছেলে বাবা-মায়ের উপর অভিমান করে আত্মহত্যা করেছে। আত্মহত্যার কারন যাই হোক, প্রবাসে এসেও আমরা কেন পারিবারিক সহিংসতার স্বীকার হচ্ছি , কেনইবা আমরা এখানে উন্নত জীবন যাপনের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও আমাদের ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোন্দল থেকে বের হয়ে একটি সুখী পরিবার গড়তে পারছিনা সেটাই আমাদের বিবেককে সবচেয়ে বেশী নাড়া দেয়।

সত্যি কথা বলতে কি, আমাদের পারিবারিক বন্ধনগুলো দিনে দিনে এতোটা শিথিল হয়ে যাচ্ছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে আজ সমাজের এ অবস্থা। আমরা জানি, পরিবার মানবসমাজের সবচেয়ে পুরনো ও সর্বজনীন প্রতিষ্ঠান। সমাজের প্রত্যেক সদস্য জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি এর সঙ্গে জড়িত। সেই পরিবারব্যবস্থা ক্রমান্বয়ে ভেঙ্গে পড়ছে। পরিবারই হল শিক্ষার সূতিকাগার । সন্তান যে পরিবেশে বড় হবে তাই সে শিখবে । পিতা –মাতা যদি আদর্শবান হন এবং ইসলামের নিয়ম কানুন অনুযায়ী চলেন এবং সন্তানকে সুশিক্ষা দিয়ে গড়ে তোলেন তাহলে সন্তান অবশ্যই ভাল হবে। কারণ সন্তান – সন্ততি যদি প্রকৃত নৈতিক গুণ সম্পন্ন না হয় তাহলে মাতা পিতার জন্য তা একটি আজাব ছাড়া আর কিছুই না । আর এজন্যই আল্লাহ তায়ালা কোরআনে মুমিনদের হুশিয়ার করে বলেছেন,আর জেনে রাখ, তোমাদের ধন – সম্পদ ও সন্তান – সন্ততি পরীক্ষার কারণ (সূরা আন ফালঃ ২৮)। আরো বলা হয়েছে , হে ঈমানদাররা , তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার বর্গকে আগুন থেকে বাঁচাও (সূরা তাহরিমঃ ৬) ।

আমরা যারা উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় নিজের দেশ ছেড়ে আমেরিকা , কানাডা, ইংল্যান্ড ইত্যাদি দেশে বসবাস করতে আসি কঠোর সংগ্রাম করে নিজের একটা অবস্থান তৈরি করি, ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে এসে নিজেদের সামাজিক অবস্থান, সম্পদ,ভাল স্কুলে বাচ্চাদের পড়াশুনা ইত্যাদি চিন্তা করে তৃপ্তির ঢেকুর তুলি শেষ বয়সে এসে আমাদের অবস্থা হয়ে যায় দেশের বাবা-মায়ের চেয়েও করুন । কারন সন্তানগুলো আর বাঙ্গালী সন্তান হিসেবে বেড়ে উঠেনা, তারা হয়ে যায় আমেরিকান বা কানাডিয়ান সন্তান। কাজেই শেষ বয়সে এখানকার বাবা-মায়েদের অবস্থা হয় দেশের বাবা-মায়ের চেয়েও করুণ । কারন নিজের মায়ের দেশে সন্তানরা কাছে না থাকলেও আত্মীয় – স্বজনরা তাকে ঘিরে থাকে, কোন প্রয়োজনে পাঁচ –দশজন যখন তখন হাজির হতে পারে। এখানে তো সেই উপায়ও নেই।

