পোস্টাল ভোট দিতে ১৩ লাখ নিবন্ধন, ৬ লাখ ব্যালট প্রেরণ

আগের সংবাদ

সমস্যাগ্রস্থ পরিবারকে আর্থিক অনুদান দিলো হায়্যা আলাল ফালাহ

পরের সংবাদ

মিয়ানমারে সংঘর্ষে ঘুমধুম-তুমব্রু সীমান্তে আতঙ্ক; পরিদর্শনে ডিসি–এসপি

ঢাকা টেলিগ্রাফ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩১, ২০২৪ , ৯:৪০ অপরাহ্ণ

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং দেশটির সেনাবাহিনীর মধ্যে চলা গোলাগুলির ঘটনায় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার মিয়ানমার সীমান্তবর্তী ঘুমধুম ও তুমব্রু এলাকায় এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে বেশ কিছু গুলি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম কুলালপাড়া এলাকায় এসে পড়ে।

আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকেও গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। সংঘাত বাড়ার পর সবচেয়ে বেশি গোলাগুলির আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের উলুবনিয়া, তুলাতুলি, কাঞ্জরপাড়া, উখিয়ার পালংখালির আনজুমান পাড়া এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি তুমব্রু ও ঘুমধুম সীমান্তে। এতে রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে আবার দেখা দিয়েছে উত্তেজনা, বেড়েছে অনুপ্রবেশের শঙ্কা।

সীমান্তের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন বুধবার দুপুরে ঘুমধুম ও তুমব্রু সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পরিদর্শন দলে এ সময় উপস্থিত ছিলেন নাইক্ষ্যংছড়ি ইউএনও

মোহাম্মদ জাকারিয়া, ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান এ কে এম জাকারিয়া এবং ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্যরা।

এ সময় সার্বিক পরিস্থিতি প্রশাসনের নজরে রয়েছে নিশ্চিত করে সীমান্তের ওপারে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কত অবস্থায় রয়েছে বলে জানান বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন।

শাহ মোজাহিদ উদ্দিন বলেন, ‘বিজিবি, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সর্বাত্মক সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আজকে এখানে এসে আপাতত কোনো প্রকার ঝুঁকি দেখছি না। যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি আমরা সুন্দরভাবে মোকাবেলা করতে পারব। সামনে এসএসসি পরীক্ষা আছে। কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করে দেখলাম। জরুরি মুহূর্তে প্রয়োজনে যদি কেন্দ্র স্থানান্তর করার বিষয় থাকে, সেক্ষেত্রে বিকল্প কেন্দ্র কী হতে পারে সেগুলো বিবেচনায় নিয়েছি। জনসাধারণের মধ্যে কোনো ধরনের আতঙ্ক যেন না থাকে সে ব্যাপারে কাজ করা হচ্ছে।’

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘বিগত তিন দিনের মধ্যে সীমান্তের ওপারে ১৭-১৮টি মর্টারশেল শব্দ শুনা গেছে বলে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। গত পরশু ঘটনায় জিরো লাইনে আব্দুর রহিম নামে এক ব্যক্তির বাড়ির পাশে একটি খোসা এসে পড়েছে। গতকাল সন্ধ্যায়ও সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির শব্দ শুনা গেছে। আজকে এখনও পর্যন্ত কোনো অস্থিতিশীল পরিবেশ দেখতে পাইনি।

এদিকে, রোহিঙ্গা শরণার্থী মূল ট্রানজিট ক্যাম্প বান্দরবানের ঘুমধুম ইউনিয়নে পড়েছে। সেগুলো অনেকাংশে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

এ বিষয়ে মোজাহিদ উদ্দিন জানান, ঘুমধুম ইউনিয়নে সীমান্ত এলাকায় তৈরি করা যে মূল ট্রানজিট ক্যাম্প, তার মধ্যে একটি ৩ দশমিক ৩০ শতক এবং আরেকটি ০ দশমিক ২০ একর জায়গা। এগুলো অস্থায়ীভাবে ব্যবহার করার জন্য শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন কার্যালয়কে হস্তান্তর করা হয়েছে। শরণার্থী প্রত্যাবাসনের জন্য যতটুকু প্রস্তুতি দরকার সে বিষয়গুলো আছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যা নির্দেশনা দেবে সেভাবে প্রত্যাবাসনের কাজ শুরু করবে।

সীমান্ত পরিদর্শনে আসা জেলা পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন জানান, কয়েক দিন ধরে সীমান্ত পরিস্থিতি উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য সবার সঙ্গে মতবিনিময় হয়েছে। বিজিবিসহ সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। পুলিশি যে ব্যবস্থা রয়েছে সেগুলো আরও ঢেলে সাজানো হয়েছে। আরও জোরদার করা হয়েছে।

ঘুমধুম ইউনিয়নে ১ নম্বর ওয়ার্ডের তুমব্রু পাড়ার বাসিন্দা কান্ত কুমার সেন জানান, গতকাল সন্ধ্যায় সীমান্তের ওপারে আধঘণ্টা ধরে যে গোলাবর্ষণ হয়েছে তার আগে এরকম কোনো দিন ঘটেনি। এগুলো অন্য দিনের মতো শব্দ নয়। তাদের বিজিপি ক্যাম্প (মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী) আমাদের বাড়ির পাশে। আবার হঠাৎ করে কখন কী হয়— এই ভয়ে মাকে বান্দরবানের আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়েছি।

একই এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ আলম বলেন, ‘সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি ঘটনা কখনও লাগাতার ঘটে। আবার কখনও হঠাৎ হঠাৎ করে হয়। সীমান্তবাসী নিজের এলাকা ছেড়ে আর কোথায় যাবে। ভয় পেয়ে হলেও নিজের ভিটেমাটিতে থাকতে হচ্ছে।’

মিয়ানমারে জান্তা ও বিদ্রোহীদের চলমান সংঘাতের মধ্যে গত শনিবার ১৩টি মর্টার শেল ও ১টি বুলেট বাংলাদেশের কক্সবাজার সীমান্তে এসে পড়ে। এতে সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মিয়ানমারে দেশটির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত চলছে। এই সংঘাতের মর্টার শেল যাতে আর আমাদের সীমান্তে এসে না পড়ে এ বিষয়ে নজর রাখছি। আমাদের সীমান্তরক্ষীরা সতর্ক আছেন। মিয়ানমার সরকারের সাথেও এ বিষয়ে আমরা যোগাযোগের মধ্যে রয়েছি।’

২০২২ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরেও মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের প্রভাব পড়েছিল বাংলাদেশ সীমান্তে। তখনও কিছু গোলা এসে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ঢাকা টেলিগ্রাফ এর দায়ভার নেবে না।