সাবেক সেনা কর্মকর্তা নাছের ৬ দিনের রিমান্ডে

আগের সংবাদ

ইরানে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা নিয়ে সতর্কবার্তা

পরের সংবাদ

ফ্লোর প্রাইস কী?

ঢাকা টেলিগ্রাফ

প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৫ , ৮:৪০ অপরাহ্ণ

ফ্লোর প্রাইস বা সর্বনিম্ন দর সীমা হলো প্রচলিত বাজারের কোনো পণ্যের সর্বনিম্ন বাজারমূল্য, যার নিচে ওই পণ্য কেনাবেচা করা যায় না।

সাধারণত কৃষিপণ্যের অস্বাভাবিক দরপতনে কৃষককে লোকসান থেকে বাঁচাতে বিভিন্ন দেশের সরকার বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা এমন দর বেঁধে দেয়। বাংলাদেশের আগে শেয়ারদরে ফ্লোর প্রাইস আরোপের নজির বিশ্বে মাত্র একটিই আছে। সেটি পাকিস্তানে।

২০০৮ সালের বিশ্ব মন্দার মধ্যে ব্যাপক দরপতনের সময় করাচি স্টক এক্সচেঞ্জ (বর্তমানে পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জ) এটি আরোপ করেছিল। তবে শেয়ারদরে ফ্লোর প্রাইস আরোপের মাত্র দুই মাসের মধ্যে সে দেশের শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অব পাকিস্তান তৎকালীন করাচি স্টক এক্সচেঞ্জকে ওই ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়। ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়ার পর ব্যাপক দরপতন হলেও নতুন করে আর ফ্লোর প্রাইস দেয়নি দেশটি।

বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে গত চার বছরে তিন দফায় সব শেয়ারে ফ্লোর প্রাইস আরোপ করেছে খোদ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। লাগাতার পতন ঠেকাতে না পেরে প্রথমবার ২০২০ সালের ১৯ মার্চ ফ্লোর প্রাইস আরোপ করা হয়, যা পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয় ২০২১ সালের ১৭ জুলাই।

এর পর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাব পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১ মার্চ সব শেয়ারের দরে নিচের সার্কিট ব্রেকার ২ শতাংশ বেঁধে দেয় সংস্থাটি। যদিও যুদ্ধ শুরুর আগে থেকে দরপতন চলছিল। এ ব্যবস্থা কাজ না করায় গত বছরের ২৮ জুলাই দ্বিতীয় দফায় সব শেয়ারের দরে ফ্লোর প্রাইস আরোপ করে সংস্থাটি। এ পর্যায়ে শেয়ার লেনদেন ব্যাপকভাবে কমলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে সংস্থাটি।

সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ধাপে ধাপে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার ইচ্ছা থেকে গত বছরের ২১ ডিসেম্বর ১৬৭ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড থেকে ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে এ ক্ষেত্রে এসব শেয়ারের দরে নিচের সার্কিট ব্রেকার ১ শতাংশে বেঁধে দেওয়া হয়।

কিন্তু প্রতিদিন একটি-দুটি শেয়ার কেনাবেচার বিপরীতে ১ শতাংশ হারে দর কমতে দেখে গত ১ মার্চ ফের ১৬৭ শেয়ারে ফ্লোর প্রাইস ফিরিয়ে আনে বিএসইসি। অর্থাৎ, তৃতীয় দফায় সব শেয়ারে ফের ফ্লোর প্রাইস আরোপ করে সংস্থাটি, যা এখনও বহাল আছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ঢাকা টেলিগ্রাফ এর দায়ভার নেবে না।