আজ পরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের নিয়ে নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত পাশ্চাত্য । তাদের পরিবারে ছোট –ছোট শিশুদের লালনপালন নিয়ে সমস্যা , বয়স্ক বাবা-মায়ের ভরণ –পোষণ নিয়ে সমস্যা , কর্মহীন লোকদের নিয়ে সমস্যা । কারন পাশ্চাত্য দর্শনে গঠিত সমাজে বয়স্ক লোকদের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যায় যখন সে কর্মহীন হয়ে পড়ে, তখন তার ঠিকানা হয় বৃদ্ধাশ্রম । আর শিশুদের লালনপালনে সমস্যা ,কারন স্বামী – স্ত্রী ভিন্ন ভিন্ন স্থানে বসবাস করে প্রয়োজনে একত্রে মিলিত হয়। প্রত্যেকেই নিজ চাকরি নিয়ে ব্যস্ত । এ কারনে কে দায়িত্ব নিবে সন্তানের, অবশেষে সন্তানের ঠিকানা হয় বেবি হোমে । এভাবে বৃদ্ধরা যেমন জীবন সায়ান্হে এসে বিড়ম্বনার শিকার হন, তেমনি শিশুরা মা-বাবার সান্নিধ্য না পাওয়ার কারনে , তাদের আদর না পাওয়ার কারনে , তাদের মধ্যে এক প্রকার দয়া-মায়াহীনতা , মা-বাবার প্রতি অনাগ্রহ সৃষ্টি হয়। এই শিশুরা বড় হয়ে তাদের মা-বাবার খোঁজ নেয়না। নিজের ধর্ম , কালচার সব কিছু ভুলে তারা যে কোন মূল্যে সম্পদ অর্জন কর এবং ভোগ কর নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে ওঠে ।

কিন্তু আমরা যদি আমাদের সন্তানদের প্রতি দৃষ্টি না দেই, তাদেরকে পারিবারিক মূল্যবোধ শিক্ষা না দেই তাহলে উপরওয়ালার কাছে আমরা অবশ্যই এর জন্য জিজ্ঞাসিত হব । এ সম্পর্কে মহানবী (সাঃ) বলেন,’সাবধান ! তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল আর তোমাদের প্রত্যেকেরই নিজ দায়িত্ব সম্বন্ধে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে । নেতা, যিনি জনগনের তত্ত্বাবধায়ক, তিনি স্বীয় অধীনস্তদের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হবেন। প্রত্যেক পুরুষ নিজ পরিবারের লোকদের তত্ত্বাবধায়ক এবং তিনি নিজের অধীনস্তদের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হবেন। প্রত্যেক মহিলা তার সন্তানদের তত্ত্বাবধায়ক এবং তিনি তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন। কোন ব্যক্তির কর্মচারী( চাকর) স্বীয় মনিবের সম্পদের তত্ত্বাবধায়ক এবং সে সেই সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। এভাবে প্রত্যেকেই নিজের অধীনস্তদের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হবে। (সহীহ বুখারী ও মুসলিম) ।

পারিবারিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করার জন্য যা কিছু প্রয়োজন মুসলিম সমাজে তার সব কিছুই বিদ্যমান রয়েছে। কাজেই কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি আদর্শ পরিবার গড়তে আমরা যদি এখনই সচেতন না হই তবে আমাদের অবস্থা হবে গল্পের সেই বয়স্ক কাঠমিস্ত্রির মত যে কিনা বয়সের কারনে চাকুরি থেকে অবসর নিয়ে জীবনের বাকি দিনগুলো ছেলে-মেয়ে ,নাতিনাতনি নিয়ে আনন্দে কাটাতে চেয়েছিল। সে তার এই পরিকল্পনার কথা বসকে জানালো । বসের মন খারাপ হল এমন নিবেদিত প্রাণ একজন কর্মী চলে যাওয়ার খবর শুনে। কাঠ মিস্ত্রিকে বলল, আমার শেষ একটা উপকার করে দিয়ে যাও , আমার জন্য আরেকটি বাড়ী বানিয়ে দাও, তারপর তোমার ছুটি । বসের শেষ অনুরোধ না করতে পারলনা বুড়ো কাঠমিস্ত্রি । অনিচ্ছা নিয়েই কাজ শুরু করলো ,তার পেশাগত জীবনের শেষ বাড়ী নির্মাণের । তাড়াহুড়ো করে কাজ শেষ করল ,যেহেতু তার কাজে মন নেই। সে নিজেও টের পেল যে তার কাজের মান ভাল হয়নি। বাড়ী নির্মাণ শেষ করে বাড়ীর চাবিটি বসের হাতে দিয়ে জানালো কাজ শেষ । বস চাবিটি তার হাতে দিয়ে বলল , এই বাড়িটি তোমার , আমার পক্ষ থেকে তোমার জন্য উপহার। বড় ধাক্কা খেল কাঠমিস্ত্রি , ইস, যদি জানতো সে নিজের বাড়ী বানাচ্ছে, তাহলে কতই না সুন্দর করে বানাতো । কি আর করা , নিজের হাতে বানানো অসুন্দর বাড়ীটিতেই এখন তাকে জীবন কাটাতে হবে। আমাদের জীবনের গল্পটিও এই কাঠমিস্ত্রির মতই। সারাজীবন ধরে আমরা নিজের বাড়ীই বানিয়ে চলেছি। কিন্তু জীবন সায়ান্হে পৌঁছে পিছন দিকে তাকিয়ে যখন মনে হয় এমন বাড়ী কি আমি চেয়েছিলাম ? তখন আর কিছু করার থাকেনা।

