সাবেক সেনা কর্মকর্তা নাছের ৬ দিনের রিমান্ডে

আগের সংবাদ

ইরানে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা নিয়ে সতর্কবার্তা

পরের সংবাদ

ক্বারী আব্দুল বাসেত এর জীবনী

ঢাকা টেলিগ্রাফ

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩০, ২০২৩ , ৮:০৭ অপরাহ্ণ

আবদুল বাসেত মুহাম্মাদ আব্দুস সামাদ’ তিনি একদিন এক মাহফিলে কোরআন তিলাওয়াতের জন্য দাওয়াত পেয়েছিলেন। সেখানে তাঁর জন্য সময় বরাবদ্দ ছিল মাত্র ১০ মিনিট। তিনি যখন তিলাওয়াত শুধু করলেন তখন মাহফিলের কিছুটা ভিন্নতা দেখা গেল। তার সুললিত কন্ঠের তিলাওয়াত শুনে সবাই মুগ্ধ হয়ে তাকে অনুরোধ করল, আরো কিছুক্ষন তিলাওয়াত করতে। তার সুললিত কন্ঠে ১০ মিনিটের স্থলে ১:৩০ ঘন্টা তিলাওয়াত করলেন। এত মনোমুগ্ধকর কন্ঠে তিলাওয়াত শুনে সময়জ্ঞান ভুলে সবাই শুধু শুনতেই থাকল।

ক্বারী আব্দুল বাসেত ছিলেন একজন বিশ্ববিখ্যাত মিশরীয় ক্বারী। তাঁকে পবিত্র কুরআনের অন্যতম সেরা ক্বারী হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি তার অসাধারণ কুরআন তেলাওয়াতের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তিনি ১৯৭০ এর দশকের প্রথম দিকে তিনটি বিশ্ব কিরা’আত প্রতিযোগিতা জিতেছিলেন।

শেখ আব্দুল বাসিত আব্দুস সামাদকে যখন সাইয়িদা জয়নাবের জন্ম উদযাপনে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, তখন মাত্র ২৩ বছর বয়সে আনুষ্ঠানিকভাবে কায়রোতে কুরআন তেলাওয়াতকারী হিসেবে তিনি তার কর্মজীবন শুরু করেন । উদযাপনের শেষ রাতে যখন অতিথিদের অভ্যর্থনা জানান হল, সেখানে যুগের শীর্ষ তেলাওয়াতকারীরা, যেমন শেখ আবদুল ফাত্তাহ আল-শাশায়ী, শেখ মুস্তাফা ইসমাঈল, শেখ আবদুল আজিম জাহির, শেখ আবু আল-আয়নাইন শাইশা, এবং অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। এই সময় তরুণ শেখ আবদুল বাসিত এই বিখ্যাত তেলাওয়াতকারীদের তেলাওয়াত শোনার, তাদের দেখার এবং তাদের সাথে বসার জন্য শ্রোতাদের মধ্যে তার জন্য একটি জায়গা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছিলেন।

মধ্যরাতের পর শেখ আব্দুল বাসিত তার এক আত্মীয়ের সাথে ছিলেন, যিনি সাইয়িদা জয়নব মসজিদের কর্মকর্তাদের চিনতেন। তিনি তাদের অনুমতি চাইলেন যাতে শেখ আবদুল বাসিতও তেলাওয়াত করতে পারেন। তিনি বলেছিলেন: “আমি আপনার কাছে উচ্চ দিকের মিশর থেকে একজন পাঠক উপস্থাপন করছি, যার কন্ঠ মিষ্টি এবং সুন্দর, এবং তিনি আপনাকে দশ মিনিটের জন্য আবৃত্তি করে শুনাবেন।” সেই মুহুর্তে, মসজিদটি সম্পূর্ণভাবে পূর্ণ ছিল এবং শ্রোতারা তাঁর আশ্চর্যজনক কণ্ঠ শুনেছিলেন যা শ্রোতাদের হৃদয়কে এমন পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল যে মসজিদের সমস্ত উপস্থিতি তাঁর কণ্ঠে “আল্লাহু আকবার” (“আল্লাহ্ আকবার” বলে চিৎকার করে উঠল। (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ”)। যতবারই শেখ আব্দুল বাসিত “সাদকাল্লাহুল আজিম” (“আল্লাহ্‌ সর্বশক্তিমান সত্য বলেছেন”) দিয়ে তেলাওয়াত শেষ করতে চেয়েছিলেন, শ্রোতারা জোর দিয়েছিলেন যে তিনি যেন পড়তে থাকেন এবং তিনি প্রায় দুই ঘন্টা চালিয়ে যান এবং ভোরে তিনি তার তেলাওয়াত শেষ করেন।

এই অভিজ্ঞতার পর, শেখ আবদুল বাসিত একটি কুরআন তেলাওয়াতকারী হিসাবে রেডিও স্টেশনে আবেদন করার কথা ভাবতে শুরু করেন, কিন্তু উচ্চ মিশরের সাথে তার সম্পর্ক থাকার কারণে তিনি অনেক দ্বিধায় পড়েছিলেন, তবুও, তিনি কুরআন তিলাওয়াতকারী হিসাবে পেশা বেছে নেন। শেখ আবদুল বাসিত ১৯৫১ সালে রেডিওতে কোরআন তেলাওয়াতকারী হিসেবে নিযুক্ত হন ।

ক্বারী আব্দুল বাসিত সারাজীবন তাঁর তেলাওয়াতের মাধ্যমে বিমোহিত করেছেন বিশ্বের মানুষকে। তিনি মনকে প্রশান্ত করেছেন, আবেগের অশ্রু এনেছেন, মহান আল্লাহর বাণী তাঁর সুললিত কন্ঠে মানুষের অন্তর দুর্গে আঘাত করেছে।

অবশেষে এই সুললিত কন্ঠের অধিকারী ক্বারী আব্দুল বাসিত ৩০ নভেম্বর ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। তিনি তার তিন পুত্রকে রেখে গেছেন। বড় পুত্র ইয়াসির, মেজো পুত্র হিশাম এবং ছোট পুত্র তারিককে রেখে গেছেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ঢাকা টেলিগ্রাফ এর দায়ভার নেবে না।