অন্যান্য
নতুন সংবিধান ছাড়া নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। রোববার রাজধানীর মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক আলোচনা সভায় তারা এসব কথা বলেন। এ সময় আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, নতুন সংবিধান প্রণয়ন সময়সাপেক্ষ তাই জুলাই সনদেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। এরপর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র মেরামতে সংবিধান, বিচার বিভাগ, নির্বাচন ব্যবস্থাসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্র ও সংবিধান সংস্কারে নাগরিক জোট এই আলোচনা আয়োজন করে। এতে অংশ নেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্টজনেরা।
অনুষ্ঠানে আবারও নতুন সংবিধান প্রণয়নের দাবি জানান এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি জানান, বিগত সময়ের সংবিধান মানবাধিকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা যদি নতুন সংবিধান তৈরি করতে না পারি, তাহলে এটাকে আর নতুন বাংলাদেশ বলার প্রয়োজন নাই। তাহলে আমরা পুরানো বন্দোবস্তের, পুরানো সংবিধানেই আস্থা রাখছি। আমরা বলছি যে সংবিধান রোগাক্রান্ত হয়ে গেছে, কিন্তু সেই রোগাক্রান্ত রোগীকেই ইনজেকশন দিয়ে দিয়ে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। কিন্তু আমাদের সামনে সুযোগ আছে এটাকে নতুন করে তৈরি করার।’
এ সময় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রীয়াজ মন্তব্য করেন, বিদ্যমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীকে অসীম ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এ কারণেই তৈরি হয় ফ্যাসিবাদ।
আলী রীয়াজ বলেন, ‘রাষ্ট্রের স্বার্থ, জাতীয় স্বার্থ ট্রান্সলেট করবে, এমন একটা ফোরাম দরকার।’
সভায় আইন উপদেষ্টা বলেন, নতুন সংবিধান প্রণয়ন হতে অনেক সময় লাগবে। সব প্রশ্নের উত্তরও সংবিধানে থাকে না। সুশাসনের জন্য ছোট ছোট আইনেরও প্রয়োজন।
আসিফ নজরুল বলেন, ‘নতুন সংবিধান প্রণয়নে বহুদিন লাগতে পারে। এখন এ জন্য কি আমি বাহাত্তরের সংবিধান কন্টিনিউ করব? নতুন সংবিধান প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান যে সংসদ থাকবে, যে সংসদটা সংবিধান প্রসূত সংসদ হিসেবে কাজ করবে সে বাহাত্তরের সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনীগুলো করে ফেলবে।’
সংসদে উচ্চ কক্ষ, সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীসহ সংবিধান সংস্কারে ৭ প্রস্তাব এবং নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে নাগরিক কোয়ালিশন।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ঢাকা টেলিগ্রাফ এর দায়ভার নেবে না।