আমাদের পরিবার নিয়ে আমরা সবাই এমনি একটা স্বপ্নের বাড়ী বানাতে চাই যার জন্য পরকালে সবাইকে জবাবদীহি করতে হবে। সব পেশাতেই দুর্নীতিবাজ যে কর্মচারী বা কর্মকর্তারা টাকার পাহাড় গড়ে তোলেন, তারা যদি নিজেদের মা-বাবা, স্ত্রী , সন্তানদের জিজ্ঞেস করেন এই অসৎ উপায়ে অর্জিত টাকায় যে বিলাসী জীবন যাপন , তাতে তাদের সমর্থন আছে কিনা , কি উত্তর পাবেন বলে তারা মনে করেন ? তারা কি জীবনের এই বাড়িটিই তৈরি করতে চেয়েছিলেন? কাজেই জীবন সায়ান্হে পৌঁছে নিজের পরিবার নামক বাড়ীটিকে কে কিভাবে দেখতে চান তা আগেই চিত্রায়িত করে ফেলুন , সেটাকে এমন কোন ঝুঁকিতে ফেলবেননা যাতে জীবনের শেষে গিয়ে , পেছন দিকে তাকিয়ে শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলতে হয়। পরিবারের সকলকে নিয়ে আল্লাহ আমাদের সবাইকে এমনি একটি স্বপ্নের বাড়ী তৈরির তৌফিক দিন।

লেখক: সুলতানা আরা

জীবন্ত ইতিহাসের মৃত্যু!

আমার নাম মাহমুদ হাসান আলম। যদি আমার আসল নাম বাদ দিয়ে কেউ রাখতো “মাহালম”। তবে আমাকে কি কেউ চিনতে পারতো? চেনার কথা নয়। আর কয়েক পুরুষ পরে তো চেনার প্রশ্নই আসেনা। যদি আসলেই এমনটি হয়? তাহলে কেমন হবে? ইতিহাস বিকৃতি নতুন কিছু নয়। বলা হয়ে থাকে বিজয়ীরাই সবসময় ইতিহাস লিখে থাকে। আসলেই কি তাই ?

আকবর দ্যা গ্রেট বলে আমরা অনেকেই আকবরকে ভালভাবেই জানি। কিন্তু সম্রাট বাবরকে কিভাবে জানি? কেন ইতিহাসে বাবরকে চেপে রেখে আকবরকি গ্রেট হিসেবে দেখানো হয়েছে? আকবরের সত্য ইতিহাস জানলে যে কারো গায়ের লোম খাড়া দিয়ে উঠবে। তার রক্ষিতা ছিল কত জন? শুধু ক্ষমতার লোভে “দিন ই ইলাহী” চালু করে ইসলামের চরম বিকৃতি করেছে, এ ইতিহাস কজনেই জানে? যে ভারত শাষন করেছে মুসলিমরা শত শত বছর। আজ ভারতের ইতিহাসে তাদের নেই। যা কিছু আছে সত্য ইতিহাস প্রায় মৃত্যু।

