পোস্টাল ভোট দিতে ১৩ লাখ নিবন্ধন, ৬ লাখ ব্যালট প্রেরণ

আগের সংবাদ

সমস্যাগ্রস্থ পরিবারকে আর্থিক অনুদান দিলো হায়্যা আলাল ফালাহ

পরের সংবাদ

আসনের লোভে পিআর পদ্ধতি, ভয়ঙ্কর পরিণতি আনবে : সালাহউদ্দিন

ঢাকা টেলিগ্রাফ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৫ , ৬:২০ অপরাহ্ণ

জাতীয় স্বার্থের বাইরে গিয়ে কিছু আসন পাওয়ার লোভে কেউ পিআর পদ্ধতি চাইলে জাতীয় জীবনে ভয়ঙ্কর পরিণতি নিয়ে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

সালাহউদ্দিন বলেন, বিএনপি পিআরের পক্ষে নয়, অন্যদিকে কয়েকটি দল পিআরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সার্বিক বিবেচনায় নির্বাচন পিছানোর সম্ভাবনা দেখছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচনকে বিলম্বিত করার জন্য অথবা বাধাগ্রস্ত করার জন্য যে কোনো রাজনৈতিক কৌশলকে এদেশের জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে। এটা আমরা আগেও বলেছি।

কারণ ভোটাধিকার প্রয়োগের দাবি আদায়ের জন্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য, সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, এদেশের মানুষ গত ১৬-১৭ বছর অবিরাম সংগ্রাম করেছে, লড়াই করেছে, রক্ত দিয়েছে, শহীদ হয়েছে।

রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারের দাবি পরে গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। এই অধিকার তখনই প্রতিষ্ঠা হবে যখন আমরা অবাধ-সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ পাবো, সরকার পাবো। সুতরাং যারাই এই পথে বাধা সৃষ্টি করতে চাইবে তাদের জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে।

এসব রাজনৈতিক কর্মসূচির জবাব দেওয়ার জন্য জনগণই বিচারক। বিএনপি উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি মেনে নিলে অন্যরা নিম্নকক্ষে প্রচলিত পদ্ধতি মেনে নিতে পারে। এ বিষয়ে বিএনপির অবস্থান কী জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন বলেন, আমরা উচ্চ ও নিম্ন সব জায়গায় পিআরের বিপক্ষে।

সালাহউদ্দিন বলেন, দ্রুত গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন না হলে দেশে একটি সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হবে, তখন পতিত ফ্যাসিবাদ সুযোগ নেবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তাদের হাত ধরে দেশে আঞ্চলিক শক্তি জড়িয়ে যেতে পারে। এটা কেন্দ্র করে বৈশ্বিক শক্তিও সুযোগ নিতে পারে। এতে জাতীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

১৪ দলীয় জোট নিষিদ্ধের দাবি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা আমরা সমর্থন করি না। বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার বিষয়টি নির্ধারিত হোক। এটা কোর্ট নির্ধারণ করবে। এর জন্য আইন সংশোধন করা হয়েছে। এই আইনটা আগে ছিল না।

এখন গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য যেকোনো দলের বিরুদ্ধে আদালত ব্যবস্থা নিতে পারবেন বলে জানান তিনি। আদালত সিদ্ধান্ত নিলে নির্বাচন কমিশন মানতে বাধ্য। এই প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো প্রক্রিয়াকে বিএনপি সমর্থন করে না।

২০২৪ সালের নির্বাচনে ২৮ দল অংশগ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিষিদ্ধ চাইলে এই ২৮টি দলকে দোসর হিসাবে নিষিদ্ধ চাইতে হবে। তাহলে নির্বাচনটা কাদের নিয়ে হবে—প্রশ্ন রাখেন সালাহউদ্দিন।

তিনি বলেন, নিজেদের অতিরিক্ত সুবিধার জন্য আরও অনেক দলের নিষিদ্ধ চাইতে পারে। তবে এখানে আওয়ামী লীগের বিষয়টি আলাদা, তারা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী, দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংসের জন্য দায়ী। রাজনৈতিক দল হিসাবে আমরাই প্রথম আওয়ামী লীগের বিচারের দাবি করেছিলাম।

গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য রাজনৈতিক দল হিসাবে আওয়ামী লীগের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি অন্য কোনো দলের বিরুদ্ধে যদি একই অভিযোগ থাকে, সেটা আদালতে উত্থাপন করা যেতে পারে। আইন আগে ছিল না, এখন সংশোধিত হয়েছে- বলেন সালাহউদ্দিন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ঢাকা টেলিগ্রাফ এর দায়ভার নেবে না।