সাবেক সেনা কর্মকর্তা নাছের ৬ দিনের রিমান্ডে

আগের সংবাদ

ইরানে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা নিয়ে সতর্কবার্তা

পরের সংবাদ

দেশকে বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করার সব প্রস্তুতি আমাদের থাকতে হবে || প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

admin

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২১ , ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। কারণ শান্তি ছাড়া কোনো দেশের উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। যুদ্ধ ধ্বংস ডেকে আনে। আমরা যুদ্ধের পথে যেতে চাই না। কিন্তু কেউ যদি আক্রমণ করে, সেই বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করার সব প্রস্তুতি আমাদের থাকতে হবে। সেজন্য আমাদের প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জামের আধুনিকায়নের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন হতে হবে।

গতকাল নৌ ও বিমান বাহিনীর নির্বাচনী পর্ষদ (প্রথম পর্ব) ২০২১-এ অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ঢাকা সেনানিবাসের নৌ ও বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৪ সালে জাতির পিতার করে যাওয়া প্রতিরক্ষা নীতিমালার আলোকে সরকার ফোর্সেস গোল ২০৩০ নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। একটা কথা আমি স্পষ্ট বলতে চাই, আমরা কারো সঙ্গে যুদ্ধ করতে চাই না। জাতির পিতার পররাষ্ট্রনীতির আলোকে আমরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে প্রতিটি দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব রেখে এগিয়ে যাচ্ছি। দেশের সার্বিক উন্নয়নে যার কাছ থেকে যতটুকু সহযোগিতা নেয়া দরকার বা আমাদের উন্নয়ন-সহযোগী যারা হবে সবার সঙ্গে সদ্ভাব রেখেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ১৯৭৪ সালে করে যাওয়া বঙ্গবন্ধুর ‘টেরিটোরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস অ্যাক্ট’-এর আওতায় পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে দেশের জন্য বিশাল সমুদ্রসীমা অর্জন করতে সমর্থ হন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি। আপনাদের সবসময় মনে রাখতে হবে আমাদের বিশাল জনগোষ্ঠী, কিন্তু ভৌগোলিক সীমার দিক থেকে জায়গা অল্প। বিজ্ঞানের নতুন নতুন প্রযুক্তিতে প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে যাচ্ছে বর্তমান বিশ্ব। তার সঙ্গে তাল মিলিয়েই যেন আমরা চলতে পারি, সেই প্রস্তুতিও আমাদের থাকতে হবে।

নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দক্ষ কর্মকর্তাদের বিবেচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যারা দক্ষতার সঙ্গে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, নৌ ও বিমান বাহিনীর সেসব সদস্যকে পদোন্নতি দিন।

নৌ ও বিমান বাহিনীর নির্বাচনী পর্ষদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা পদোন্নতির জন্য যে টিআরএসিই-ট্রেস (টেবুলেটেড রেকর্ড অ্যান্ড কম্পারেটিভ ইভ্যালুয়েশন) পদ্ধতিগুলো নিয়েছেন আমি মনে করি এটি একটি আধুনিক পদ্ধতি। এ পদ্ধতির ভিত্তিতেই আপনাদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দিয়ে আপনারা নির্বাচনী পর্ষদ আগামী দিনে যারা দক্ষতার সঙ্গে নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী পরিচালনা করবে তাদের নির্বাচিত করবেন। পাশাপাশি আমি এটিও বলব যে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় অনেকে কর্তব্য পালনে অনেক দক্ষতার পরিচয় দিতে পারে। কাজেই তারাও যেন অবহেলিত না হয়, সেদিকটিও আপনারা বিবেচনা করবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী আজ শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, দক্ষ ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে মর্যাদা লাভ করেছে। আত্মত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠা বাংলাদেশের জন্য বয়ে এনেছে বিরল সম্মান ও মর্যাদা, যা বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকেও অত্যন্ত উজ্জ্বল করেছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মেয়ে। আমি শুধু শাসক নই, বাংলাদেশের মানুষের সেবক। জনগণের সেবা ও কল্যাণ করাটাকেই আমি সব থেকে বড় কাজ বলে মনে করি। সেই ব্রত নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে আপনাদের সহযোগিতা সবসময় কামনা করি।

অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম শাহীন ইকবাল এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে স্বাগত বক্তব্য দেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির লক্ষ্যে নৌবাহিনী সদর দপ্তরে আয়োজিত নৌবাহিনীর নির্বাচনী পর্ষদের মাধ্যমে ক্যাপ্টেন থেকে কমডোর, কমান্ডার থেকে ক্যাপ্টেন, লে. কমান্ডার থেকে কমান্ডার পদবিতে পদোন্নতির জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এছাড়া বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে আয়োজিত বিমান বাহিনীর নির্বাচনী পর্ষদের মাধ্যমে গ্রুপ ক্যাপ্টেন থেকে এয়ার কমডোর, উইং কমান্ডার থেকে গ্রুপ ক্যাপ্টেন ও স্কোয়াড্রন লিডার থেকে উইং কমান্ডার পদে যোগ্য প্রার্থীদের পদোন্নতির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

জাক/পা আ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ঢাকা টেলিগ্রাফ এর দায়ভার নেবে না।