আমাদের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইসলামের ইতিহাসে যা পড়ান হয় তার অধিকাংশ নেয়া হয়েছে পি কে হিট্টি, উইলিয়াম ম্যুর, টমাস কার্লাইল, ঐতিহাসিক গীবনের বই থেকে। যারা ইসলামিক লেখক বলে স্বীকৃত নয়। এমনকি তার কোন ইসলামিক স্কলারও নয়। ইসলামের ইতিহাসে পড়ান হয় যাদের লেখা অথচ তারা কেউ ইসলামিক স্কলার এবং ইসলামিক ব্যক্তিত্ব নয়। অনেকে আবার খৃস্টানদের গোয়েন্দা ছিল যার প্রমান ভরি ভরি আছে। তাদের কাছে থেকে আমরা ইসলামের কি শিখবো? এগুলো কি ইচ্ছাকৃত ইতিহাস বিকৃত? নাকি ইসলামের বিপক্ষে সুক্ষ কোন চক্রান্ত?

ইতিহাস বিকৃতির জোয়ারে আমরা এখন প্রায় অস্বিত্বহীন! ধিকৃত মানবাত্মা প্রতিনিয়ত কাঁদে কিন্তু দেখার যে  কেউ নাই। একটু দেখার চেষ্টা করি কোথায় সেই বিভৎস বিকৃতি ঘটেছে? কোথায় আছে সেই রাঘব বোয়ালেরা? কারা সেই ইতিহাস লুন্ঠনকারী?

সময়টা ১২শ শতাব্দি থেকে ১৭শ শতাব্দি। ত্রিতীয় ক্রসেডে মুসলিমদের পরাজয়ের পর। হাজার মুসলিম জনপদ জালিয়ে দেয় খৃস্টানরা। বাগদাদসহ বিভীন্ন জায়গায় হাজার হাজার লাইব্রেরী জালিয়ে দেয় তারা। মুসলিম জনপদ থেকে নিয়ে যায় বইয়ের হাজার হাজার কপি। তারপর শুরু হয় বিকৃতি। একটু লক্ষ করলে দেখবো ১৩৩০ কবি ল্যাঙ্গল্যান্ডের জন্ম, মহাকবি চসার তার সমসাময়ীক, ১৬শ শতাব্দিতে শেক্সপিয়ার ও মিল্টনদের জন্ম, ১৭শ কবি ওয়ার্ডস ওয়ার্থ, বায়রন ও শেলীর জন্ম, ম্যাকেলের জন্ম ১৮শ। তার আগে পাশ্চাত্য ছিল অন্ধকার জগতে। অথচ তার আগে তারা সভ্যতার সংশ্পর্শেই আসেনি। ক্রসেডারদের বিজয়ের পরে তারা মুসলিমদের সভ্যতার কাছে আসার সুগোগ পায়। তারপর শুরু হয় তাদের উত্থান। যাদের কাছ থেকে তার অ,আ,ক,খ শিখেছে তাদেরকে তারা অবজ্ঞা করতে শুরু করলো। প্রতিযোগিতায় নামে মুসলিম বিজ্ঞানিদের ইতিহাস বিকৃত করার। যার বাস্তব কিছু চিত্র নিচে দেওয়া হল:আল বাত্তানিকে রেথেন,রোয়েথেন, আল বাতেজনিয়াস ইত্যাদি নাম দিয়েছে কারা? ইউসুফ আল  সময়ঘুরিকে জোসেফ টি প্রিজড,আল রাজিকে রাজম,আল খাসিবকে আল বুযাথের, আল কায়াবিসকে ক্যাবিটিয়াস, আল খাওয়ারিজমকে গরিটাস,গরিজম নাম দেওয়া হয়েছে কেন?। ইবনে সিনাকে এভিনিস, ইবনুল হাইসামকে আলোজেন, মারকালিকে মারজাকেল, ইবনে আবির রিজালকে আল বোরাছেন, জাবির ইবনে হাইয়ানকে জিবাব, ইবনে 

 

