সাবেক সেনা কর্মকর্তা নাছের ৬ দিনের রিমান্ডে

আগের সংবাদ

ইরানে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা নিয়ে সতর্কবার্তা

পরের সংবাদ

হেদায়েত ছাড়া যোগ্যতা মূল্যহীন

admin

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২১ , ১২:৫৯ অপরাহ্ণ

পবিত্র কোরআনের সুরা আনকাবুতের ৬৯ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা আমার পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করবে, আমি তাদের অবশ্যই আমার পথে হেদায়েতের পথে পরিচালিত করব।’ এর অর্থ হলো দুনিয়া ও আখেরাতের ওই সব পথ অবলম্বন করা, যে পথে চললে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়।

আল্লাহতায়ালা প্রত্যেক নফসকে বরাবর করে সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু দুনিয়ায় কেউ নিজেকে সৎপথে পরিচালিত করে, কেউ অসৎপথে। এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ‘শপথ প্রাণের এবং যিনি তা সুবিন্যস্ত করেছেন, অতঃপর তাকে তার অসৎকর্ম ও সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন, যে নিজেকে শুদ্ধ করে, সেই সফলকাম হয় এবং যে নিজেকে কলুষিত করে সে ব্যর্থ মনোরথ হয়।’ সুরা শামস : ৭-১০

বর্ণিত আয়াত থেকে জানা যায়, যারা সৎপথের সন্ধান করবে, আল্লাহ তাদের সৎপথের সন্ধান দেবেন। এটা আল্লাহর ওয়াদা। আয়াত থেকে আরও জানা যায়, যে ব্যক্তি নিজেকে পবিত্র করতে চেষ্টা করে সে সফল হয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনি যাকে চান বিপথগামী করেন এবং যাকে চান সঠিক ও সোজা পথে পরিচালিত করেন।’ সুরা আল আনআম : ৩৯

ইসলামি স্কলারদের মতে, দুনিয়া সৃষ্টির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ইবলিস শয়তানের মতো জ্ঞানী ও যোগ্যতাসম্পন্ন অন্য কেউ ছিল না। কিন্তু সে জ্ঞানের আধিক্যের কারণে অহংকারে মত্ত ছিল। এ কারণে সে হেদায়েত লাভ করেনি। এর দ্বারা বোঝা যায়, হেদায়েত পাওয়া মহান রবের অনুগ্রহ। তিনি সবাইকে হেদায়েত দেন না। ইমাম রাগেব ইস্পাহানি (রহ.) ‘মুফরদাতুল কোরআন’ গ্রন্থে হেদায়েত শব্দের সুন্দর ব্যাখ্যায় বলেছেন ‘কাউকে গন্তব্যস্থানের দিকে অনুগ্রহের সঙ্গে পথপ্রদর্শন করা।’ তাই ‘হেদায়েত করা’ প্রকৃত অর্থে একমাত্র আল্লাহর কাজ। আল্লাহ চাইলে পৃথিবীর সবাইকে হেদায়েতের ওপর ঐক্যবদ্ধ করে দিতে পারতেন। কারণ সবকিছু আল্লাহর সিদ্ধান্ত ক্রমে হয়ে থাকে। কিন্তু আল্লাহর সিদ্ধান্ত হলো, মানুষ চেষ্টা সাধনা করবে, এরপর তিনি তাদের সুপথ দেখাবেন, আল্লাহ মানুষকে ভালো-মন্দ নির্ণয় করাসহ সবকিছুর সক্ষমতা দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘মানুষ যা চেষ্টা করে, তাই সে পায়।’ সুরা আন নাজম : ৩৯

আয়াতের তাফসিরে বলা হয়েছে, প্রত্যেক মানুষ যে পরিণতি ভোগ করবে তা তার কৃতকর্মের ফল।এ জন্য আল্লাহর কাছে হেদায়েতের জন্য দোয়া এবং সর্বাত্মক চেষ্টা সাধনা করতে হয়। কোরআনে কারিমে বলা হয়েছে, ‘ (হে নবী!) আপনি যাকে ভালোবাসেন, ইচ্ছা করলেই তাকে সৎপথে আনতে পারবেন না। তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সৎপথে আনেন এবং তিনিই ভালো জানেন সৎপথ অনুসরণকারীদের।’ সুরা কাসাস : ৫৬

হেদায়েতের অর্থ হলো ইসলামের পথ, আর ইসলামের পথে অবিচল থাকার অর্থ হলো- কোরআন হাদিসের আলোকে জীবন পরিচালনা করা। এর বাইরে নিজের জ্ঞান-যোগ্যতার আলোকে ভিন্নপথ অবলম্বনের মাধ্যমে হয়তো মানুষ জীবন কাটাতে পারবে-কিন্তু সে আল্লাহর রহমত ও নুর থেকে বঞ্চিত থাকবে। যেমন ইবলিস শয়তান নিজের জ্ঞানের অহংকারের কারণে আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে ভিন্ন পথ অবলম্বন করে আল্লাহর ক্রোধে পতিত হয়েছে, তার কোনো রক্ষাকর্তা, অভিভাবক ও সাহায্যকারী নেই। তদ্রƒপ হেদায়েতহীন মানুষের অবস্থা। এ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘বলে দিন, যে পথ আল্লাহ প্রদর্শন করেন, তাই হলো সরল পথ। যদি আপনি তাদের আকাক্সক্ষাগুলো অনুসরণ করেন, ওই জ্ঞান লাভের পর, যা আপনার কাছে পৌঁছেছে, তবে কেউ আল্লাহর কবল থেকে আপনার উদ্ধারকারী ও সাহায্যকারী নেই।’ সুরা আল বাকারা : ১২০

জাক/পা আ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ঢাকা টেলিগ্রাফ এর দায়ভার নেবে না।