পোস্টাল ভোট দিতে ১৩ লাখ নিবন্ধন, ৬ লাখ ব্যালট প্রেরণ

আগের সংবাদ

সমস্যাগ্রস্থ পরিবারকে আর্থিক অনুদান দিলো হায়্যা আলাল ফালাহ

পরের সংবাদ

খুলনায় টানা বৃষ্টিতে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা

admin

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৪, ২০২১ , ১২:৩৮ অপরাহ্ণ

খুলনা বিভােেগর অধিকাংশ ধান আবাদী জমিতে আমন ধান চাষের মাধ্যমে ধান চাষীদের প্রতি বছরই একটা উজ্জল সম্ভবনার পরিকল্পনা নিয়ে কৃষকরা আমন ধান চাষ করে থাকে। সারা বছরের দৈনন্দিন খরচের বেশির ভাগ অর্থই উপার্জন হয় আমন ধান চাষের মাধ্যমে সারা মাসের খাবার তাদের।

খুলনা ডুমুরিয়া উপজেলার রুদাঘরা গ্রামের কৃষক অসীম কুমার ঢালী বলেন, তবে দিন পনের আগে কৃষকরা আমন ধানের ফলন দেখে গত বছর বুলবুলের আঘাত হানার কারণে অর্ধপাকা আমন ধান নষ্ট হওয়ার কারণে সারা বছরের কৃষকদের লালিত স্বপ্ন হয়েছিল ধুলিস্যাৎ। কিন্তু চলতি বছর আমন মৌসুমেও গত বছরের তুলনায় ধানের গোছা দেখে মনে হয়েছিলো গেলো মৌসুমের বুলবুলের তাÐবের আঘাতে ক্ষতি এবছর পুষিয়ে যাবে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে এবারও গত বছরের ন্যায় এবছর কিছু আমন ধান কেটে মাঠে রাখা অবস্থায় অনাকাঙ্খিত বৈরি আবহাওয়া ঘূর্ণি ঝড় জাওয়াদ এর প্রভাবে উপক‚লীয় জেলা খুলনায় এবছরও ক্ষতির সম্মুখীন আমন ধান চাষীরা।

স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা গণমাধ্যমকর্মীদের আরো জানান তাদের ক্ষেতে এখনও পাঁকা ধান কাটতে বাকি রয়েছে। এঅবস্থায় ঘূণি ঝরের প্রভাবে অকাল বৃষ্টি হওয়ার কারণে ধান গাছগুলো হেলে পড়ে জমির অর্ধেক ধান নষ্ট হওয়ার আশংকা রয়েছে। এব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, উপজেলার অধিকাংশ এলাকার ধান আংশিক কাঁটা হলেও ঝড় বৃষ্টির কারণে কৃষকরা সামান্য কিছু ধান মাঠ থেকে আনতে পারলেও বেশির ভাগ ধান জমিতে থেকে গোছের ধান ঝড়ে গিয়ে অনেক ধানের ক্ষতি হয়েছে।

তারপরও যেসমস্ত এলাকার নিচু জমিতে বৃষ্টির পানি জমে আছে সেসব নিচু এলাকার ধান কেঁটে আইলের উপর রাখলে কিছুটা হলেও ক্ষতির সংখ্যা কম হবে বলে তিনি কৃষকদের পরামর্শ দেন।

পাশাপাশি খুলনার আবহওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ মোঃ আমিরুল আজাদ বলেন জাওয়াদের প্রভাবে সৃষ্ট লঘু চাপের কারণে ঘন মেঘ সৃষ্টি হয়। এর কারণে হাল্কা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত থেমে থেমে হচ্ছে ফলে ধান চাষীদের বছরের উল্লেখযোগ্য ফসল আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভবনা রয়েছে।এদিকে আবার খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী এবছর খুলনা জেলা ৯৩ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপন করা হয়েছে। এর মধ্যে সবে মাত্র ২৫ শতাংশ ধান কাঁটতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৩০ ভাগ আমন ধান পাকা অবস্থায় জমিতে থাকায় অনাকাঙ্খিত বৈরী বৃষ্টির কারণে কৃষকরা অধিক জনবল লাগিয়েও পাকা ফসল কেঁটে ঘরে আনতে পারেনি।

আর বাদবাকী যে ধানগুলো ধান রোপনের মৌসুমের শেষ ভাগে লাগানো হয়েছিলো সেগুলোয় সবে মাত্র শীষ আসতে শুরু করেছে। তাওঝড় বৃষ্টির কারণে মাটিতে হেলে পরে নষ্ট হওয়ার উপক্রম। খুলনায় আমন ধানের সবচেয়ে বেশী চাষ হয় জেলার দাকোপ, বটিয়াঘাটা, কয়রা, পাইকগাছ ও ডুমুরিয়া এলাকায় হয়ে থাকে বলে কৃষি সম্প্রসারণে তথ্য সূত্রে পাওয়া যায়।

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক মোঃ হাফিজুর রহমান কৃষকদের উদ্দেশ্যে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন অসময়ের এই অনাকাঙ্খিত বৃষ্টির কারণে গত বছর স্থানীয় আমন ধান চাষীরা চরম ক্ষতির মধ্যে পড়েছিলো এবারও জাওয়াদ এর প্রভাবে অকাল বৃষ্টির কারণে সবাই চিন্তিত সঠিক সময় ধান কেঁটে জমি থেকে তুলে আনতে না পারার কারণে পর পর দুই বছর ধরে আমন ধান চাষীরা ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে তাছাড়া অবশিষ্ট যতটুকু পরিমান জমিতে নতুন ধানের শীষ এসেছে সেগুলো বৃষ্টির কারণে শীষ ভেঙ্গে নষ্ট হবে বলে মন্তব্য করেন। এবং অনেক নিচু জমিতে জলবদ্ধতা হয়ে থাকলে আগামী ফসলের জন্য অশনি সংকেতের কথা বলেন খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ পরিচালক।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ঢাকা টেলিগ্রাফ এর দায়ভার নেবে না।