বাজ্জাকে এডেমগেন্স, ইবনে রুশদকে এভেরুশ, এভ্রুন, আল বিতরুজিকে পিট্রিজিয়ান, ইবনে তুফায়েলকে বাথর, আবুল মাশারকে বুঝশের, আল কিন্দিকে কিন্দাস, ফারগানিকে ফাগানেস, হোসাইন ইবনে ইশাককে জোহাস নিউটন নামে পর্দার নিচে ঢেকে দিয়েছে কেন? এসব নাম দেখলে কেউ আজ অনুমানও করতে পারবেনা যে এগুলো মুসলিমদের নাম।  
কেন তারা মুসলিমদের নাম বিকৃত করে এভাবে দিয়েছে? অনেক ক্ষেত্রে মুসলিমদের আবিষ্কার নিজেদের নামে চলিয়ে দিয়েছে। অথচ যদি একটু পিছে ফিরে তাকাই। আর্কিমিডিস, টলেমি, ইউক্লিড, এরিস্টটলদের নাম আমরা কি কিভাবে পেয়েছি???

কাদের হাত ঘুরে এগুলো আধুনিক সমাজে এসে পৌছেছে? একটু কি দেখার চেষ্ঠা করবো না? পশ্চিমা অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন জ্ঞান এবং আধ্যাত্মিকতার বিকাশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড়ো অবদান হচ্ছে এসবের রক্ষণাবেক্ষণ করা এবং গ্রিক যুগ থেকে রেনেসাসেঁর যুগে এই জ্ঞানকে স্থানান্তর করার মধ্যে। কিন্তু আমাদেরকে বুঝতে হবে মুসলমানরা কেবল মানব জ্ঞানের সম্পদকে রক্ষাই করেনি বরং এসবের পাশাপাশি নতুন নতুন অনেক কিছু উদ্ভাবনও করেছেন, এগুলোকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌছিয়েঁও দিয়েছেন। অন্তত ছয় শতাব্দি ধরে মুসলিম মনীষীরা ছিলেন জ্ঞান ও বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে স্বণোর্জ্জ্বল নক্ষত্রের মতো আলো বিকিরণকারী। অথচ সেই সময় ইউরোপে জ্ঞানীদের কণ্ঠ রোধ করে ফেলা হতো। মধ্যযুগে গীর্যাগুলো চিন্তাশীল মনীষী, জ্ঞানী-গুণী, বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের বি

রুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছিল। তারা এইসব মহান ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে বিচারালয়ও স্থাপন করেছিল। এভাবেই গির্যাপন্থীরা জ্ঞান বিকাশের পথে এবং জ্ঞানের জগতে নতুন নতুন উদ্ভাবনীর পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। সেইসাথে দার্শনিক এবং পণ্ডিতজনদের ধর্মীয় সম্প্রদায় থেকে বহিষ্কার করে অপমান অপদস্থ পর্যন্ত করেছিল। কিন্তু শ্বাশ্বত ও পবিত্র ধর্ম ইসলাম সেই সূচনা লগ্ন থেকেই মুসলমানদেরকে জ্ঞান অর্জনের জন্যে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করে এসেছে।
মুসলমানরা গ্রিকবিজ্ঞানের চর্চা করেছিল প্রায় পাঁচশত বছর ধরে। লিখেছেন হাজার হাজার গ্রন্থ অনুবাদও করেছেন হাজার হাজার বই। কিন্তু গ্রীক বিজ্ঞানিদের নাম এমনভাবে বিক্রিত করেননি যার কারনে গ্রীক সত্তা হারিয়ে যায়। এজন্যই আর্কিমিডিস, টলেমি, ইউক্লিড, এরিস্টটলদের নাম এখনও অক্ষত আছে। ইউরোপের জ্ঞানগুরু ছিল মুসলিমরাই। নিউপোল্ড উইস তার “ইসলাম এট দা ক্রস রোড” গ্রন্থে লিখেছেন, নিশ্চয় রেঁনেসা বা বিজ্ঞান ইউরোপিয় শিল্পের পুনর্জাগারন ইসলাম ও আরব উতসের কাছে চরমভাবে রিনি। বাস্তবিকই ইউরোপ ইসলামি বিশ্বের কাছে ব্যাপক উপকৃত হয়েছিল কিন্তু তারা কখনো এই উপকারের কথা স্মরন রাখেনি কিংবা স্বীকৃতিও দেয়নি। কৃতজ্ঞতার পরিবর্তে ঘৃনার মাত্রা গভীর ও তীব্র করেছে।১১৪১ ও ৪৩ সালে সেন্ট পিটার ও রবার্ট অব কেটন ল্যাতিন ভাষায় কুর আন অনুবাদ করে। যেখানেও রেখেগেছে বিদ্বেসের স্বাক্ষর।

