সাবেক সেনা কর্মকর্তা নাছের ৬ দিনের রিমান্ডে

আগের সংবাদ

ইরানে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা নিয়ে সতর্কবার্তা

পরের সংবাদ

দোহারে ভূল পরিকল্পনায় সেতু নির্মাণ, নৌযানচলাচলে প্রতিবন্ধকতা

রাকিব হোসেন

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২১ , ১২:২৪ অপরাহ্ণ

ঢাকার দোহারে বটিয়া এলাকায় পদ্মা নদীর শাখা খালের উপর অপরিকল্পিত ভাবে নিচু সেতু নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এলজিইডি (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর) এর অর্থায়নে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ২কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুর নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। পদ্মানদী হয়ে এ খালটি জয়পাড়া হয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলার সাদাপুর হয়ে দীর্ঘ ইছামতি নদীতে মিশেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ গুরুত্বপূর্ণ এ খালের উপর অপরিকল্পিত ভাবে সেতুটি নির্মাণ করা হলে বর্ষা মৌসমে নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধতা সৃষ্টি হয়ে এ অঞ্চলের বড় বড় ব্যবসায়ীদের দূর্ভোগ বাড়বে এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
দোহার উপজেলা এলজিইডি (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর) অফিস সূত্রে জানা যায়, দোহারে বটিয়া এলাকায় পদ্মা নদীর শাখা খালের উপর ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে এলজিইডির অর্থায়নে ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৮মিটার দৈর্ঘ্য সেতুর নির্মাণ কাজ ট্রেন্ডার হয়। তখন কাজটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান জ্যোতি ট্রেডার্সের পায়। এবং ১৮মাস মেয়াদে সেতু নির্মাণের কজটি ২০১৯ সালের শেষের দিকে শুরু করেন।
সরজমিনে দেখা যায়, বটিয়া ও নুরপুর খালের উপর নির্মাণ করা সেতুটির দুই পাশের গার্ডার বসানোর কাজ শেষ পর্যায়। এর মধ্যে বর্ষার মৌসমে খালের পানিতে সেতুর দুই অংশের গার্ডারের সাথে ছুই ছুই করছে পানি। মাঝের অংশের গার্ডার বসানোর আগেই দেখা দিয়েছে নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা। অপরিকল্পিতভাবে সেতুর পুরো অংশের কাজ শেষ হলে বর্ষার ভরা মৌসুমে সেতুর নীচ দিয়ে নৌযান চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের নৌচলাচলের গুরুত্বপূর্ণ এ খাল। বর্ষাকালে যদি এ পথটি বন্ধ হয়ে যায়, তা এখানকার ব্যবসায়ীরা কেউ চাই না তবে তাদের দাবী সেতুর উচ্চতা সঠিক হলে ভবিষ্যতে নৌযান চলাচলে কোন বাঁধাগ্রস্থ হবে না।
স্থানীয়রা জানান, দোহারে জয়পাড়া হাট ঢাকা জেলা দক্ষিণের ঐহিত্যবাহি হাট। এ হাটে ফরিদপুর, শরিয়তপুর, মাদারিপুর, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ সহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ এই খালের উপর দিয়ে নৌপথে গবাদি পশু, বিভিন্ন চাল, ডাল, সরিষা, শাকসবজি লাকড়ী কুড়াভূষিসহ বিভিন্ন পণ্য নৌপথে পরিবহণ করে থাকেন। ভূল নক্সায় বা নিচু সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলে পরে এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা মারাতœকভাবে অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পরবে। এ সেতুর উপর দিয়ে বড় কোন যানবাহন যাতায়াত করবে না তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী সঠিক উচ্চতায় সেতুটি নির্মিত হলে পরে ভবিষ্যতে কোন বাধাঁ থাকবে না।
জয়পাড়া বাজার বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার মাঝি বলেন, আমি সেতুর পক্ষে তবে সেতুটি পরিকল্পিতভাবে না হলে নৌযান চলাচলে বিঘœ ঘটবে এবং আমাদের এ অঞ্চলের নামকরা জয়পাড়া হাট ও বাজারের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে সবচেয়ে বেশি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আওলাদ হোসেন বলেন, সেতুটি নির্মাণের বিপক্ষে আমরা কেউ না। কিন্তু ভূল নক্সায় সেতু নির্মাণ হলে বর্ষাকালে নৌচলাচল প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়ে এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের মালামাল পরিবহন খরচ ও দূর্ভোগ বাড়বে।
এবিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান জ্যোতি ট্রেডার্সের স্বত্ত্বাধীকারী শেখ সালাউদ্দিন বলেন, কাগজপত্রে যে ভাবে আছে আমি সেই ভাবেই কাজ করতেছি। সেতুর শতভাগের কাজের মধ্যে প্রায় ৭৫ ভাগ কাজ শেষ পর্যায়ে। ১৮মাস মেয়াদের কাজ এখনো শেষ হচ্ছে না কেন? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে শ্রমিক সংকট ছিলো বিধায় কাজ শেষ করা সম্ভব নয়নি। এখন বর্ষার মৌসুম খানে প্রচুর পানি। পানি কমলে সেতুর বাকি ১৬মিটারের কাজ করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঢাকা বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আইনুল হক বলেন, বটিয়া খালের সেতুর বিষয়ে দোহার উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে কথা হয়েছে সরেজমিনে ভিজিট করে সেতুর নকশা পাঠাবে খুব শিগগিরই।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. হানিফ মোর্শেদী বলেন, পরিকল্পিতভাবেই সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ঢাকা টেলিগ্রাফ এর দায়ভার নেবে না।