সাবেক সেনা কর্মকর্তা নাছের ৬ দিনের রিমান্ডে

আগের সংবাদ

ইরানে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা নিয়ে সতর্কবার্তা

পরের সংবাদ

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অমান্য করে বহাল তবিয়তে আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের এমডি

ঢাকা টেলিগ্রাফ

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩০, ২০২৪ , ৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অমান্য করে বহাল তবিয়তে আছেন আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের এমডি মো: শফিক বিন আব্দুল্লাহ। একটানা ১১ বছর যাবৎ এমডির দায়িত্বে আছেন তিনি; কিন্তু এ সময়ে ব্যাংকটির সার্বিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। বরং দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। মূলধন ঘাটতি বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৯৩০ কোটি টাকা। এমতাবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংক এমডির মেয়াদ না বাড়িয়ে ভারপ্রাপ্ত এমডি নিয়োগ দেয়ার জন্য চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছে; কিন্তু চিঠি দেয়ার এক সাপ্তাহ অতিবাহিত হলেও এখনো বহাল তবিয়তে এমডির পদে রয়েছেন শফিক বিন আব্দুল্লাহ।

জানা গেছে, ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে মালয়েশিয়া অধিবাসী মো: শফিক বিন আব্দুল্লাহকে আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের এমডি হিসেবে নিয়োগ দেয় ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ। তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। পরে কয়েক ধাপে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ গত বছরের সেপ্টেম্বরে ছয় মাস করে এক বছর চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর। ব্যাংকটির পর্ষদ তাকে আবারো এক বছরের চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়; কিন্তু এমডির নামে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় তার চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর চিঠি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ফেরত পাঠানো হয়, যা শেষ হয়েছে গত ৩০ সেপ্টেম্বর। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এখনো নতুন এমডি নিয়োগ দেয়নি।

এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের বরাবর একটি চিঠি পাঠায়। চেয়ারম্যান বরাবরে পাঠানো বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পুনঃনিযুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়ার আগে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অব্যবহিত নিচের পদ থেকে কোনো যোগ্য কর্মকর্তাকে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে হবে; কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠি পাঠানোর এক সপ্তাহের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এখনো বাংলাদেশ ব্যাংকের এ নির্দেশনা পরিপালন করা হয়নি।

এ বিষয়ে আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের এমডি শফিক বিন আব্দুল্লাহকে প্রশ্ন করা হলে তিনি গতকাল নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এমডিকে ভারপ্রাপ্ত এমডির কাছে কোনো দায়িত্ব হস্তান্তর করতে বলেনি। তার চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমাদের চেয়ারম্যান ইতোমধ্যে তা বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো: শফিক বিন আব্দুল্লøাহর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটিতে এমডি হিসেবে তার পুনঃনিয়োগ আটকে দিয়ে দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে বিশদ তদন্ত শুরু করা হয়েছে। সেই সাথে ব্যাংকটিতে আপাতত একজন ভারপ্রাপ্ত এমডি নিয়োগের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংকটির পরিস্থিতি এতটাই ভয়ানক যে, তাদের এমন কোনো সিকিউরিটিজ নেই, যার বিপরীতে অন্য ইসলামী ব্যাংক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অর্থ ধার করতে পারবে। আরো জানা গেছে, ব্যাংকটি ধাপে ধাপে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের অবসাইট সুপারভিশন বিভাগ থেকে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগকে আইসিবির বিরুদ্ধে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল, কারণ তারল্যসঙ্কটে ব্যাংকটি কার্যত বন্ধ আছে। আর্থিক সঙ্কট নিরসনে গত ৩১ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জামানতহীন ৫০ কোটি টাকা তারল্য সহায়তার আবেদন করেছিল আইসিবি ইসলামী ব্যাংক। তবে দুই সপ্তাহ পর সেই আবেদন খারিজ করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কারণ আগে থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের ৪২৫ কোটি টাকার দায় ছিল।

সূত্র জানায়, এমডির আমলে ব্যাংকটির আর্থিক ভিত আরো দুর্বল হয়ে পড়ে। তার গত ১১ বছরের দায়িত্বকালে এক হাজার ৯০০ কোটি টাকা পুঞ্জীভূত লোকসান হয়েছে ব্যাংকটির। সর্বশেষ ২০২৩ সালে লোকসান হয় ৫৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। লোকসানের কারণে দীর্ঘ দিন ধরে লভ্যাংশ ঘোষণা করতে ব্যর্থ হয়েছে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক। একই সাথে ব্যাংকটি বাংলাদেশ ব্যাংকের রেডজোন তালিকায় রয়েছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সাল শেষে ব্যাংকটির আমানত ছিল এক হাজার ২১২ কোটি টাকা, যার মধ্যে ফ্রোজেন ডিপোজিট ছিল ৪৪৪ কোটি টাকা। ফ্রোজেন ডিপোজিট হলো- ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের আমানত, যা মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংক আটকে রেখেছিল। ব্যাংকটির ফ্রোজেন ডিপোজিট ছিল দুই হাজার কোটি টাকা এবং এ পর্যন্ত ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের আমানতকারীদের প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ঢাকা টেলিগ্রাফ এর দায়ভার নেবে না।