বিজয়ীরা নাকি সবসময় ইতিহাস লেখে? তাই সত্য ইতিহাস সবসময় ধামাচাপা পড়ে যায়। কথাটা হয়তো ঠিক কিন্তু মুসলিমদের জন্য একদমই ঠিক নয়। প্লেটো-সক্রেটিস- এরিস্টোটলদের ইতিহাস আধুনিক বিশ্ব পেয়েছে মুসলিমদের মাধ্যমে। এগুলো শতকের কথা। কিন্তু কোথাও কারো নাম এমনকি কারো আবিষ্কার মুসলিমরা নষ্ট করেনি। কারন প্রকৃত মুসলিম এটা করতে পারেনা। কারন কোরান বলছে… 

 “তোমরা সত্যের সাথে মিথ্যাকে মিশ্রিত কর না।” 

আমরা মনে করি যে, বিজ্ঞানে ব্যবহৃত সূত্রগুলো ইউরোপ বা পাশ্চাত্য  আবিষ্কার করেছে! আর ইতিহাস বিকৃতির কারনে সেটাই জানা স্বাভাবিক। সত্যিই কি তাই?  কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে ইতিহাস বলে এগুলি আবিষ্কার করেছে মুসলিমরাই।

  • আল বাত্তানিই প্রথম প্রমান করেন সূর্য তার একই অবস্থানে ফিরে আসতে ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৬ মিনিট ২২ সেকেন্ড লাগে।
  • খলিফা মামুনের সময় ভুমধ্যসাগরের গভীরতা মাপার জন্য sin, cosine আবিষ্কার করা হয়। একটু গভিরে গেলে যে কেউ দেখতে পারবে যে, আগে ত্রিকোনমিতি পড়ার সময় sin, cosine এর জায়গায় zeyp down, zeyp, above শব্দ ব্যবহার করা হত। আরবিতে zeyp শব্দের ল্যাটিন হল sin. পরে তারা এগুলো ইচ্ছামত পাল্টে যে নাম দিয়েছে আমরা সেই নামেই চিনি। মুসলিম শিক্ষকরাও জানেনা এ আবিষ্কার মুসলিমরাই করেছে।
  • sinus table এর আবিষ্কার ও আমরাই করেছি। ভুমধ্যসাগরের কেন্দ্র থেকে দুরত্ব ১১১০০০ কিলোমিটার সেটাও মুসলিমদের আবিষ্কার। পাই থেটার মান যে ৩.১৪১৫৯২৬৩৫৫৮৯৭৪৩ সেটা আবিষ্কার করে গিয়াসউদ্দিন জামসেদ। তার রিসালাতুল মুতিহিয়া গ্রন্থে এর উল্যেখ পাওয়া যায়।
  • আজকের গনিতের ০ শুন্য আবিষ্কার করে মুসলমানরাই। শুন্য আবিষ্কার না হলে কি হত তা আমরা সহজেই বুঝতে পারি। এছাড়া প্রাচীন মিশরিয়রা যে শুধু যোগ বিয়োগ করার জন্য কাঠি ব্যবহার কিরতো। মুসলিমরা এগুলো বিশ্লেষন করে দশক সংখ্যার আবিষ্কার করে যোগ,বিয়োগ,গুন,ভাগ করা আবিষ্কার করে। যা মানবজাতির জন্য অনেক বড় খেদমত। অথচ তারা বলে ইসলাম মধ্যযুগীয় ধারনা। আশ্চার্য।
  • আল জেবরা বা বীজগনিতের আবিষ্কারকও মুসলিমরা। জেবির অর্থাৎ বীজ গনিত বলতে কি বুঝায়? জেবির শব্দটি মুসলিম গনিতবীদ আল জাবির এর নাম থেকে নেওয়া। এখানেও তারা নামকে বিকৃত করে সকল জায়গায় আল জেব্রা নামে অভিহিত করেছে। আল জাবির দিঘাত ও ত্রিঘাত সমিকরনের সমাধানও দিয়েছেন। লগারিদগমের সকল সুত্র সর্ব প্রথম আবিষ্কার করেন  আল হারজেম। এমনকি limit এর আবিষ্কারও মুসলিমরা করেছে।
এজন্যই তো রাসুল সা বলেছেন, “তোমরা মুমিনের দুরদৃষ্টিকে ভয় কর, কেননা সে আল্লাহ তায়ালার নূরের মাধ্যমে দেখে।”
  • আরো বলা যায়, পদার্থ বিজ্ঞানের জনক কে? atom বা পরমানু, অনুর সর্বপ্রথম ধারনা দেয় কে? আলোর প্রতিসরন  এর সুত্র আবিষ্কার করেন কে? তাহলে হয়তো আমাদের কে ইবনে হেইশামের নামটি পর্যন্ত জানতে পারবো না। gay lussac এর সুত্র কে আবিষ্কার করেছে?
আজকে জার্মানিতে জাবির ইবনে হাইয়ানকে নিয়ে ডক্টরেট করা হচ্ছে। অথচ আমরা….কিন্তু আশ্চার্য হলেও সত্য পশ্চিমারা আমাদের বিজ্ঞানিদের বইগুলো নিয়ে তাদের নামে চালিয়ে দিচ্ছে। অথবা এমনভাবে বিকৃতি করছে যা জঘন্য মিথ্যাচার।

