পোস্টাল ভোট দিতে ১৩ লাখ নিবন্ধন, ৬ লাখ ব্যালট প্রেরণ

আগের সংবাদ

সমস্যাগ্রস্থ পরিবারকে আর্থিক অনুদান দিলো হায়্যা আলাল ফালাহ

পরের সংবাদ

ঢাকা বার নির্বাচনে ব্যালট ছিনতাই; আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতি; ককটেল বিস্ফোরণ

ঢাকা টেলিগ্রাফ

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২৪ , ৭:৫৫ অপরাহ্ণ

ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ব্যালট পেপার ছিনতাই, আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতি-মারামারি, ককটেল বিস্ফোরণের মধ্যে দিয়ে দুই দিনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে।

বিশৃঙ্খলার কারণে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভোট গ্রহণ বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ফের ভোট গ্রহণ শুরু হয়। বিশৃঙ্খলার কারণে বিরতির সময় বাদে দুই ঘণ্টা নির্বাচন বন্ধ ছিল। এ কারণে নির্বাচন কমিশন ভোটের সময় এক ঘণ্টা বাড়িয়ে দেয়।

প্রত্যক্ষদশী আইনজীবীদের দেয়া তথ্য অনুযাযী, গতকালের ন্যায় আজ বৃহস্পতিবারও যথারীতি সকাল ৯টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে একদল আইনজীবী জাল ভোট, জাল ভোট বলে হইচই শুরু করে। এরপর ভোটকেন্দ্রে নির্বাচন পরিচালনার কাজে নিয়োজিত আইনজীবীদের কাছ থেকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয় তারা।

বিএনপির সমর্থক আইনজীবী নেতাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সমর্থক কিছু আইনজীবী ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে নির্বাচন পরিচালনায় নিয়োজিত আইনজীবীদের কাছ থেকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা।

এদিকে, ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন ঘিরে ঢাকা জজ কোর্ট চত্বরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ভোটগ্রহণ স্থগিত থাকার পর আবার শুরু হলে বিকেল ৩টার দিকে ভোটগ্রহণ চলাকালে কোর্ট চত্বরে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এসময় আদালত অঙ্গনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এদিন দুপুর ১২টার দিকে ভোটগ্রহণ স্থগিত করার প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর আবারো ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকেল ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার পর ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ভোটার উপস্থিতি সাপেক্ষে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এ বিষয়ে নির্বাচন উপকমিটির প্রধান আইনজীবী মোখলেসুর রহমান বাদল বলেন, কিছু ভোটার ভোট দিতে এলে নামের সাথে অমিল দেখা যায়। পরে আমরা বিষয়টি সুরাহা করতে নির্বাচন বন্ধ রাখি।

তিনি বলেন, বিরতির এক ঘণ্টা সময় বাদে দেড় ঘণ্টার মতো সময় নির্বাচন বন্ধ ছিল। তবে ভোট গ্রহণের জন্য এক ঘণ্টা সময় বাড়িয়ে দেয়া হয়।

এ বিষয়ে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার ১২টা পর্যন্ত ভালোই ছিল। কিন্তু ১২টার পরে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে ব্যালট পেপার ছিনতাই করে ও আমাদের ভোটারদের মারধর করে। শুধু তাই নয়, আমাদের নির্বাচন কমিশনার ও সদস্যদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয় তারা।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকা বারের মতো একটি পেশাজীবী সংগঠনের ভোটও সুষ্ঠু হয় না। নির্বাচনের আগে তারা আমাদেরকে সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস দিয়েছিল। আসলে সুষ্ঠু ভোটে তাদের আস্থা নেই।’

এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে ভোট দেন সাবেক রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। তিনি বেলা ১১টার দিকে বলেন, এ পর্যন্ত এ নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু আছে। ভোট গণনা পর্যন্ত সুষ্ঠু পরিবেশ থাকবে বলে মনে করেন তিনি।

এরআগে বুধবার সকাল ৯টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে দুপুরে এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে তা চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে।

প্রথম দিন ভোট দিয়েছেন ৪ হাজার ২৩০ জন।

এবার নির্বাচনে ২১ হাজার ১৩৭ জন আইনজীবী ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। নির্বাচনে সিনিয়র আইনজীবী মোখলেছুর রহমান বাদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ১০ জন কমিশনার এবং ১০০ জন সদস্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কাজ করছেন।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত সাদা প্যানেল এবং বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্যের নীল প্যানেল নির্বাচনে অংশ নেয়।

আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সাদা প্যানেল থেকে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আবদুর রহমান হাওলাদার। একই প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন মো: আনোয়ার শাহাদাত।

অন্যদিকে বিএনপি-সমর্থিত নীল প্যানেল থেকে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন খোরশেদ মিয়া আলম। সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ঢাকা টেলিগ্রাফ এর দায়ভার নেবে না।