ভূগোল আবিষ্কার করেছে মুসলিমরাই। ইবনে খালদুনই সর্বপ্রথম ভূগোলকে ইতিহাসের ধারা থেকে বের করে জ্ঞানের অন্যতম শাখা হিসেবে প্রকাশ করেছে। আমেরিকা আবিষ্কার কারা করেছে?  ইতিহাসের কাছে যদি যান্তে চাওয়া হয়, ইতিহাস আমাদের বলবে ক্রিস্টেফার কলম্বাস। কারন হল আমরা সকল তথ্য ও উপাত্ত ইউরোপিয়ানদের কাছ থেকে আমদানি করি। ক্রিস্টেফার কলম্বাস যখন মাসের পর মাস পশ্চিম দিকে যেতে থাকে কিন্তু কোন স্থপত্যভুমি খুজে পায়না। তখন জাহাজের সাথিরা তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বসে। তারা বলতে থাকে আমরা ফিরে যাব। কলম্বাস তখন বলেন,

“দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়োনা। আমি যদি সঠিকভাবে পশ্চিম দিকে যাই তাহলে যে নতুন ভুমির সন্ধান পাব। এই চিন্তা ও তথ্য মুসলিমদের রচিত বই থেকে জানতে পেরেছি। সে ভুমিতে আমরা অবশ্যই যাবই। কারন মুসলিমরা কখোন মিথ্যা বলতে পারে না। ”
  • জিব্রালটার প্রনালির নাম হয়তো আমরা অনেকেই শুনিছি। কিন্তু এটার সাথে জড়িয়ে আছে একজন মুসলিম সেনাপতির নাম। যার নামে নামকরন করা হয়েছে জিব্রালটার প্রনালি। হ্যাঁ তারিক বিন জিয়াদের কথাই বলছি। ৭১১ সাল থেকে ৭১৮ সালের দিকে তারেক বিন যিয়াদ স্পেন বিজয় করলে তিনি প্রথম জনমানবহীন ঐ পাহাড়ে যেতে সক্ষম হন। আর তার নামেই নামকর করা হয়েছিল “জাবালে তারেক বা তারেকের পাহাড়”। অথচ আজ কে জানে জাবালে তারেক কে বিক্রিত করে রাখা হয়েছে জিব্রালটার প্রনালি ? কেন ইতিহাসের এই জঘন্য মিথ্যাচার ?

 

  • “মানব দেহে রক্ত সঞ্চালনের ব্যবস্থা কে আবিস্কার করেছিলেন?” “ফুসফুসের নির্মাণ কৌশল কে সভ্যতাকে সর্ব প্রথম অবগত করিয়েছিলেন?” “শ্বাসনালির অভ্যন্তরীন অবস্থা কেমন?” “মানবদেহে বায়ু ও রক্ত প্রবাহের মধ্যে ক্রিয়া-প্রক্রিয়ার ব্যাপারটা কী?” এসব প্রশ্নের উত্তরে যাঁর নাম এককভাবে উচ্চারিত হয় তিনি হলেন আলাউদ্দীন আবুল হাসান আলী ইবনে আবুল হাজম ইবনুন নাফিস আল কোরায়েশি (১২০৮-১২৮৮)। এয়োদশ শতাব্দীর চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিপ্লবের সূচনাকারী “ইবনুন নাফিস” ছিলেন অতি বিশিষ্ট দক্ষ এক ইমাম ও অতি উচ্চশিক্ষিত বিজ্ঞ হাকিম। চিকিৎসা বিজ্ঞানের বহু গ্রন্থের প্রনেতা হিসাবে মৃত্যুরপূর্ব পর্যন্ত চিকিৎসা বিজ্ঞানে তাঁর অবদান সর্বাধিক। হৃদপিণ্ডের এনাটমি নিয়ে পূর্বের মতবাদকে খন্ডন করে তাঁর দেওয়া মতবাদ বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞানে সম্পূর্ণ বিজ্ঞান সম্মত বলে গৃহীত হলেও বিজ্ঞান জগতে তাঁকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় নি। কেন দেওয়া হয়নি ? তার কারন তিনি একজন মুসলিম।
জ্ঞানার্জনের চুড়ান্ত উন্নতি ঘটেছিল মুসলিমদের হাতেই আর সেটা সপ্তম শতাব্দিতে। আর এর ধারা অব্যাহত ছিল ১৪শ  থেকে ১৫শ শতাব্দি পর্যন্ত। পরবর্তিতে ইউরোপিয়ানরা মুসলিমদের কাছ থেকে ১৫ শতাব্দিতে দখল করা শুরু করে। এটা শুরু হয় ইউরোপের রেনেসার মাধ্যমে এবং ক্রুসেডের পর থেকে এটা পুরাপুরি তাদের হাতে চলে যায়। পরে তারা অবদান রাখতে শুরু করে। আজকে মানুষের কাছে যে জ্ঞান আছে তার ৬০-৭০% এসেছে মুসলিমদের কাছ থেকে। কিন্তু আমরা ক্ষুনাক্ষরেও টের পাইনা। কারন এগুলো আজ চরমভাবে বিকৃতির ক্ষপ্পরে পড়ে আহত হয়েছে।আমরা ভুলে যাই পাই থেটা,টেন থেটা,শুন্যের আবিষ্কারক যে আমরাই।।পৃথিবীর প্রথম মানচিত্র যে আমাদের হাতেরই আবিষ্কারক। তাহলে কেন আজ আমরা এতো পিছিয়ে? কেন শুনতে হয় আমার বোনের ধর্ষিতা চিৎকার? কেন আমি গর্ব করতে পারিনা আমার ইতিহাস নিয়ে। আমি কেন আজ নিস্তেজ নির্জব মৃতপ্রায় এক জাতি?

কারন জ্ঞান আহরনে আমাদের পিছিয়ে পড়া। আমাদেরকে আমাদের ইতিহাস না জানেতে দেয়া্। ধীরে ধীরে ইসলাম থেকে দূরে সরে যাওয়া। ইসলামের মূল স্পীরিট থেকে আমাদের সরে আসা। ।

সত্য ইতিহাস জানতে যে বইগুলো পড়া যেতে পারে:
১. ইতিহাসের ইতিহাস বা চেপে রাখা ইতিহাস, লেখক: গোলাম মোহাম্মদা মর্তুজা
২. দাওয়াম, লেখক: নাজিমুদ্দিন এরবাকান
৩. প্রাচ্যবিদদের দাতের দাগ, লেখক: মুসা আল হাফিজ

লেখক: মাহমুদ হাসান

 

 

স্বপ্নের ঘড়ি . কম